×
  • প্রকাশিত : ২০২৩-০১-২৩
  • ৩৪ বার পঠিত
# নিত্যপণ্য নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তুষ্টি
# আসন্ন রোজায় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা


সাঈদ আহাম্মেদ খান : রাজধানী ঢাকায় জীবনযাত্রায় ব্যয় বৃদ্ধির ধাক্কাটা এখন আর নগরবাসি সামলাতে পারছেন না। বাসা ভাড়া, খাবারের দাম, কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে রিকশা ভাড়াও বহুগুণে বেড়েছে। চিকিৎসকের ভিজিট দ্বিগুণ করা হয়েছে। খরচের কারণে মানুষ ডাক্তার দেখাতে ভয় পান। তবে উপার্জন আগের অঙ্কেই রয়ে গেছে। সন্তানদের স্কুল-কলেজের বেতন বেড়েছে বহুগুণে। সেই সঙ্গে বেতন ছাড়াও আদার চার্জ নামের অত্যাচার নিয়ে শিক্ষকদের দুর্নীতি কমেনি। এসব থেকে মুক্তি পেতে অনেকে নীরবে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের পথ ধরছেন। চাল-ডাল, সবজি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রায় সমস্ত ভোগ্যপণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে। গত এক বছরের ব্যবধানে সার্বিকভাবে ঢাকার জীবনযাত্রায় ব্যয় বেড়েছে ১১ শতাংশ। এই হিসেব দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। পণ্য ও সেবার মূল্যবিষয়ক প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় তারা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। তাতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকায় গত বছর বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি ছিল খাদ্যবহির্ভূত খাতে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্যে এটি ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। সংস্থাটি বলছে, এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে চাল, আটা, ডাল, বেকারি পণ্য ও চিনি। এ ছাড়া এ সময় মাছ, ডিম, দেশি মুরগি, ভোজ্যতেল, আমদানিকৃত ফল, চা-কফি, স্থানীয় ও আমদানিকৃত দুধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসামগ্রী এবং পরিবহন খরচ অতিমাত্রায় বেড়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়, গত বছর নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর গড় মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ; যা সাধারণ পরিবারের তুলনায় কম। নিম্ন-আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে বার্ষিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারি থেকে ‘সাধারণ’ মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। মে মাসে কিছুটা কমার পর তা আবার জুন থেকে বাড়তে শুরু করে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির তুলনায় ৭ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। এরপর জুনে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে পৌঁছে হয় ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ওই মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। জুলাই মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর হঠাৎ করে আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় বলে জানান মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী ২ মাস বৃদ্ধির পর ডিসেম্বরে তা কিছুটা কমে আসে।’ ক্যাবের তথ্য মতে, প্রধানত মৌসুমি সবজির সহজলভ্যতা, আমন ধানের বাম্পার ফলন এবং মাছ-মাংসের দাম কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে। ক্যাব ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১টি বাজার থেকে মাসিক দামের তথ্য সংগ্রহ করে। দৈনিক দাম পর্যবেক্ষণে ১৪১টি খাদ্য সামগ্রী, ৪৯টি খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং ২৫টি পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত করে ফলাফল প্রকাশ করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে মূল প্রবন্ধে। সুপারিশে ক্যাব জানায়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে সরকারের শহরাঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো উচিত। উচ্চমূল্যস্ফীতির সময়ে নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্তভাবে সহায়তা দেওয়ার জন্য ওএমএস স্কিমকে শক্তিশালী করা উচিত। দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতাও বাড়াতে হবে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat