×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৯-২০
  • ৫৩ বার পঠিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত শহর দোনেৎস্কে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে। ওই অঞ্চলে রুশ সমর্থিত মেয়র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হতাহতের ঘটনায় ইউক্রেনের গোলাবর্ষণকে দায়ী করেছেন দোনেৎস্কের মেয়র আলেক্সি কুলেমজিন। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। খবর বিবিসির। 

২০১৪ সাল থেকেই রুশ সমর্থিত ‌কর্তৃপক্ষ দ্বারা দোনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। শহরটিকে টার্গেট করার জন্য তারা বারবার ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের পশ্চিমের একটি গ্রাম থেকে দোনেৎস্কের কুইবিশেভস্কি অংশে ৯টি গোলা ছোঁড়া হয়েছে।


তবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী অধ্যুষিত এলাকা থেকে কোনো ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা বেশ কঠিন। ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বাসস্টপ, দোকান এবং একটি ব্যাংকে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে স্থানীয় নেতা ডেনিস পুশিলিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

রুশ বাহিনী ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে আরও দক্ষিণে দোনেৎস্ক অঞ্চলের এলাকাগুলো দখল করলেও ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে শহরের উপকণ্ঠ থেকে পুরোপুরি হটিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের বেশ লড়াই করতে হচ্ছে।

দক্ষিণের পাশাপাশি ইউক্রেনীয় বাহিনী উত্তর-পূর্বে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে এবং তাদের সবচেয়ে নাটকীয় অগ্রগতি এসেছে চলতি মাসে উত্তর খারকিভ অঞ্চলে।

লুহানস্ক অঞ্চলের প্রধান সেরহি হাইদাই একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যেখানে দেখা গেছে, ইউক্রেনীয় ট্যাংক একটি ভাসমান ব্রিজ পার হচ্ছে। তিনি বলেন, ইউক্রেন এখন ওসকিল নদীর বাম তীর নিয়ন্ত্রণ করছে যাকে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের সম্মুখ ভাগ হিসেবে দেখা হয়।
ইউক্রেনীয় বাহিনী যদি ওসকিলের পূর্ব দিক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় তবে এটি একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। হাইদাই বলেন, পরবর্তী টার্গেট হবে লাইমান শহরকে মুক্ত করা। গত মে মাসে রুশ বাহিনী ওই শহর দখল করে নিয়েছে।

রোববার গভীর রাতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার রাত্রিকালীন ভাষণে বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সব কিছু একটু স্থবির বলে মনে হতে পারে। তবে কোনও স্থবিরতা থাকবে না। এর পরে যা ঘটবে তার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে... ইউক্রেনকে অবশ্যই মুক্ত হতে হবে।

এদিকে সোমবার দক্ষিণের একটি পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনারহোয়াটম বলছে, পারমাণবিক চুল্লি থেকে তিনশ মিটার দূরে একটি রকেট এসে পড়েছে। মাইকোলাইভ অঞ্চলে অবস্থিত সাউথ প্ল্যান্ট বলে পরিচিত পারমাণবিক কেন্দ্রটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ বলছে, এনারহোয়াটম তাদের জানিয়েছে রকেট হামলায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রটি গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। তিনটি চুল্লির সবগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

যুদ্ধের শুরুতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের এবং ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক কেন্দ্র জাপোরিশা দখল করে নেওয়ার পর থেকে কেন্দ্রটি বারবার গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে।

একে রক্ষা করার জন্য আইএইএ একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। আইএইএ বলছে, সেখানে পরিস্থিতি ‌‘নাজুক ও অনিশ্চিত’। এর ছয়টি চুল্লি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে, তবে নিরাপদ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাচ্ছে।

অপরদিকে মুক্ত করা শহর ইজিউমে গণকবর থেকে ৪৫০টি মৃতদেহ আবিষ্কারের পরও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। এর পরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্সি রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এটি পুরো মিথ্যা এবং অবশ্যই আমরা এই গল্পের সত্যকে তুলে ধরবো। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের পূর্বে রাশিয়ার যে সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে, ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ তাতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। তারা বলছে, এতে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার হেলিকপ্টার ইউক্রেনের সেনা ও সরঞ্জাম ধ্বংস করছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে রাশিয়া খুব সম্ভবত গত ১০ দিনে ইউক্রেনে চারটি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat