×
  • প্রকাশিত : ২০২৩-০১-১৭
  • ২৮ বার পঠিত
কাঠমান্ডু টাইমস/এনডিটিভি : নেপালে ৭২ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পোখারায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে ওই উড়োজাহাজের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) ও ডেটা রেকর্ডার উদ্ধারের তথ্য জানায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নেপালের জনপ্রিয় লোক সংগীতশিল্পী নীরা ছান্তিয়াল। নীরার বোন হীরা ছান্তিয়াল মরদেহ শনাক্ত করেছেন। হীরা ছান্তিয়াল জানিয়েছেন, মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে এই বিমানে পোখরা যাচ্ছিলেন নীরা। রোববার পোখরায় নারী-পুরুষদের একটি ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। এই অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের কথা ছিল নীরার। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় সবকিছু শেষ হয়ে গেলো। গত ১৪ জানুয়ারি নিজের ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে নীরা লিখেন, কাঠমান্ডুর অনুষ্ঠান শেষ। আগামীকাল পোখরা দর্শকদের জন্য আসছি। গতকাল সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেন নীরা।

তাতে মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা জানান এই শিল্পী। নেপালের বাগলুংয়ের কন্যা নীরা। বসবাস করতেন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের কর্মকর্তা টেকনাথ সিতৌলা বলেন, দুটি রেকর্ডারই ভালো অবস্থায় ছিল এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট ও ক্রুদের মধ্যে কথোপকথন শোনার জন্য এগুলো তদন্তকারীদের কাছে পাঠানো হবে। রোববার সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৬৮ যাত্রী ও চার ক্রু নিয়ে পোখারার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে এটিআর উড়োজাহাজটি পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পুরোনো বিমানবন্দরের মাঝামাঝি এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে ৫৩ জন নেপালের, ভারতের পাঁচজন, চারজন রাশিয়া এবং দুজন কোরিয়ার। এছাড়া আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের একজন করে নাগরিক ছিলেন ওই উড়োজাহাজে। কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যে তথ্য দিয়েছে, তাতে কোনো বাংলাদেশির ওই উড়োজাহাজে থাকার তথ্য মেলেনি। ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পোখারার গান্ডকি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাসকি জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, অধিকাংশ মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে, এগুলো চেনা যাচ্ছে না।  সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কৃষ্ণ প্রসাদ ভান্ডারি বলেন, ‘উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার জায়গা থেকে আমরা কাউকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারিনি।’ স্থানীয় সাংবাদমাধ্যগুলো বলছে, কী কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি চারজনের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা।  বিমান দুর্ঘটনা নেপালের জন্য অস্বাভাবিক নয়। প্রায়ই দূরবর্তী রানওয়ে এবং হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির খবর আসে। নেপালে গত বছরের মে মাসে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন একটি বিমান দুর্ঘটনায়। গত ৩০ বছরে  দেশটিতে প্রায় ৩০টির মতো বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ মার্চ দেশটির কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। সেই দুর্ঘটনায় ৫১ জন যাত্রী এবং ক্রু নিহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat