×
  • প্রকাশিত : ২০২২-১১-২৪
  • ২৮ বার পঠিত
লাইফস্টাইল ডেস্ক : অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সম্পর্কে কমবেশি সবারই ধারণা আছে! শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে। রোগ ও লক্ষণভেদে চিকিৎসক ৭-১৪ দিন পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণের পর রোগী খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেন। আর সুস্থ হতেই কমবেশি সবাই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা বন্ধ করে দেন। অনেকেরই হয়তো জানা নেই, অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স সম্পন্ন না করলে শরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স সম্পন্ন করা কতটা জরুরি।
অ্যান্টিবায়োটিক কি?
অ্যান্টিবায়োটিক হলো এমন এক ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ও তাদের সংখ্যার বৃদ্ধি ঠেকায়। অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা চিকিৎসা করা হয় এমন রোগের মধ্যে আছে- শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ- হুপিং কাশি ও নিউমোনিয়া, ত্বকের সংক্রমণ ইত্যাদি। যদিও অ্যান্টিবায়োটিক সর্দি-কাশির চিকিৎসা করে না, তবে ভাইরাল সংক্রমণ যদি স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয় সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক দেন চিকিৎসক। কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা করে, তার মধ্যেও পার্থক্য আছে। অ্যামোক্সিসিলিনের মতো ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। পেনিসিলিনের মতো সংকীর্ণ-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক কয়েকটি ভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়াকে প্রভাবিত করে।
অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করা কেন জরুরি?
প্রেসক্রিপশনে ঠিক যতদিন ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, ততদিনই তা অনুসরণ করতে হবে না হলে অসুস্থতা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ওষুধ গ্রহণের পর উপসর্গ চলে গেলেও, ব্যাকটেরিয়া শরীরে থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ হওয়ার আগে আপনি যদি চিকিৎসা বন্ধ করেন, তবে অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি এই ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তবে তারা সম্ভাব্য আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে। পরবর্তী সময়ে আপনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন ও এবারের অসুস্থতা থেকে সুস্থ হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। আবার অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার করাও বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যখন সেগুলো সঠিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হয়। ধরুন, আপনি সর্দি-কাশির সমস্যায় স্ট্রেপ থ্রোটের জন্য প্রযোজ্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছেন কিন্তু আদৌ আপনার শরীরে অসুস্থতা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া নেই। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন একটানা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে আপনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই নির্দিষ্ট অসুস্থতার জন্য সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা জরুরি। প্রতি বছর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) কারণে প্রত্যেক দেশের ধনী, গরিব, নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রায় সাত লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এএমআরের কারণে প্রতিবছর অতিরিক্ত ১০ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা স্বাস্থ্য খাতে খরচ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ ২০২১। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি বছরের মতো এ বছর ১৮-২৪ নভেম্বর অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ পালন করছে।
সূত্র: ডিগনিটি হেলথ.অর্গ
 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat