×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৯-১২
  • ৭১ বার পঠিত
সাঈদ আহাম্মেদ খান : কোনভাবেই ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে সাধারণ ক্রেতাদের অবস্থা নাজুক। তারা মূলত খোলা বাজার থেকেই হঠাৎ প্রয়োজনে ডলার কিনতে যান। ফলে সিন্ডিকেট সদস্যরা তাদেরকেই টার্গেট করে রাখে। গত কয়েকদিন দাম কম থাকার পর আবারও খোলা বাজারে বাড়লো ডলারের দাম। কার্ব মার্কেট গতকাল রোববার  নগদ এক ডলার কিনতে গ্রাহক?দের গুণতে হয় ১১৪ টাকা থেকে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। যেখানে গত সপ্তাহেও এক ডলার ছিল ১০৮ থে?কে ১০৯ টাকা। ডলার বৈধ ব্যাংকিং পথে না আসায় হুন্ডি ব্যবসায়িদের প্রভাব বাড়লো বলে মনে করা হচ্ছে। প্রবাসিরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার পাঠালে তাদের প্রভাব কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হউজ ও ডলার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। খুচরা ডলার বিক্রেতারা বলেন, ‘গত বুধ-বৃহস্পতিবার থেকে বাজার ফের ঊর্ধ্বমুখী। বৃহস্পতিবার ১১৩ টাকা বিক্রি করেছি। আজ বিক্রি করছি ১১৪ টাকায়। আর কেউ আমাদের কাছে ডলার বিক্রি করতে এলে তাকে দিচ্ছি প্রতি ডলার ১১৩ টাকা।’

কবির আরও জানান, গত মাসের শেষ দিকে ডলার ১০৮ টাকায় নেমে আছে। ওই দামেই গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন আবার বাজার চড়া।
মতিঝিলের  আরেক ব্যবসায়ির কাছে ডলারের দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, আজকে ১১৪ টাকা ২০ পয়সায় বি?ক্রি করছি। আর ১১৩ টাকা ২০ থেকে ৫০ পায়সায় কিনছি। একই রেটে ডলার কেনাবেচা করছে রাজধানীর গুলশান এলাকার মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোও।
এদিকে, ডলার বাজারের সংকট কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ঠিক করা হয়, ব্যাংকগুলো নিজেই ডলারের দাম নির্ধারণ করবে। গত বৃহস্পতিবার অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা। 
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ব্যাংকগুলো নিজেই ডলারের দাম নির্ধারণ করবে। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী ও রপ্তানি আয়, আমদানি বিল নিষ্পত্তিসহ প্রতিটি লেনদেনে ডলারের দাম হবে পৃথক। তবে, ব্যাংকগুলো একই দামে ডলার কেনাবেচা করবে। আর কেনাবেচায় মুনাফা হবে সর্বোচ্চ এক টাকা। তারপরও গতকাল ডলারের দাম ছিল বেশ চড়া। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকার আশঙ্কা ব্যবসায়িদের।

এদিকে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নোট বিক্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাড়তি ডলার বিক্রি করে দিতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়। এরপর কারও কাছে অতিরিক্ত ডলার পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা। গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তি বিদেশ থেকে সঙ্গে আনা অনধিক ১০ হাজার মার্কিন ডলার, বা সমমূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা নিজের কাছে বা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাবে জমা রাখতে পারেন। পরবর্তী বিদেশ যাত্রায় এই বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিয়েও যেতে পারেন।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, ১০ হাজার মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত পরিমাণ আনা বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার একমাসের মধ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে কিংবা লাইসেন্সধারী মানিচেঞ্জারের কাছে বিক্রি বা রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাবে জমা রাখা নিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। এর বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ করা ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭’ এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রাধিকারভুক্ত নয়, এমন বৈদেশিক মুদ্রা নিবাসী বাংলাদেশির কাছে থাকলে তা আগামী সেপ্টেম্বর ৩০ এর মধ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে কিংবা লাইসেন্সধারী মানিচেঞ্জারের কাছে বিক্রি করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর অননুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা নিবাসী ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat