ঢাকা,বৃহস্পতিবার,৩১০ ভাদ্র ১৪২৮,১৩,মে,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > সাধারণ মানুষকে অবাক করে খাবার তুলে দিচ্ছেন ইউএনও তানভীর   > করোনা ভাইরাসের মধ্যেও দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী শামীম   > শ্রীনগরে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগ   > গাইবান্ধায় বেড়েছে কাউন চাষ   > সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার   > সিলেটে আতিকুর রহমানের সমর্থনে দক্ষিণ সুরমা জাতীয় পার্টির কর্মীসভা   > অপরিপক্ক ফলে ঝালকাঠির বাজার সয়লাব   > বান্দরবানে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দু:স্থ ও অসহায়দের উপহার দিল শ্রমিক লীগ   > অনুশীলনে বাধা নেই টাইগারদের   > বলিউড সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে যা বললেন নানি  

   আজকের পত্রিকা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
চরম ভোগান্তির পর ফেরি চালু

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : করোনার দাপটে একদিকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকা, অন্যদিকে লকডাউনের বিধিনিষেধ। তবে গ্রামমুখি মানুষের নিজ বাড়িতে ফেরা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। করোনার বিধিনিষেধ এখানে কার্যকর কোন প্রতিকার দিতে পারছিলো না। ফলে বিকল্প উপায়ে চরম দুর্ভোগ মেনে নিয়ে হাজারো মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। গতকাল পদ্মার ঘাটে হাজার হাজার মানুষ ফেরির জন্য রাত কাটিয়েছেন। একটি ফেরি আসা মাত্র জনস্রোতে তা তলিয়ে যাবার মতো অবস্থা। এভাবেই গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত মানুষের পদ্মা পাড়ি দেবার দৃশ্য ‘ঈদ বিপর্যয়’ হিসেবে ছিলো সারা দেশে আলোচনার শীর্ষে। করোনার কোন স্বাস্থ্যবিধি তারা মানছিলেন না। ফেরিতে সামান্য একটু জায়গাই সোনার হরিণের মতো। সবশেষে গতকাল সোমবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। ঘরমুখী মানুষের বিড়ম্বনা এড়াতে দিনেও ফেরি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ রোববার রাতভর ১৬টি ফেরি দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার করে। কিন্তু সোমবার ভোর থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ফেরি কর্তৃপক্ষ । তবে দিনের বেলায় শুধু জরুরি পরিসেবার জন্য দুটি ফেরিতে যানবাহন পারাপার চালু রাখা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার ও শনিবার দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি থাকায় রোববার ও সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে ঘরমুখো মানুষকে ঠেকাতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেছিলেন, দিনে ফেরি বন্ধ। শুধু জরুরি পরিসেবায় বহরের ১৬টি ফেরির মধ্যে দুটি দিয়ে কিছু যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তাও অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী ছাড়া ফেরিতে উঠতে পারবে না। তবে রাতে পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের জন্য সব ফেরি সচল রাখা হবে। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, মানুষ যেভাবে গ্রামে যাচ্ছেন তাতে সুইসাইড করার মতো অবস্থা দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশে করোনা ঝুকি ছড়িয়েছে ভারত থেকে। তাই আগামীকাল থেকে দুবাইগামী কোন যাত্রী সে দেশে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে এবার বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে থাইল্যান্ড। নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আসা অন্য দেশদুটি হলো পাকিস্তান ও নেপাল। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আসার পর অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিলো থাইল্যান্ড। ভারত থেকেও থাইল্যান্ডে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে পাকিস্তানে রয়্যাল থাই দূতাবাস বলেছে, ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে অন্য ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত থাইল্যান্ড ভ্রমণ করা যাবে।

চরম ভোগান্তির পর ফেরি চালু
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : করোনার দাপটে একদিকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকা, অন্যদিকে লকডাউনের বিধিনিষেধ। তবে গ্রামমুখি মানুষের নিজ বাড়িতে ফেরা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। করোনার বিধিনিষেধ এখানে কার্যকর কোন প্রতিকার দিতে পারছিলো না। ফলে বিকল্প উপায়ে চরম দুর্ভোগ মেনে নিয়ে হাজারো মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। গতকাল পদ্মার ঘাটে হাজার হাজার মানুষ ফেরির জন্য রাত কাটিয়েছেন। একটি ফেরি আসা মাত্র জনস্রোতে তা তলিয়ে যাবার মতো অবস্থা। এভাবেই গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত মানুষের পদ্মা পাড়ি দেবার দৃশ্য ‘ঈদ বিপর্যয়’ হিসেবে ছিলো সারা দেশে আলোচনার শীর্ষে। করোনার কোন স্বাস্থ্যবিধি তারা মানছিলেন না। ফেরিতে সামান্য একটু জায়গাই সোনার হরিণের মতো। সবশেষে গতকাল সোমবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। ঘরমুখী মানুষের বিড়ম্বনা এড়াতে দিনেও ফেরি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ রোববার রাতভর ১৬টি ফেরি দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার করে। কিন্তু সোমবার ভোর থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ফেরি কর্তৃপক্ষ । তবে দিনের বেলায় শুধু জরুরি পরিসেবার জন্য দুটি ফেরিতে যানবাহন পারাপার চালু রাখা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার ও শনিবার দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেশি থাকায় রোববার ও সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে ঘরমুখো মানুষকে ঠেকাতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেছিলেন, দিনে ফেরি বন্ধ। শুধু জরুরি পরিসেবায় বহরের ১৬টি ফেরির মধ্যে দুটি দিয়ে কিছু যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তাও অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী ছাড়া ফেরিতে উঠতে পারবে না। তবে রাতে পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের জন্য সব ফেরি সচল রাখা হবে। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, মানুষ যেভাবে গ্রামে যাচ্ছেন তাতে সুইসাইড করার মতো অবস্থা দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশে করোনা ঝুকি ছড়িয়েছে ভারত থেকে। তাই আগামীকাল থেকে দুবাইগামী কোন যাত্রী সে দেশে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে এবার বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে থাইল্যান্ড। নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আসা অন্য দেশদুটি হলো পাকিস্তান ও নেপাল। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আসার পর অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিলো থাইল্যান্ড। ভারত থেকেও থাইল্যান্ডে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে পাকিস্তানে রয়্যাল থাই দূতাবাস বলেছে, ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে অন্য ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত থাইল্যান্ড ভ্রমণ করা যাবে।

দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ ফ্লাইটে ছুটছে মানুষ
                                  

শামসুল আরেফিন সুমন : করোনার কারণে বিধি নিষেধ মোতাবেক দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ রয়েছে। তারপরও মানুষ ভেঙ্গে ভেঙ্গে গ্রামের দিকে ছুটছেন। যাদের টাকা আছে তারা অভ্যন্তরিণ ফ্লাইটের টিকিট কিনে ফেলেছেন। যে কারণে এখন আর সেই টিকিটও নেই। তবে ফ্লাইট সংখ্যা যদি কর্তৃপক্ষ বাড়িয়ে দেন তা হলে কিছু টিকিট হয়তো যাত্রীরা ঈদের আগে পেতে পারেন। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তেমন কোন আভাস মেলেনি। দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকায় ফ্লাইটই একমাত্র উপায় মনে করা হচ্ছে। তাই ছুটছেন মানুষ। এতে বিমানে চাপ বেড়েছে। ইতোমধ্যেই দেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ঈদের দুইদিন আগে ও পরের দুই দিন প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়েছে। বিমানের টিকিটের দামও হঠাৎ বেড়েছে। যাত্রীরা টিকিটের জন্য যোগাযোগ করলেও এয়ারলাইন্সগুলো দিতে পারছে না। কারণ করোনাভাইরাস রোধে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলোকে ৬টি বিমানবন্দরে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা বেঁধে দিয়েছে। তবে এই ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করছেন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের আগমুহূর্তে অভ্যন্তরিণ ফ্লাইটের টিকিটের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার একটু বেশি চাহিদা রয়েছে মানুষের। লঞ্চ, ট্রেন ও বাসে গ্রামের বাড়িতে যেতে না পারায় বিমানে যেতে চাচ্ছেন। বিমানে চাপ বাড়ায় এজেন্সিগুলো টিকিটের দাম বৃদ্ধি করেছে। ঢাকা-সৈয়দপুর-বরিশালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম ৮ হাজার ৮শ’ টাকা হলেও ইউএস-বাংলার একটি টিকিটের দাম ৯ হাজার ৫০০ টাকা। আগামী ১৩ মে ঈদের সম্ভবনা ধরে ঢাকা-বরিশাল-সৈয়দপুর রুটে ১০ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত বিমানের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। যশোরে চারটি, চট্টগ্রামে পাঁচটি, সৈয়দপুরে চারটি, সিলেটে দুটি, বরিশালে একটি, রাজশাহীতে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে প্রতিটি এয়ারলাইন্স।

প্রাণঘাতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : প্রতিবেশি ভারতে করোনার ভয়াবহতার চিত্র কারো এখন আর অজানা নয়। অনেক বাংলাদেশি এখনো ভারতে রয়েছেন। কেউ কেউ ঈদের আগে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি যারা ভারত থেকে ফিরেছেন তাদের অনেকে নতুন অতি বিপদজন এই করোনায় সংক্রমিত বলে পরীক্ষায় ধরা পড়েছে। পরীক্ষায় ছয়জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের দেহে ডাবল মিউটেশন পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। এর পরেই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এটি নিয়ে সবার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। নাসিমা সুলতানা বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইইডিসিআর আলাদাভাবে পরীক্ষা করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি নমুনা পরীক্ষায় ভারতীয় এ স্ট্রেইন ধরা পড়েছে, যা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটাতে (জিআইএসএআইডি) প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীরা ভারত থেকে ফিরেছেন। তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা যশোরে অবস্থান করছেন। জিআইএসএআইডির তথ্য বলছে, ভারতীয় ধরন বি.১.৬১৭ যাদের শরীরে পাওয়া গেছে সেই দুইজনের বয়স ৪১ ও ২৩ বছর। তারা ভারতে ভ্রমণে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের একজন খুলনার ও একজন ঢাকার। দুইজনই পুরুষ। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল। তথ্যগুলো সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে ডাটাবেজে আপলোড করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে একটি নমুনা পাওয়া গেছে। সেটি আমি দেখেছি। ধরা পড়েছে বলেই এ ধরনের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
করোনায় প্রতিবেশী ভারতের অবস্থা ভয়াবহ। মৃত্যু ও শনাক্তে নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে প্রতিদিন। দেশটিতে এবারের পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে দায়ী করা হচ্ছে কোভিডের ‘ডাবল’ বা ‘ট্রিপল মিউটেশন’ ভেরিয়েন্টকে। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ধরন বাংলাদেশে যাতে আসতে না পারে, সে জন্য ভারতের সঙ্গে সীমান্ত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। আর আকাশপথে গত ১৪ এপ্রিল থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

দেশে করোনার মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন ও নারী ১৮ জন। সরকারি হাসপাতালে ৩৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১২ জন ও তিনজন বাসায় মারা যান। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ হাজার ৭৫৫ জনে। এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৭৪২ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল সাত লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৮ জন। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ৪২৭টি ল্যাবরেটরিতে ২০ হাজার ২১৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ২০ হাজার ২৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৮টি। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিন হাজার ৪৩৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৫০ জনের মধ্যে শূন্য থেকে ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৩ জন এবং ষার্টোর্ধ্ব ৩০ জন রয়েছেন। বিভাগওয়ারী দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৬ জন, রাজশাহীতে একজন, খুলনায় তিনজন এবং সিলেট বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দেশে অর্ধেক আইসিইউ খালি
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগি শনাক্ত হয়। তারপর থেকে চলতি বছরের ৮ মার্চ পর্যন্ত করোনা রোগির চিকিৎসা ভর্তি নিয়ন্ত্রীত থাকলেও গত এপ্রিল মাসে হঠাৎ করে আক্রান্ত রোগি এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায়। কোন কোন দিন তা শতাধিক হয়। এদিকে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক বীমা সীমিত আকারে খোলা হয়েছে। তবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত চলমান বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। গত দুইদিন ধরে করোনা রোগির মৃত্যু এবং শনাক্ত মোটামোটি নিয়ন্ত্রীত। পাশাপাশি বাড়ছে সুস্থ রোগীর সংখ্যা। এদিকে দেশের বিভিন্ন করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সাধারণ শয্যা ৭৬ শতাংশ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ৫২ শতাংশ খালি রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা যায়, দেশে এখন ৫ শতাধিক আইসিইউ সিট খালি রয়েছে। অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশে সাধারণ শয্যা রয়েছে ১২ হাজার ২৮৯টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছে দুই হাজার ৯৯৮টিতে। খালি রয়েছে চার হাজার ২৯১টি। অপরদিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এক হাজার ৯০টির মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ৫০৪টিতে, খালি রয়েছে ৫৬৮টি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে সাধারণ খালি শয্যার মধ্যে ঢাকার সরকারি হাসপাতালে তিন হাজার ৪৭১টির মধ্যে দুই হাজার ৪৪৩টি ও বেসরকারি হাসপাতালে দুই হাজার ৯৭টির মধ্যে এক হাজার ৬৭১টি। অপরদিকে চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে ৪৩২টির মধ্যে ২৭৪টি সাধারণ শয্যা এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩১০টির মধ্যে ১৯২টি শয্যা খালি রয়েছে। ঢাকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ২৬২টির মধ্যে ৮৪টি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৫০৯টির মধ্যে ৩৮৫টি শয্যা খালি রয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালে ৩৩টির মধ্যে ২১টি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৩৮টির মধ্যে ১০টি শয্যা খালি রয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৮৭০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে এক হাজার ২৩৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬০৪ জন, রংপুর বিভাগে ৩৪৬ জন, খুলনা বিভাগে ৬০২ জন, বরিশাল বিভাগে ৩২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩০১ জন, সিলেট বিভাগে ৩৭০ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৯ জন সুস্থ হয়েছেন। এই পর্যন্ত দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯০ দশমিক ৭৮ ভাগ রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৭০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও এক হাজার ৯১৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। দেশে মোট সাত লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা করা যায় আগামী ঈদের পর করোনা পরিস্থিতি নিয়স্ত্রণে চলে আসবে। তবে চলমান টিকা দান কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আরও দ্রুত করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

করোনায় একদিনে ৬৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৭৩৯ জন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৬৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও এক হাজার ৭৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। দেশে মোট সাত লাখ ৬৩ হাজার ৬৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে তিন হাজার ৮৩৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট ৬ লাখ ৯১ হাজার ১৬২ জন করোনা থেকে সুস্থ হলেন। গতকাল সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২০টি ল্যাবে ১৯ হাজার ৪৩১ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৯ হাজার ৪৫২ টি। করোনা শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫২ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৬৫ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৪২ জন ও নারী ২৩ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন আট হাজার ৪৭৬ জন ও নারী তিন হাজার ১৬৮ জন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন ও ষাটোর্ধ্ব ৩৬ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে দুইজন, খুলনা বিভাগে চারজন, বরিশাল বিভাগে দুইজন, সিলেট বিভাগে ছয়জন ও রংপুর বিভাগে দুজন । সরকারি হাসপাতালে ৪৫ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন পাঁচজন। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ।

শিবচর ট্র্যাজেডি, নিহত ২৬
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : লকডাউনে সময় বাঁচাতে গিয়ে স্পিডবোটের যাত্রীরা লাশ হয়ে ফিরেছেন। মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীর বাংলাবাজার পুরোনো ঘাটে বাল্কহেডের সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা লেগে একটি স্পিডবোট বিধ্বস্ত হয়। এ সময় স্পিডবোটের ২৬ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন অনেকে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পদ্ম নদীর পাড়ে শোকের মাতম চলতে থাকে সকাল থেকে। এই দুর্ঘটনায় গতকাল সোমবার নিহতদের পরিবারে হাহাকার নেমে আসে । অনেকে স্বামী সন্তানকে এক সঙ্গে হারিয়েছেন। এক কিশোরি তার বাবা মা ও ছোট দুই বোনকে হারিয়ে এতিম হয়েছেন। জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে সকাল পৌনে ৭টায় ৩১ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি ছেড়ে যায়। এ সময় মাদারীপুর কাঁঠালবাড়ী বাংলাবাজার পুরোনো ঘাটে থেমে থাকা বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডে ধাক্কা দিয়ে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। এসময় সব যাত্রী পানিতে তলিয়ে যান। পরে নদী থেকে একে একে ২৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় মানুষ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। পরে নিহতদের লাশ কাঠালবাড়ী হাজী ইয়াসিন মোল্লাকান্দি দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে রাখা হয়। সেখান থেকে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারুখালির মনির মিয়া (৩৮), হেনা বেগম (৩৬), সুমি আক্তার (৫) ও রুমি আক্তার (৩), ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙা গ্রামের আরজু শেখ (৫০) ও ইয়ামিন সরদার (২), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সাগর ব্যাপারী (৪০), কুমিল্লার দাউদকান্দির কাউসার আহম্মেদ (৪০) ও রুহুল আমিন (৩৫), মাদারীপুর জেলার রাজৈরের তাহের মীর (৪২), কুমিল্লা তিতাসের জিয়াউর রহমান (৩৫), মাদারীপুরের শিবচরের হালান মোল্লা (৩৮) ও শাহাদাত হোসেন মোল্লা (২৯), বরিশালের তেদুরিয়ার আনোয়ার চৌকিদার (৫০), মাদারীপুর রায়েরকান্দি মাওলানা আব্দুল আহাদ (৩০), চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), নড়াইলের লোহাগড়া রাজাপুর জুবায়ের মোল্লা (৩৫), মুন্সিগঞ্জ সদরের সাগর শেখ (৪১), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সায়দুল হোসেন (২৭) ও রিয়াজ হোসেন (৩৩), ঢাকা পীরেরবাগ খেরশেদ আলম (৪৫), ঝালকাঠি নালসিটির এসএম নাসির উদ্দীন (৪৫), বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জের মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫), পিরোজপুরের চরখামার মো. বাপ্পি (২৮), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার জনি অধিকারী (২৬)। এরমধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত হয়েছেন চারজন। মাদারীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে। স্পিডবোট চালক শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে দুপুরে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশাদুজ্জামান, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন, শিমুলিয়া বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন, মাদারীপুর শিবচর চরজানাজাত নৌ-পুলিশ ইনচার্জ শেখ মো. আব্দুর রাজ্জাক ও নারায়ণগঞ্জ পাগলা বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. আসমাদুল। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়।

ক্ষমতায় মমতা না শুভেন্দু!
                                  

আজকাল/এনডিটিভি/আনন্দবাজার পত্রিকা : পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর মমতা। গতকাল শেষ পর্যন্ত বিস্ময়করভাবে তাঁকে পরাজিত দেখিয়ে আসনের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগে প্রচার হয়েছিলো মমতাই বিজয়ি হয়েছেন। সন্ধ্যার পর জানা শুভেন্দু নিজেই জানান তিনি জিতেছেন। তারপরই শুরু হয় চরম বিভ্রান্তি। গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত নন্দিগ্রামে তার আসনে মমতার বিজয়ের খবর ছিলো সবদিকে। সন্ধ্যার পর আবার তাঁর বিজয় নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করছেন তিনিই জিতেছেন। ইভিএম-এর সার্ভারে সমস্যা থাকায় তা জানাতে বিলম্ব ঘটে। শুরুতে এই আসনে তৃণমূল নেত্রী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর আসে। পরে জানা যায়, মমতা নয়, জিতেছেন বিজেপির নেতা ও এক সময়ের মমতার সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ব্যাপকভাবে বিজেপির পরাজয় ঘটেছে। তৃণমূল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছেই না। ১৭ রাউন্ড ভোটগণনার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে জয়ী হয়েছেন বলে খবর আসছিল। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতে দেখা যায় ১৬২২ ভোটে সেখানে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ফোনে তিনি বলেন, ১৬২২ ভোটে জিতেছি আমি। এমন বিভ্রান্তিকে ঘিরে আপাতত ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে নন্দীগ্রামে। নতুন করে গণনা হতে পারে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রিটার্নিং অফিসার। জানালেন রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা আরিজ আফতাব। গতকাল সন্ধ্যার আগে এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নন্দীগ্রামে মমতার জয়ের কথা জানিয়েছিল। খবরে বলা হয়, ১৭ রাউন্ড ভোট গণনার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে জয়ী হয়েছেন বলে খবর আসে। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতে মমতার জয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বলা হয়, সার্ভারে সমস্যার জেরে সঠিক ভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না। তার পরেই ১৬২২ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের খবর আসে। এর আগে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছিল, ১২০২ ভোটে নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন মমতা। সার্ভারের ত্রুটির জেরে দুপুরে এমনিতেই চল্লিশ মিনিট ভোট গণনা বন্ধ ছিল সেখানে। তার পর মমতার জয়ের খবর সামনে আসার পরও কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। তবে কমিশনের তরফে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে বিজেপির রথযাত্রা থামিয়েছিলেন লালু প্রসাদ যাদব। ১৯৯০ সাল। ব্যাক টু ২০২১। তিনি এক পায়েই থামিয়ে দিলেন মোদি শাহর বিজয়রথ। ভাঙা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই জয় করে নিলেন বঙ্গ। আর এই বঙ্গ জয়ের সঙ্গেই গোটা দেশের অন্যতম বিরোধী মুখ হয়ে উঠলেন মমতা ব্যানার্জি। একথা এক প্রকার ঘোষণাই করে দিলেন বাংলায় তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। স্পষ্টই বললেন, ‘কংগ্রেস নয়, এই ভোটে জিতে গোটা দেশের প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ মুখে সরাসরি না বললেও কেজরি, পাওয়ারদের মতো দেশের বাকি বিরোধী নেতারাও এদিন টুইট করে সেই ইঙ্গিতই কিন্তু দিয়ে রাখলেন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসেন নরেন্দ্র মোদি। প্রথম থেকেই সরাসরি মোদির বিরোধিতা করে গিয়েছেন মমতা। বারবার তাঁর বিরুদ্ধে মেরুকরণ, সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছেন। বারবার বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। এমনকী ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ভোটে জিতে বিরোধী জোটই সরকার গড়বে। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে মমতা তাতে দমেননি। কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ করেই গিয়েছেন আঞ্চলিক দলগুলোকে।
এবার মমতার পাশেও এসে দাঁড়িয়েছেন বিরোধীরা। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রার্থী দেয়নি উদ্ধবের শিবসেনা, লালু প্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দল, অখিলেশের সপা। প্রথমে শোনা গেছিল বামেদের সঙ্গে জোটে যাবে রাজদ। তাঁদের আসন ছাড়া হলেও পরে জোটে যোগ দেননি তেজস্বী যাদব। উল্টে নবান্নে মমতার সঙ্গে দেখা করে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। অখিলেশ যাদব প্রচারের জন্য পাঠিয়েছেন তাঁর দলের সাংসদ জয়া বচ্চনকে।
এসবের থেকে একটি বষয় স্পষ্ট, মমতার বিরোধীদের জোট বাঁধার ডাকে সাড়া দিয়েছেন সব বিরোধী নেতারাই। আর এ বিষয়ে তাঁরা অনেকটাই ভরসা রাখছেন মমতার ওপর। তাই বারবার তাঁর ডাকে বসেছেন বৈঠকে। দেশের এই বিরোধী জোটের কাছে তাই এদিনের নির্বাচনের ফলাফল আশার আলো দেখাচ্ছে। এই ফলকে সামনে রেখে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি–র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চায় আঞ্চলিক দলগুলো। যারা নিজেদের দুনিয়ার সবথেকে বড় দল বলে, সেই বিজেপি–র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চায় তাঁরা। আর এক্ষেত্রে মমতাই তাঁদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তা এক প্রকার স্পষ্ট জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
এদিন রাজ্যের ভোটগণনার সঙ্গে সঙ্গেই একের পর এক শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন শারদ পাওয়া, অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা, অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তীব্র কটাক্ষ করেছেন মোদিকেও। বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে বাকি বিরোধী দলগুলোও রুখে দাঁড়াবে। যেমন আজ দাঁড়িয়েছেন ‘?বাংলার নিজের মেয়ে’?।

চীন-রাশিয়ার টিকা দেশেই উৎপাদন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনার টিকা সঙ্কটের মুহূর্তে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে দেশেই টিকা উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। ভারতের সেরাম থেকেস টিকা আসা বন্ধ হয়ে যাবার পর বেক্সিমকোর সিইও নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন এবার সরকারকেই শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে সেরাম তাদেরকে টিকা সরবরাহ করে। কারণ অগ্রিম টাকা নেয়ার পর এখন টিকা পাবার অধিকার রয়েছে। তারপরও টিকা আসার কোন সুসংবাদ নেই। এমন অবস্থায় সরকার বসে না থেকে আন্তর্জাতিক অফারগুলো নিয়ে কাজ করেছে। তার মধ্যে চীন ও রাশিয়ার টিকার প্রযুক্তি নিয়ে দেশেই তা উৎপাদন শুরু করা। ইতোমধ্যে দুই দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে মন্ত্রীসভা বৈঠকে তার আলোকপাত হয়েছে। তবে দেশে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো টিকা উৎপাদনের অনুমতি পাবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে বলে জানা যায়। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এবং চীনের সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন বাংলাদেশে উৎপাদন হবে। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশে রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এবং চীনের সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলোকে ওই দেশের ভ্যাকসিন তৈরির অনুমতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অর্থনীতি সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটিতে রাশিয়া ও চীনের ভ্যাকসিন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহেদা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে সক্ষম দেশীয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুটি ভ্যাকসিন রাশিয়ার গামলেয়া গবেষণা ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি এবং চীনের সিনোভাক বায়োটেকের মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর করার মাধ্যমে উৎপাদিত হবে।

মামুনুলের ৬ কোটি লেনদেন
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : হেফাজতে ইসলামের অর্থ জোগানদাতা ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আসা এই অর্থের উৎস খোঁজা হচ্ছে। কারা তাকে এত টাকা দিয়েছেন তাদের ব্যাপারে তথ্য নেয়া হচ্ছে। গত এপ্রিল ১৮ মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৫ এপ্রিল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামুনুলের সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৫ সালে পাকিস্তান সফরের সময় মামুনুল ও তার শ্যালক নিয়ামাতুল্লাহ ওই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সময়ে এই দুজন পাকিস্তানে প্রায় ৪৫ দিন অবস্থান করেন এবং একটি রাজনৈতিক দলের কাঠামো সংগ্রহ করেন। যেটি মামুনুল পরে হেফাজতে প্রয়োগের চেষ্টা করেন। মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি জানা গেছে বলেন হারুন অর রশিদ।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা বলছে, হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে বহু আগেই ষড়যন্ত্র করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতেই সাবেক আমির আল্লামা শফীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে মামুনুল হক, জুনায়েদ আল হাবিবসহ কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে আল্লামা শফীকে সরিয়ে বাবুনগরীকে আমির করার পরিকল্পনা হয়। প্রসঙ্গত, হেফাজতে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। সংগঠনটিতে দুটি ধারা স্পষ্ট। একটির নেতৃত্বে বাবুনগরী। অন্যটি আহমদ শফির ছেলে আনাসকে ঘিরে বলয় তৈরি করে রেখেছে। এই অংশটি বাবুনগরীর নেতৃত্ব মানেন না। ২৬ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সম্প্রতি নাশকতার অভিযোগে ঢাকাসহ সারাদেশে বেশ কিছু মামলা রুজু হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতের শাপলা চত্বরে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতা নাশকতার ঘটনায় মোট ৫৩টি মামলা দায়ের হয়। মোট ৬৪টি মামলা তদন্তাধীন আছে। এ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। তাদের দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে রোববার হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের আলোচিক নেতা মামুনুল হককে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর তাকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত সোমবার শাপলা চত্বর ও বাইতুল মোকাররমে সহিংসতার মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

মৃত্যুর হাত ধরে ছুটছে মানুষ
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : করোনা সংক্রমণের নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে কারো কোন ভাবনা নেই। ঈদ শপিং করতে ছুটছে মানুষ। মূলত মৃত্যুর হাত ধরেই মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমাবার করোনার মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিলো ১০১ জন। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই অবস্থা। তারপরও মানুষ ঈদের বাজার করতে মার্কেটে মার্কেটে ছুটছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। দেশব্যাপী চলমান লকডাউনের মধ্যে শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেওয়ার গতকাল সোমাবার ছিলো দ্বিতীয় দিন। তবে মানুষের ভিড়ে রাস্তায়, ফুটপাথে হাঁটা যায় না। ইমিটেশনের নাক ফুল থেকে শুরু করে সামান্য নেপকিন কেনার জন্যও অনেকে পরিবারের শিশুদের নিয়ে মার্কেটে বের হয়েছেন। এমন দৃশ্য গতকাল রাজধানীর গাউছিয়া এলাকায় দেখা গেছে। মার্কেটে যাবার সময় ‘মুভমেন্ট পাস’ লাগার কথা থাকলেও বাস্তবে কারো কোন সমস্যা হচ্ছে না। গতকাল সোমবার ছিলো রাজধানীতে স্মরণকালের ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা। আজ মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তামপাত্রা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। এমন অবস্থায়ও মানুষ ঘরে থাকছেন না। অনেকে একবার সকালে আবার সন্ধ্যায় বের হচ্ছেন। মানুষ মূলত ঈদের কেনাকাটা করতে বের হচ্ছেন। সে কারণেই ক্রেতাদের সমাগম বেশি হচ্ছে। এত লোক সমাগমের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে সব চ্যালেঞ্জ। শপিংমলগুলোর কিছু দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেককেই মাস্ক না পরতে কিংবা থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। কেবল কিছু মার্কেটের প্রবেশপথে হাত স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে দোকানগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো যথেষ্ট জায়গাও নেই’। প্রথম দিনের চেয়ে গতকাল ভিড় অনেকটা বেড়েছে। সামনে গণপরিবহন খুলে দেওয়া হলে এই ভিড় আরও বাড়বে। কারণ, এখন শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা রিকশা বা অটোরিকশায় করে ক্রেতারা শপিংমল ও দোকানে আসছেন। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা থেকে দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১০টা-বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সর্বশেষ গতকালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সময় আরও বাড়িয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত করা হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুনরায় বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এক সপ্তাহের জন্যে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। পরের দিন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ৯-১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। চলমান বিধিনিষেধ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে গতকাল সোমবার জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাতে সংক্রমণ বাড়বে। এবারের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি।

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ
                                  

আরিফুর রহমান শুভ : ভারতজুড়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এখন আতঙ্ক। সংক্রমণ প্রতিদিন তিন লাখ ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হবার পর বেশি সময় আর মিলছে না। তাকে সরাসরি শশ্মানে নিতে হচ্ছে। ভারতের এনডিটিভি প্রতি মুহূর্তে এমন ‘ব্র্যাকিং নিউজ’ সম্প্রচার করছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারত সীমান্তে চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাঁর সভাপতিত্বে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগে থেকেই ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ দিন মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী যানবাহন চলবে।’ তিনি বলেন, এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করছি’। গতকাল রোববার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক তিন লাখ ৪৯ হাজার ৬৯ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি মেনে কঠোরভাবে, নিয়ম মেনে ভারতের ‘নতুন ভ্যারিয়েন্ট’ থেকে জনগণকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। আজ সোমবার থেকে আগামী ১৪ দিন সিমান্ত পারাপার বন্ধ রাখা হবে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিবিসি, সিএনএন এবং আলজাজিরা গতকাল রোববার দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে করোনার ভয়াবহতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেছে। তাতে দেখানো হয়, ‘বাবা মারা গেছেন। তার কিশোরি মেয়েটি হাসপাতালে মরদেহের বেড ধরে আহাজারি করছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, অক্সিজেন না পাবার কারণেই তার বাবার এমন মৃত্যু হয়েছে। এখন কে নেবে এই দায়িত্ব। পরিবারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছোটভাই আর মাকে নিয়ে সে এখন কি করবে। তার মাও অন্য হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন।’ এমন চিত্র পুরো ভারত জুড়ে। সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা দাঁড়িয়েছে হাসপাতালগুলোতে শতশত রোগি কিন্তু তাদের দেখার মতো কেউ নেই। কে কোথায় মারা যাচ্ছেন তা জানারও কেউ নেই। অন্যদিনে মরদেহ সৎকারে দীর্ঘ লাইন সবখানে। দিনরাত চিতার আগুন জ্বলছে।
ভারতের হাসপাতালে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ৪ জন রোগি ব্যবহার করছেন। কারণ অক্সিজেন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা হবে। গতকাল রোববার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত আপাতত বন্ধ রাখার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা। রোববার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত এক আলোচনা সভার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, আর কোনো বিপর্যয় এড়াতে এখন ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা উচিত। এ বিষয়ে আমাদের মতামত আমরা যথাযথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। যদিও সরকারের ওপরের মহল থেকেই এ সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি আরও বলেন, দেশে ভারতের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি আছে কিনা এমন কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। তবে দেশে নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার কথা গণমাধ্যমেই জেনেছি। ভারতের সঙ্গে আকাশ পথে যোগাযোগ আগেই স্থগিত করা হয়।

হেফাজতকান্ডে জামায়াত-বিএনপি জড়িত
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : পুলিশের রিমান্ডে হেফাজত নেতারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। তারা সারা দেশের ওয়াজ মাহফিল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০১৩ সালে এবং সাম্প্রতিক হেফাজতকান্ডে জামায়াত এবং বিএনপি অনেক নেতা জড়িত রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন তারা। হেফাজতকে ব্যবহার করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চায় তারা। যার মাধ্যমে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান মডেলের সরকার পরিচালনা করবে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা জিজ্ঞাসাবাদের একের পর এক তথ্য দিচ্ছেন। এবার দেশের ওয়াজ মাহফিল কীভাবে হয় তার তথ্য দিলেন তারা। রিমান্ডে থাকা হেফাজত নেতারা জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হেফাজত সারা দেশের ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম তার কার্যালয়ে হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারে ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে গতকাল শনিবার এ তথ্য দেন। এদিকে জানা গেছে, ঢাকা কিংবা জেলা শহরগুলোতে নয়, মফস্বলের মাঠপর্যায়ের হেফাজত নেতারাও গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চারাচ্ছে পুলিশ। তারা আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া হয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রাত কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বরে বিশাল জনসমাগমের পর আবারও সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন উপলক্ষে দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন শুরু করে সংগঠনটি। এর পর থেকে হেফজতের দিকে গভীরভাবে নজরদারি করতে শুরু করে সরকার। আইন প্রয়োগকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ওইসব তাণ্ডবে হেফাজতের যেসব নেতাকর্মীরা ইন্ধন যুগিয়েছে অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের একে একে গ্রেফতার করা হচ্ছে। নাশকতা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে সারা দেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। গত ২৬ মার্চ থেকে হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্টন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারী, হবিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংস ঘটনার সঙ্গে সরাসরি ও নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে সরকার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। একই সঙ্গে ২০১৩ সালে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে যে সহিংসতা হয়েছিল, সেই মামলাগুলোও সামনে এনে জড়িতদের আইনের মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে। চলমান প্রেক্ষাপটে হেফাজতের কোনো কোনো নেতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও সংগঠনটির এখনকার নেতৃত্ব নিয়েই সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতিবাচক মনোভাব বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। তবে সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলাম ও এর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী-সমর্থকের বিষয়ে এখনই বিপরীত অবস্থানে যাওয়ার পক্ষে নয় সরকার। কারণ সরকারের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, সহিংসতা ও সরকারবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে হেফাজতের সবাই জড়িত নয়। হেফাজতের নেতাদের অভিযোগ, এ পর্যন্ত তাদের সংগঠনের আলোচিত নেতা মামুনুল হকসহ ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা এবং মাঠপর্যায়ে শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও নজরদারীতে রয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত নেতা। হেফাজত নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তাদের মাঠ পর্যায়ের নেতারা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। তারা বাড়ি ছাড়া হয়ে একেক দিন একেক জায়গায় অবস্থান করছেন। চলমান পরিস্থিতিতে কোনো রকম জ্বালাও-পোড়াও কিংবা সহিংসতায় না গিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী। গত সোমবার এক বিবৃতিতে বাবুনগরী বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলাম দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস চায় না। হেফাজতে ইসলাম একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপ্রিয় সংগঠন।’ একই দিনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলাম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতায় কোনো কর্মসূচি দেয়নি। সংগঠনের কিছু নেতা ব্যক্তিগতভাবে তাদের বক্তব্যে বিষয়টিকে সামনে এনেছেন।’ ডিবি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিজেদের নেতাকর্মীদের নিয়ে সারা দেশে ‘রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেছে। সেই সংগঠনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে সারা দেশে ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মাহবুব আলম বলেন, হেফাজত নেতাদের বিভিন্ন ওয়াজে নেওয়ার জন্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আয়োজকদের বাধ্য করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পারছে। তাছাড়া মাদ্রাসার গরিব ছাত্রদের ব্যবহার করে হেফাজত নেতারা বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। মাদ্রাসা দখলের মতো অপকর্ম ও অনেকের নারী বিলাসের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। নাশকতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সম্প্রতি ১২টি মামলা এবং ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের সেই ঘটনায় দায়েরকৃত ৫৩টিসহ মোট ৬৫টি মামলার তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির যুগ্ম কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে যোগ দিতে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরকে ঘিরে দেশব্যাপী তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় এখন পর্যন্ত হেফাজতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ১৪ জন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেফতার এসব নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোরআন হাদিস বোঝেন, জানেন- এমন তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে মূলত নাশকতার মূল উদ্দেশ্য কী, কারা করছে, কেন করছে- তা জানার চেষ্টা করছেন তারা।

ঊর্ধ্বমুখি সংক্রমণের আভাস
                                  

সালেহ আহাম্মেদ জুবায়ের : করোনার বর্তমান দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাত্রা আগামী মে মাসজুড়ে বহমান থাকতে পারে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে এর গতি কমবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। জুন মাসের আগে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দল বাংলাদেশ কমো মডেলিং গ্রুপ। বাংলাদেশ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত দলটি গাণিতিক মডেলিং ব্যবহার করে করোনার পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ করোনা পরিস্থিতি বর্তমান অবস্থাতেই থাকবে। তবে জুন মাস থেকে পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গ্রুপের সদস্য ড. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের পূর্বানুমান অনুযায়ী আগামী মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকবে। আমাদের মতে, বাংলাদেশ করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক মাস ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকবে এবং এর দুই সপ্তাহ পর হতে ধীরে ধীরে সংক্রমণ সংখ্যা হ্রাস পাবে।’ ড. ফয়সাল বলেন, ‘মে মাসের আগে হঠাৎ করেই সংক্রমণের হার কমার সম্ভাবনা নেই। তবে করোনায় মৃত্যুর হার নিয়ে বলতে পারছেন না তারা। কেননা, হঠাৎ করেই মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে-কমছে এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অনুমান অনুযায়ী আগামী মে মাসের মধ্যে মৃত্যু সংখ্যা ১২,০০০ ছাড়াবে।’ তিনি জানান, সরকারের কাছে তারা এই গবেষণার তথ্য সরবরাহ করেছেন এবং এই তথ্য বিশ্লেষণে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ভাইরাস সংক্রমণের গতি নির্ভর করে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা বর্তমানে যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, তা যদি মেনে চলতে পারি, তবে আশা করা যায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’ তিনি বলেন, ‘করোনায় মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমান দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে মৃত্যু হার ছিল ১.৫২ শতাংশ এবং বর্তমানে মৃত্যুহার ১.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া মৃত্যু সংখ্যা কমানোর আর কোনো উপায় নেই।’ গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এম এইচ চৌধুরী (লেনিন) বলেন, ‘অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীই শনাক্ত হচ্ছেন না। এসব রোগী নিজের আশপাশে সবার অজান্তেই করোনা ছড়িয়ে যাচ্ছেন।’ এজন্য তিনি করোনা পরীক্ষা সংখ্যা কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন। তিনি বলেন, ‘যখন প্রতিদিন গড়ে ৩৩ হাজার করোনা পরীক্ষা হয়েছে, তখন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার। কিন্তু এখন করোনা পরীক্ষার সংখ্যা ২৫ হাজারের নিচে চলে আসায় গড়ে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজারে। প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে, কিন্তু পর্যাপ্ত পরীক্ষার অভাবে আমরা তা শনাক্ত করতে পারছি না।’ ড. লেনিন মনে করেন, দ্রুত শনাক্ত এবং আইসোলেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বর্তমানে সংক্রমণ ছড়ানো করোনার ভ্যারিয়েন্টগুলো দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অত্যন্ত প্রাণঘাতী। তাই গত বছরের তুলনায় এই বছর করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলে মনে করছেন তিনি। ‘বর্তমানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ভাইরাস টাইপটিতে আক্রান্ত রোগীদের অবস্থা খুব দ্রুত অবনতি হয়। তাদেরকে সঠিক সময়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা না গেলে, তাদের অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বহমান
                                  

সাঈদ আহাম্মেদ খান : সরকারী তরফ থেকে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, করোনার নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট এখন দেখা দিয়েছে তা অতি ভয়াবহ। এর মাধ্যমে ব্যাপকহারে তরুণরা আক্রান্ত হচ্ছে। সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মনে চলাই একমাত্র উপায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বয়স্করা এর কারণে মৃত্যুর দিকে ধাবমান। কারণ ফুসফুস সংক্রমিত হবার কারণে রোগটি প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে। করোনার নতুন ধরন ও মিউটেশনের কারণে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। গতকাল বুধবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল নতুন করে যোগ হয়েছে। হাসপাতালটিতে ইতোমধ্যে ১৩৮ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। যারা নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন, তারাই শুধু এই হাসপাতালে যাবেন। আর যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে কোথাও চিকিৎসাধীন, তারা এখানে এসে ভিড় জমাবেন না। তিনি বলেন, করোনায় ষাটোর্ধ্বরাই বেশি মৃত্যুবরণ করছে এবং তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের রোগীরাই বেশি। তবে করোনার নতুন যে ধরন এসেছে, তাতে তরুণরাও ব্যাপক হারে আক্রান্ত হচ্ছে। সুতরাং জটিল রোগে আক্রান্ত বা আক্রান্ত নয়, এটা দেখার কোনও সুযোগ নেই। সবাইকেই সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংক্রমণটা কমতে শুরু করেছে। তবে মৃত্যুটা বাড়ছে, যার কারণ বেপরোয়া চলাচল। দেশে এখন কঠোর লকডাউন চলছে। আশা করছি আগামী দুই সপ্তাহ পরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমে যাবে। দেশে এখনও ১২০০ শয্যা খালি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে শয্যা খালি নেই। এ তথ্যটি ভুল। এমআইএসে যোগাযোগ করলেই কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা, আইসিইউ ও আইসিইউ সমতুল্য শয্যা খালি আছে জানতে পারবেন।

টিকা দেশেই উৎপাদন হবে
                                  

কূটনৈতিক রিপোর্টার : দেশে করোনার টিকা কর্মসূচি যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেরাম বাংলাদেশকে চুক্তি মোতাবেক কোন টিকার চালান আর দিতে পারছে না বা তারা কবে দিতে পারবে তা নিয়ে পরিস্কার কোন বক্তব্যও নেই। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিকার সঙ্কট তৈরি হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে ভারতে করোনার ভয়াবহতা বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন করোনার ‘ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট’ ছড়িয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ফলে ভারত তার দেশের জন্য টিকা মওজুদ করছে। তারা ১৮ বছর বয়স থেকে সব নাগরিকদের জন্য টিকা বরাদ্দ করছে। ফলে বাংলাদেশে সেরামের টিকার চালান কবে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালগুলোর সঙ্গে মিলে করোনার টিকা ‘স্পুটনিক ভি’ উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন গতকাল বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে একমত হয়েছি, যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী রাশিয়া টেকনোলজি হস্তান্তর করবে আর বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিকালগুলো ‘স্পুটনিক ভি’ টিকা উৎপাদন করবে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে তাহলে এটা হবে স্বল্পমূল্যের এবং তুলনামূলক অনেক ভালো হবে।’ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বেক্সিমকোর মাধ্যমে চুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদার অজুহাত তুলে ভারত সরকার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ অবস্থায় দেশে যেন টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত না হয়, সে জন্য অন্য উৎস থেকে টিকা আনতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কথাও বলেছেন। রাশিয়ার প্রযুক্তি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিকার উৎপান শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সম্প্রতি ভারত রাশিয়ান স্পুটনিক ভি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পরায় টিকার অপ্রতুলতার কারণে এই অনুমোদন দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রী চীনের ভ্যাকসিনের বিষয়ে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদন না থাকায় বাংলাদেশ এর আগে চীনের ভ্যাকসিনের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা ভ্যাকসিনটি পেতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও চীন বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যেই তাদের ভ্যাকসিনটি অন্যান্য দেশে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় ডিসেম্বরের আগে তারা আর কোনও ভ্যাকসিন রপ্তানি করতে পারবে না। পাশাপাশি, সম্প্রতি বিশ্ব-ব্যাংক কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে আগামী মাসে ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেবে বলে জানিয়েছে। আমরা কোভ্যাক্সের আওতায় ওই ভ্যাকসিনগুলো পাব বলে আশাবাদী।
২১ জানুয়ারি, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম চালান আসে। পাশাপাশি ভারত তার নেইবারহুড প্লাস পলিসির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পাঠায়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে উপহার স্বরূপ আরও ১.২ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পায়।
চুক্তির আওতায়- সিরামের প্রতি মাসে বাংলাদেশের ৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ৫ মিলিয়ন ডোজের প্রথম চালানটির পর ঢাকা দ্বিতীয় চালানটি পায়নি। মার্চ মাসে এই চালানটির আসার কথা ছিল। মোমেন বলেন, ভারত আমাদের জানিয়েছে যে- তারা ভ্যাকসিন পাঠাবে। তারা কখনোই বলেনি যে- তারা ভ্যাকসিন পাঠাতে পারবে না।
ভারতে আশ্বাসে ঢাকার আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তির সময়সীমার মধ্যেই আমরা ৩০ মিলিয়ন ডোজের সব ভ্যাকসিন পাব বলে ঢাকা আশাবাদী। মন্ত্রী বলেন, যদিও ঢাকা আশংকা করছে যে- ভারতে উৎপাদিত ভ্যাকসিন তাদের নিজ দেশের টিকার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ও বিদেশি দেশের সঙ্গে টিকা প্রদানে তাদের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। তিনি আরও বলেন, তারা সামর্থ্যের চেয়ে বেশি অর্ডার (ক্রয়আদেশ) নিয়ে ফেলেছে।


   Page 1 of 37
     আজকের পত্রিকা
চরম ভোগান্তির পর ফেরি চালু
.............................................................................................
দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ ফ্লাইটে ছুটছে মানুষ
.............................................................................................
প্রাণঘাতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে
.............................................................................................
দেশে করোনার মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে
.............................................................................................
দেশে অর্ধেক আইসিইউ খালি
.............................................................................................
করোনায় একদিনে ৬৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৭৩৯ জন
.............................................................................................
শিবচর ট্র্যাজেডি, নিহত ২৬
.............................................................................................
ক্ষমতায় মমতা না শুভেন্দু!
.............................................................................................
চীন-রাশিয়ার টিকা দেশেই উৎপাদন
.............................................................................................
মামুনুলের ৬ কোটি লেনদেন
.............................................................................................
মৃত্যুর হাত ধরে ছুটছে মানুষ
.............................................................................................
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ
.............................................................................................
হেফাজতকান্ডে জামায়াত-বিএনপি জড়িত
.............................................................................................
ঊর্ধ্বমুখি সংক্রমণের আভাস
.............................................................................................
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বহমান
.............................................................................................
টিকা দেশেই উৎপাদন হবে
.............................................................................................
রোগির জীবন নিয়ে শঙ্কিত থাকছেন স্বজনরা
.............................................................................................
মামুনুল নাটকিয়ভাবে গ্রেফতার
.............................................................................................
টানা দ্বিতীয় দিনেও শতাধিক মৃত্যুর বিভীষিকা
.............................................................................................
করোনায় একদিনে শতাধিক মৃত্যু
.............................................................................................
কঠোর লকডাউন কাল শুরু
.............................................................................................
আতঙ্ক আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট
.............................................................................................
করোনার অশনি সংকেত
.............................................................................................
কঠোর লকডাউনের পথে দেশ
.............................................................................................
হাসপাতালে সিট নেই, রাস্তায়-বাজারে মানুষের ভিড়
.............................................................................................
করোনায় একদিনে নতুন আক্রান্ত ৭০৭৫, মৃত্যু ৫২ জনের
.............................................................................................
শীতলক্ষ্যায় ২৮ লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ৫৩ জনের, শনাক্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে
.............................................................................................
আজ থেকে লকডাউন
.............................................................................................
কাল থেকে দেশব্যাপি লকডাউন
.............................................................................................
করোনার অবিরাম রেকর্ড
.............................................................................................
অবৈধ বিদেশিদের অপরাধ রাজত্ব
.............................................................................................
দুদক নিজেই এবার কাঠগড়ায়
.............................................................................................
আন্তরিক পরিবেশে হাসিনা-মোদি বৈঠক
.............................................................................................
শান্তি-সমৃদ্ধির দক্ষিণ এশিয়া গড়ুন
.............................................................................................
ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানাই : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
হুজি’র জঙ্গি প্রশিক্ষণে শিশু মাদ্রাসা
.............................................................................................
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যে ৬ সমঝোতা স্মারক সই
.............................................................................................
প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘মুজিব চিরন্তন’ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান
.............................................................................................
জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণিল সূচনা
.............................................................................................
আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী
.............................................................................................
গুলিতে দুইদিনে নিহত ৪৪
.............................................................................................
মিয়ানমারে আরও ৭ লাশ
.............................................................................................
মডেল স্বর্ণার রিমান্ড নামঞ্জুর জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে
.............................................................................................
পাঁচ রাষ্ট্রনেতারা আসছেন
.............................................................................................
প্রেষণের শাসনে দুদক
.............................................................................................
দেশের ইমেজ নষ্ট হলে জামিন নয়
.............................................................................................
‘আমাদের আর দাবায়ে রাখতে পারবা না’
.............................................................................................
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তিতে বাংলাদেশ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop