×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৪-২৫
  • ১১৬ বার পঠিত
গণমুক্তি রিপোর্ট : অর্থনৈতিক প্রযুক্তির রূপান্তরে মোবাইল ব্যাংকিং ও অ্যাপভিত্তিক উদ্ভাবনী সেবা চালুর মধ্য দিয়ে নিজের সক্ষমতা বাড়িয়েছে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। কেবল নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নই নয়, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তি উন্নয়নে সাফল্য পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক এ প্রতিষ্ঠানটি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা দুর্যোগের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে সুনাম অর্জন করেছে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে করোনাকলে অফিসের পাশাপাশি বাসা থেকে পুরোদমে কাজ করেছেন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের কর্মীরা। এতে সংকটের মধ্যেও ব্যাংকটির ব্যবসার প্রবৃদ্ধি এবং মুনাফা বেড়েছে। যে কোন সময়ে চেয়ে বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের অবস্থান অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক মজবুত। এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল ইসলামের দক্ষ নেতৃত্বে ক্রমশ উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে ব্যাংকটি। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসাবে যোগদান করেন শামস্-উল ইসলাম। এমডির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি অগোছালো অগ্রণী ব্যাংকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজিয়েছেন। যখন দায়িত্ব নেন তখন ব্যাংকের সকল ব্যবসায়িক সূচক ছিল নিম্নগামী। কিন্তু তার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যে ব্যাংকের সকল ব্যবসায়িক সূচকে বড় ধরণের অগ্রগতি ঘটাতে সক্ষম হন। এরপর থেকে ক্রমশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে ব্যাংকটি। সন্তোষজনক পারফরম্যান্সের কারণে এক মেয়াদ শেষ করে দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব পান এই এমডি। করপোরেট আবহে বঙ্গবন্ধু কর্নারের স্বপ্নদ্রষ্টা এই ব্যাংকার বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা থেকে সর্বপ্রথম ২০১০ সালে অগ্রণী ব্যাংকের মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে আনছার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং সর্বশেষ অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ষষ্ঠতলায় জাতিরজনকের মুরালসহ পূর্ণাঙ্গ অবয়বে বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করেছেন। পরে দেশের কর্পোরেট অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপিত হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের অগ্রগতি সন্তোষজনক। মহামারি করোনার মধ্যেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি ৫৩১ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে, যা গত বছরের একই সময় ছিল ৩১৯ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স আহরণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে এবং দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয়। দ্রুত কমছে খেলাপি ঋণ ও লোকসানি শাখা। আমানত ও ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধিও সন্তোষজনক। স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ব্যাংকটি। এমনকি করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে এগিয়ে রয়েছে ব্যাংকটি। এভাবে দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা রেখে চলছে অগ্রণী ব্যাংক। ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা ও করোনার কারণে বেসরকারি প্রায় সব ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমেছে, সেখানে অগ্রণী ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। ব্যাংকটি কয়েকটা ক্ষেত্রে এক সাথে কাজ করেছে। বিশেষ করে সুদের হার কমে যাওয়ায় বিকল্প যতগুলো রাস্তা ছিলো আয় বাড়ানোর সবগুলো রাস্তায় হাত দিয়েছে। তারা খরচ কমিয়ে ইনকাম বাড়িয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনে করেন, দেশের ১৬ কোটি জনগণ অগ্রণী ব্যাংকের মালিক। তাই মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ দায়বদ্ধতা থেকে ৩৬টির মতো সেবা বিনা চার্জে দিচ্ছে অগ্রণী ব্যাংক। কারণ মুনাফা করাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। যেহেতু ব্যাংক, তাই অর্থনৈতিক মুনাফা যেমন করতে হবে, তেমনি সামাজিক মুনাফাও করতে হবে মনে করেন। মানবিক ব্যাংকার হিসেবেও অতুলনীয় শামস-উল ইসলাম। করোনার মধ্যেও অগ্রণী ব্যাংকে কর্মরত প্রায় ১৩ হাজার কর্মীর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখেছেন। কোথাও কেউ করোনা আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছেন। ব্যাংকের সামগ্রিক বিষয়ে স্ব-শরীরে ব্যাংকে এসে কিংবা বাসা থেকেই তারা তদারকি করেছেন।  স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্পে অগ্রণী ব্যাংক এককভাবে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে। এটা ব্যাংকের জন্য একটা বড় অর্জন। স্বপ্নের পদ্মাসেতু হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ থেকে ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ১৪টি পাওয়ার প্লান্ট অগ্রণী ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। এসব পাওয়ার প্লান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। এতে বিরামহীন বিদ্যুৎ পাচ্ছে দেশের মানুষ। যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারেও অগ্রণী ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল ইসলাম সাত বছর দেশের বাইরে ব্যাংকিং করেছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের ১৬ বছর কাটিয়েছে চট্টগ্রামে। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি জিএম হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে আসেন। সে সময় তাঁকে হেড অব আইডি করা হয়। একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। জিএম পদটি দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে একটি সম্মানজনক পদ হিসেবেই স্বীকৃত। সিলেট যাওয়ার পর তাঁর মনে হলো, দেশ স্বাধীন না হলে তিনি জিএম হতে পারতেন না। হয়তো হাবিব ব্যাংকের এসপিও পর্যন্ত যেতে পারতেন। যার জন্য দেশটি স্বাধীন হলো, তিনি জিএম হতে পারলেন, সেই বঙ্গবন্ধুর সম্মানে কিছু করার ইচ্ছে হলো। তিনি ভাবলেন জাতির পিতাকে কিভাবে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানানো যায়। তিনি তো কবি না যে কবিতা লিখতে পারবেন, আর্টিস্ট না যে ছবি আঁকবেন বা ম্যুরাল তৈরি করবেন। ঐ রকম লেখক না যে উনাকে নিয়ে বই লিখবেন। তাই তিনি চিন্তা করলেন কর্পোরেট আবহের কোনো একটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ওপর কর্নার করবেন, যেখানে শুধু বঙ্গবন্ধুর ওপর বই থাকবে। এটা নিয়ে যে এতো প্রচার হবে, এটা যে জাতীয় পর্যায়ে চলে যাবে তা তিনি চিন্তাও করেননি। আবার অনেকে সমালোচনাও করেছে। বলেছে, তিনি বঙ্গবন্ধুকে কর্নারে নিয়ে নিলেন। সরকার পরিবর্তন হলে তাঁর চাকরি থাকবে না। এমন অনেক কথাই তাকে শুনতে হয়েছিল। পরে তিনি যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ত্রাণ দিতে গেলেন, তখন তিনি পকেটে করে আনসার ভিডিপি ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধুর কর্নারের দুটি ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে যখন দিলেন তখন তিনি দেখে বললেন, গুড আইডিয়া। পরবর্তী সময়ে ২ থেকে ৩ মাস পরেই পত্রিকায় দেখলেন সরকারি নির্দেশনা এলো সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধুর কনার করতে হবে। এটা পত্রিকায় দেখার পরেই তিনি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন। এত দিন তিনি যা করেছেন জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসুরী উপলব্ধি করলেন যে এটি ভালো কাজ। কারণ এতোদিন খুব টেনশনের মধ্যে ছিলেন কাজটা কি ভালো হলো না, খারাপ হলো। পরে তিনি একটি বই ডকুমেন্টারি আকারে করেছেন, এইচটি ইমাম সাহেবকে দিয়ে বইটি উদ্বোধন করিয়েছিলেন। এখন শুধু দেশে না বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হচ্ছে। দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ২০২০ সালের জুন মাসে মোবাইল আর্থিক সেবা বিকাশের সঙ্গে টুওয়ে ব্যাংকিং (ব্যাংক টু বিকাশ) সেবা চালু করে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। অগ্রণী ব্যাংকের প্রযুক্তিগত রূপান্তর প্রসঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কোর ব্যাংকিংয়ে টেমেনস টোয়েন্টিফোর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, যেটি আর্থিক সেবায় বিশ্বের অন্যতম একটি সমাধান। তিনি আরও বলেন, আমাদের রেমিট্যান্সগুলোও আসছে রিয়ালটাইম। সেখানে একটা রেমিট্যান্স অ্যাপ আমরা চালু করেছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সিঙ্গাপুর থেকে এ অ্যাপ উদ্বোধন করেছিলাম। কিন্তু করোনা প্যান্ডেমিকে মানুষ যখন আইসোলেশনে চলে গেল। মানুষ যখন ব্যাংকে আসতে পারল না, তখন মোবাইলের মাধ্যমে, এই রেমিট্যান্স অ্যাপের সাহায্যে মানুষ টাকা পাঠিয়েছে। এতে রেমিট্যান্সে বিশাল একটি বিপ্লব ঘটেছে। রেমিট্যান্স আহরণে প্রযুক্তির পরিচয় করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনিটরিং অথরিটি অব সিঙ্গাপুর অগ্রণী ব্যাংককে ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেছে। কোর ব্যাংকি সেবার উন্নয়নে কাজ চলছে বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের নির্বাহী প্রধান। তিনি বলেন, নতুন ভার্সন এসেছে। আমাদের বোর্ড অ্যাপ্রুভ করেছে। আশা করা যায়, আগামী জুন-জুলাই নাগাদ প্রাইমারি কাজ শেষ হবে। মাইগ্রেশনের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে। এটা হলে ডিজিটাল ব্যাংকিং ক্ষেত্রে ফাইন টিউনিং হবে, ইউজার ফ্রেন্ডি ও রোবাস্ট হবে। দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে বিকাশের সঙ্গে ‘ব্যাংক টু বিকাশ’ মডেলে টুওয়ে সেবা চালু করে অগ্রণী ব্যাংক লিমেটেড যেটি অনুসরণ করছে অন্য ব্যাংকগুলো। মোবাইল আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি বেশি হচ্ছে জানিয়ে শামস-উল ইসলাম বলেন, আমরা যে উপবৃত্তি কার্যক্রমে যুক্ত আছি, সেখানে ছেলে মেয়েদের স্কুল-মাদরাসায় যেখানে আমরা (অগ্রণী ব্যাংক) ও বিকাশ যৌথভাবে স্টাইপেন্ড বিতরণ করছি। আপনি জেনে খুশি হবেন যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আছে, সেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি আমরা বিনা মূল্যে বিতরণ করছি। এই প্রকল্পে আমাদের ব্যাংক থেকে ৫৪ লাখ টাকা আয় কম করেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আমরা এটা বিনা মূল্যে দিয়েছে। আমরা সরকারি ব্যাংক, প্রফিটের জন্য কাজ করি না, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য খুব শিগগিরই ডিজিটাল ন্যানো লোন চালু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। পাশাপাশি নিজস্ব ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ ও ওয়েব সেবা নিয়ে কাজ করছে সরকারি ব্যাংকটি। দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত। করোনার মধ্যেও নিয়মিত অফিসে করেছেন। তিনি সব সময় ব্যাংকের সার্বিক বিষয় খোঁজখবর রাখেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat