ঢাকা,বৃহস্পতিবার,৩১০ ভাদ্র ১৪২৮,১৩,মে,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > সাধারণ মানুষকে অবাক করে খাবার তুলে দিচ্ছেন ইউএনও তানভীর   > করোনা ভাইরাসের মধ্যেও দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী শামীম   > শ্রীনগরে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগ   > গাইবান্ধায় বেড়েছে কাউন চাষ   > সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার   > সিলেটে আতিকুর রহমানের সমর্থনে দক্ষিণ সুরমা জাতীয় পার্টির কর্মীসভা   > অপরিপক্ক ফলে ঝালকাঠির বাজার সয়লাব   > বান্দরবানে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দু:স্থ ও অসহায়দের উপহার দিল শ্রমিক লীগ   > অনুশীলনে বাধা নেই টাইগারদের   > বলিউড সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে যা বললেন নানি  

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী তারা প্লট কেনেন। ভালো ভালো দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর বানান। যখন পূর্বাচল শুরু হলো, তখন আমি দেখেছি.. এমনকি গুলশান, বারিধারায় বিশাল বিশাল অট্টালিকাও যাদের, তাদেরও পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না। এই রকমও কিছু কিছু মানুষের মানসিকতা আমি দেখেছি। গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অবশিষ্ট মূল অধিবাসী ও সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত একহাজার ৪৪০ জনের মধ্যে প্লট বরাদ্দ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত সম্পদ গড়ার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, যাদের এত বিশাল বিশাল অট্টালিকা, বাড়িঘর ফ্ল্যাট সবই আছে, তাদের আরো লাগবে কেন? মরলে তো সবাইকে যেতে হবে সেই কবরে- মাত্র তিন হাত-সাড়ে তিন হাত জায়গায়। এই ধনসম্পদ কেউ সাথে নিয়ে যেতে পারবে না। এই কথাটা মানুষ কেন ভুলে যায় আমি জানি না। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পূর্বাচলে জাতির পিতার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটা প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব এলেও তাতে সায় দেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ফাইলে আমি লিখে দিয়েছিলাম, এখানকার যারা আদিবাসী তারা প্লট পাবে। তারপর আমি এ প্রকল্পের অনুমোদন দেব। তার আগে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেব না এবং কীভাবে প্লট বের করবে সেটা যেন মন্ত্রণালয় বা রাজউক খুঁজে বের করে। সেই নির্দেশনাটাই আমি দিয়েছি। রোববার প্লট বরাদ্দ পাওয়াদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু যাদের সত্যিকার প্রাপ্য, আপনারা কিন্তু বঞ্চিত ছিলেন। কাজেই আমার সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল যে কীভাবে আপনাদের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেব। আপনারা জমি দিয়েছেন, অথচ আপনারা প্লট পাবেন না এটা হতে পারে না। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমদ অধিবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে প্লটের বরাদ্দপত্র তুলে দেন।

পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না: প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী তারা প্লট কেনেন। ভালো ভালো দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর বানান। যখন পূর্বাচল শুরু হলো, তখন আমি দেখেছি.. এমনকি গুলশান, বারিধারায় বিশাল বিশাল অট্টালিকাও যাদের, তাদেরও পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না। এই রকমও কিছু কিছু মানুষের মানসিকতা আমি দেখেছি। গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অবশিষ্ট মূল অধিবাসী ও সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত একহাজার ৪৪০ জনের মধ্যে প্লট বরাদ্দ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত সম্পদ গড়ার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, যাদের এত বিশাল বিশাল অট্টালিকা, বাড়িঘর ফ্ল্যাট সবই আছে, তাদের আরো লাগবে কেন? মরলে তো সবাইকে যেতে হবে সেই কবরে- মাত্র তিন হাত-সাড়ে তিন হাত জায়গায়। এই ধনসম্পদ কেউ সাথে নিয়ে যেতে পারবে না। এই কথাটা মানুষ কেন ভুলে যায় আমি জানি না। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পূর্বাচলে জাতির পিতার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটা প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব এলেও তাতে সায় দেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ফাইলে আমি লিখে দিয়েছিলাম, এখানকার যারা আদিবাসী তারা প্লট পাবে। তারপর আমি এ প্রকল্পের অনুমোদন দেব। তার আগে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেব না এবং কীভাবে প্লট বের করবে সেটা যেন মন্ত্রণালয় বা রাজউক খুঁজে বের করে। সেই নির্দেশনাটাই আমি দিয়েছি। রোববার প্লট বরাদ্দ পাওয়াদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু যাদের সত্যিকার প্রাপ্য, আপনারা কিন্তু বঞ্চিত ছিলেন। কাজেই আমার সব সময় একটা প্রচেষ্টা ছিল যে কীভাবে আপনাদের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেব। আপনারা জমি দিয়েছেন, অথচ আপনারা প্লট পাবেন না এটা হতে পারে না। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমদ অধিবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে প্লটের বরাদ্দপত্র তুলে দেন।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ফেরি ভর্তি যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সের ঠাঁই নেই
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : হাজারো যাত্রী নিয়ে গতকাল শনিবার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে গেছে পৃথক ৩টি ফেরি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে ফেরি কুঞ্জলতা ছেড়ে যায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রো-রো ফেরি এনায়েতপুরী ও পৌনে একটার দিকে শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রো-রো ফেরি শাহপরান। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, অ্যাম্বুলেন্স বহন করে ফেরিগুলো শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে গেছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী ও লাশ বহনকারী কিছু যাত্রী তো রয়েছে। তিনি বলেন, এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। এদিকে, শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভোর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের যাত্রী সাধারণ শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় করতে থাকে। ভোর থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন তারা। এদের মধ্যে অনেকেই ফেরির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অবস্থান করতে থাকেন। আবার কেউ কেউ ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন। তবে সকাল ৯টার দিকে ফেরি কুঞ্জলতা অ্যাম্বুলেন্স বোঝাই করে বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তাতে শত শত যাত্রীকে পদ্মা পাড়ি দিতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকেও রো-রো ফেরি এনায়েতপুরীতে ঘরমুখী যাত্রীর গাদাগাদি অবস্থান দেখা গেছে।
মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে পৌনে একটায় ফেরি শাহপরান ছেড়ে গেলে তাতেও শত শত যাত্রীর উপস্থিতি দেখা গেছে।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহমেদ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফেরি ছেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, বেশ কিছু লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ছিল।
তা ছাড়া জরুরি কয়েকটি যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে অবস্থান করছিল। সেগুলো পারাপারের জন্যই ফেরি ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ঘরমুখো দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের চাপ ছিল ঘাটে। সড়কে তো কেউ যাত্রীদের আটকাচ্ছে না। কাজেই ঘরমুখো মানুষ শিমুলিয়া ঘাটে আসছেই। অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীরা ফেরিতে উঠলে তো আটকে রাখা যায় না। কাজেই লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ফেরিতে অসংখ্য যাত্রী উঠে পদ্মা পাড়ি দিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন জারি, লকডাউন বাড়ল ১৬ মে পর্যন্ত
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরও ১১ দিন বাড়ল। আগামী ১৬ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ঈদের ছুটিতে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মস্থলে থাকতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে জেলার মধ্যে বাস চলবে। তবে বন্ধ থাকবে আন্তঃজেলা গণপরিবহন। এ ছাড়া আগের মতো ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ থাকবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে সাতদিন করে দু-দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ শেষ হবে গতকাল বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে। আগের মতোই লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। এ ছাড়া জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া যথারীতি সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সীমিত পরিসরে ব্যাংকে লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ৬টি শর্ত যুক্ত করে ৫ মে মধ্যরাত থেকে ১৬ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপের সময় বাড়ানো হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। শর্তগুলো হলো-
১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের ছুটিতে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে (অধিক্ষেত্রে) অবস্থান করবেন।
২. দোকানপাট/শপিংমল আগের মত সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সকল দোকানপাট ও শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দোকানপাট শপিংমল তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে।
৩. আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে বুধবারের পর যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। উল্লেখ্য ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে।
৪. মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।
৬. কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর, পৌরসভা এলাকায় বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/পৌরসভা মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া জেলার মধ্যে বাস চলাচল এবং আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে আদালতের সম্মতি লাগবে-এজি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার গত সোমবার সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় তার দল ও পরিবার চাচ্ছে তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে।রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) এএম আমিনউদ্দিন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যেতে হলে আদালতের সম্মতি লাগবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। এখন এটা (বিদেশ নিতে) করতে গেলে আদালতে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, ওনার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসা কতটুকু প্রয়োজন। বাংলাদেশে কী আছে, না আছে, সবকিছু দেখে সরকার বিবেচনা করবে। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, যদি আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হয়, তাহলে সরকার আদালতে আসবে। কারণ এটা তো সরকারি আদেশ, সরকারই এটা ঠিক করবে। এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চায় তার দল ও পরিবার। তার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের অন্যান্যদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তীতে জানানো হবে। জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম সোমবার দিবাগত রাতে বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত কোনো আবেদন এখনো করা হয়নি। দলের চেয়ারপারসনের জন্য দোয়া চেয়ে মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মহান মে দিবস ২০২১ উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নিশ্চয়ই সবাই উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে। দলের নেতাকর্মীরা এখনও উদ্বেগের মধ্যে আছেন দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থা কী রকম এ নিয়ে। আপনারা সবাই শুনেছেন যে, গতকাল (৩ মে) তার একটু শ্বাসকষ্ট হওয়ায় সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে। এখনও তিনি সিসিইউতে আছেন। অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এখন তিনি স্থিতিশীল আছেন। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইছি। শুধু দল নয়, সমগ্র জাতি আজকে প্রার্থনা করছেন, দোয়া করছেন। এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের শেষ আশ্রয়স্থল, যাকে গণতন্ত্রের একমাত্র প্রহরী বলা যায়, তিনি যেন অতি দ্রুত সুস্থতা লাভ করেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৪ দিন পর আবার পরীক্ষা করা হলে তখনও তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

১৬ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ট্রেন-লঞ্চ জেলায় চলবে গণপরিবহন
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : লকডাউনের বিধিনিষেধ চলমান থাকবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত । আগামী ৬ মে থেকে জেলার ভেতরে গণপরিবহন চলাচল করবে। তবে এসময়ে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। দূর পাল্লার বাস চলাচল করবে না। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। সচিব আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে দূরপাল্লার বাস ও জরুরি সেবা খাত ছাড়া সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সীমান্ত। এ ছাড়া গার্মেন্টসসহ শিল্পকারখানা তিন দিনের বেশি ছুটি দেওয়া যাবে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানান,বিধিনিষেধ চলাকালে দোকানপাট ঈদ পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয়,তবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত অমান্য করলে জরিমানা করা হবে বলেও জানান তিনি। সচিব আরও বলেন,আজকের মন্ত্রিসভার এ সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তারপর অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত এলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছিলেন,‘জেলার ভেতরে গণপরিবহণ চলতে পারে। কিন্তু জেলা থেকে জেলায় গণপরিবহণ চলার মতো পরিবেশ ও পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।’ এ সময় স্বাস্থ্যের ডিজি আরও বলেন,‘করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে দেশে লকডাউন চলছে। এপ্রিল মাসে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি থাকলেও এখন কিছুটা কমে আসছে।’ করোনা নিয়ন্ত্রণে আরও কিছুদিন গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রথমবার ৫ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। পরে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে দুই দফায় ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে দোকানপাট ও শপিং মল খোলাসহ বেশকিছু বিষয়ে বিধিনিষেধের শর্ত শিথিল করে সরকার।

মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’র মোড়ক উন্মোচন করলেন তথ্যমন্ত্রী
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘গণমাধ্যমের অপরিসীম শক্তি যার মুখে ভাষা নেই তাকে যেনো ভাষা দিতে পারে, যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে তাকে স্বপ্ন দেখাতে পারে, যার কাছে ক্ষমতা নেই, তাকে ক্ষমতাবান করতে পারে’। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গীতিকবি মিজান মালিকের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘মন খারাপের পোস্টার’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চান। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম যেমন স্বাধীন এবং মুক্তভাবে কাজ করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা অবশ্যই একটি উদাহরণ একইসাথে অনেক উন্নত দেশের তুলনায়ও এদেশের গণমাধ্যম মুক্ত। বাংলাদেশে কোনো পত্রিকায় যদি ভুল সংবাদ পরিবেশিত হয়, তার প্রতিবাদ জানালে সংবাদটা যে মাত্রায় পরিবেশিত হয়েছিল প্রতিবাদটা সেই মাত্রায় ছাপানো হয় না। এদেশে ভুল, অসত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য পত্রপত্রিকার কোনো জরিমানা গুণতে হয় না, যেটি উন্নত দেশে গুণতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে কোনো ভুল, সংবাদ অসত্য সংবাদ বা কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, হস্তক্ষেপ হয়েছে এমন সংবাদ পরিবেশিত হলে কেউ যখন আইনের আশ্রয় নেন, তাদেরকে জরিমানা গুণতে হয়। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না, নিয়মিতই সেটি হয়।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ সালে যুক্তরাজ্যে পৃথিবীর একসময়কার সবচাইতে বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক নিউজ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড -এ একটি অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক বছর আগে বিবিসিতে একজন এমপির বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে বিবিসির পুরো টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। আমাদের দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটে না।’
মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বহুমাত্রিক সমাজের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ সম্ভবপর নয়, সে বিশ্বাসেই আমাদের সরকারের হাত ধরে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারের যাত্রা শুরু হয়েছে, যেটি আগে ছিল না।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার বিষয়ে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংগঠনের বিরূপ মন্তব্যের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের ও বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম নিয়ে যে সমস্ত সংগঠন বিবৃতি দেয় তাদের সাথে একমত হবার কারণ নেই। তারা নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। আমাদের কাছে বা তথ্য কমিশনের কাছেও কোনো তথ্য চায় না। তাদের ঢালাও মন্তব্য ঠিক নয় এবং আমরা এগুলোর সাথে একমত নই।’
ড. হাছান বলেন, ‘পৃথিবীতে আগে ডিজিটাল বিষয়টা ছিল না অর্থাৎ ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও যখন ছিল না, তখন সেখানে নিরাপত্তার জন্য কোনো আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। যখন সেটি এসেছে তখন আইনেরও অবশ্যই প্রয়োজন আছে। সেই কারণে বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তানসহ পৃথিবীর প্রায় সব উন্নত দেশে এ ধরণের আইন করা হয়েছে।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল সিকিউরিটির জন্য সাইবার সিকিউরিটি ২০১৫, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৯ ফ্রেমওয়ার্ক ল’ করেছে, যেটির অধিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেম্বার স্টেটরা প্রত্যেকে আবার নিজেরা আইন করেছে। অস্ট্রেলিয়া সাইবার ক্রিমিনাল অ্যাক্ট ২০০১, সিঙ্গাপুর সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ করা হয়েছে, পাশাপাশি আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, নেপাল সবদেশেই ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আইন করা হয়েছে, জানান ড. হাছান। মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সারাদেশে সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। একজন সাংবাদিক, লেখক, কৃষক, গৃহিনী, সাধারণ মানুষ, রিক্সাওয়ালা, চাকরিজীবী, শ্রমিক, রাজনৈতিককর্মী সবারই ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এই আইন। অনেক সাংবাদিক এই আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করেছেন। সুতরাং এই আইন যুগের প্রয়োজনে, মানুষের প্রয়োজনে, মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এই আইন। এ আইনের অপপ্রয়োগ যেন না হয়, কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের মাধ্যমে হয়রানির স্বীকার না হয়, সেটির সাথে আমি অবশ্যই একমত। গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা কমছে কি না ও নানামুখী চাপের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর বাংলাদেশের মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে, না থাকলে এতো টেলিভিশনও চলতো না, এতোগুলো পত্রিকাও বের হতো না, পাঠকসংখ্যাও বাড়তো না। সম্প্রতি কিছু কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে যেভাবে আসার কথা ছিল সেভাবে আসে নাই বিধায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচন্ড সমালোচনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হয়নি।’
আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা আছে, গণমাধ্যম সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই কাজ করে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অর্থ-বিত্ত-বৈভব-শক্তি-ক্ষমতায় যে যতবড় শক্তিশালীই হোক না কেন, সত্য সংবাদ অবশ্যই পরিবেশিত হওয়া প্রয়োজন, সেটি যার বিরুদ্ধেই হোক। একইসাথে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধুমাত্র নেতিবাচক সংবাদই প্রচার করা নয়, সমাজের সার্বিক চিত্র পরিস্ফুটন করা। এই করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের অভিযাত্রা থমকে দাঁড়ায়নি -এই সাফল্যের গল্পগুলো গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আশা প্রয়োজন। তাহলে জাতি আশাবাদী হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী কবি ও সাংবাদিক মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনকালে বলেন, মানুষ যখন প্রচন্ড আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে, কল্পনা হারিয়ে যাচ্ছে, সেসময় কবিতা এবং কবিতার বই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমি কবিকে ধন্যবাদ জানাই। মিজান মালিক এখনো তরুণ আছেন। তার হাত দিয়ে আরো অনেক কবিতার বই আমাদের সাহিত্য, আমাদের বাংলা ভাষা পাবে, এটিই আমার প্রত্যাশা। ১১০টি কবিতায় সমৃদ্ধ ২৫০ টাকা মূল্যের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন।

গণমাধ্যমের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত দরকার
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ সোমবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২১ উপলক্ষে গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় টিআইবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিগত এক দশকে দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেও একদিকে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক আঁতাত আর অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শৃঙ্খল—মুক্ত সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও স্বাধীন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠেছে। মুক্ত গণমাধ্যম এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহের সাংবিধানিক বাধ্যবাধতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে অবিলম্বে স্বাধীন ও পেশাদার গণমাধ্যমের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানায় টিআইবি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, করপোরেট পুঁজির সুরক্ষায় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় তার অনুমোদনের ফাঁদে, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের পেশাগত ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা ঝুঁকির নতুন সব উদহারণ তৈরি করেছে। কোভিড-১৯ মহামারিকালে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পেশাগত ও অর্থনৈতিক এই ঝুঁকি আরও প্রকট হয়েছে। বহু গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য সাংবাদিক চাকুরিচ্যুত কিংবা পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন নানামুখী চাপ ও বিধিনিষেধের বেড়াজালে সাংবিধানিক এই অধিকার মলাটবদ্ধ নথিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আর মুক্ত গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে যেমন দুর্বল করেছে, তেমনি জনগণের অবাধ ও নিরপেক্ষ তথ্য লাভের অধিকার খর্ব করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমের মালিকানা ব্যবসায়ীদের হাতে। এই ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ‘মিডিয়া ক্যাপচার’ বা ‘গণমাধ্যম জবরদখল’ এখন বলতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। ফলে পেশাদার সাংবাদিকরাও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সুরক্ষায় সংবাদ প্রচার কিংবা গোপন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে ব্যর্থ হচ্ছে; যা মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশই শুধু বাধাগ্রস্ত করছে না, গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটও প্রকট করে তুলেছে। সবশেষ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৫২তম অবস্থান এবং বিশ্ব মতপ্রকাশ প্রতিবেদনে ১৬১টি দেশের মধ্যে ১৩২তম অবস্থান দেশের গণমাধ্যমের নাজুক পরিস্থিতি প্রমাণ করে। বিশেষ করে, গত এক দশকে এই দুই সূচকেই বাংলাদেশের নিম্নক্রমে স্থির অবস্থান কিংবা ক্রমাবনতি পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে নির্দেশ করে।’ ড. জামান বলেন, ‘তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে এবছর বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিপাদ্য- ‘তথ্য জনগণের পণ্য’ (ইনফরমেশন অ্যাজ এ পাবলিক গুডস) হলেও বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে সরকারের একাংশের মানসিকতা হলো ‘তথ্য সরকারি সম্পত্তি’; এর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে এবং সরকার যেভাবে যতটুকু তথ্য প্রকাশ করতে চাইবে ততটুকুই প্রকাশিত হবে, যা জনগণের জানার অধিকার খর্ব করার পাশাপাশি মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে কোভিড ১৯ অতিমারিকালে সাংবাদিকদের তথ্যের অভিগম্যতা এবং মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে প্রতিকূলতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও স্পর্শকাতর প্রতিবেদন প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করেছে। আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গ্যাঁড়াকলে সংবাদ কিংবা তথ্য প্রকাশের দায়ে গণমাধ্যম, সাংবাদিক, লেখক, কার্টুনিস্টদের বিরুদ্ধে মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন এবং কারান্তরীণ অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিশ্রুতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের নামান্তর।

দুই সপ্তাহের আগে দেশে টিকা আসছে না
                                  

কূটনৈতিক রিপোর্টার : করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা আমদানি করতো বাংলাদেশে। কিন্তু ভারতে হঠাৎ করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সেরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে কিছুটা বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে টিকা আমদানির বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের আগে কোনো দেশ থেকে টিকা আসছে না। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মাসুদ বিন মোমেন জানান, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার উদ্যোগ চলছে। তবে প্রক্রিয়া শেষে টিকা আসতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এর আগে দেশে কোথাও থেকে টিকা আসছে না। দেশে টিকা আমদানিতে চীনের উদ্যোগে ৬ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশে টিকা কিভাবে আমদানি করা যায় সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকায় চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা সফর
                                  

কূটনৈতিক রিপোর্টার : সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় পৌঁছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়েই ফেঙ্গহি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেঙ্গিকে স্বাগত জানান। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সংক্ষিপ্ত সফর শেষে বিকালেই আবার শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবার প্রস্তুতি চলছিলো। ঢাকা সফরে এসে ওয়েই ফেঙ্গহি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকা সফরে আসছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে। এর আগে, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের সমন্বয়ে সমুদ্রে যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐ সময় ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে বাংলাদেশ সফর করেন। সূত্র জানায়, চলমান করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন ইস্যু, প্রতিরক্ষা খাত ও এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ চীনের কাছে ভ্যাকসিন বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। আবার দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশ নিয়ে চীনের উদ্যোগে ভ্যাকসিন সহযোগিতা জোটে বাংলাদেশ থাকবে বলে সম্মতি দিয়েছে। তাই এই সফরে ভ্যাকসিন বিষয়ে কোনো বার্তা থাকতে পারে।

বসুন্ধরার এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
                                  

কোর্ট রিপোর্টার : বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) দেশত্যাগের ওপর গতকাল মঙ্গলবার আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। গুলশানের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) নামের এক সুন্দরি তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সায়েম সোবহান আনভীর একজন আসামি। পুলিশ তার দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা মঞ্জুর করেন। তরুণির লাশ উদ্ধার নিয়ে সোমবার গুলশান থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হবার পর পুলিশের কাছে খবর ছিলো তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই সায়েম সোবহান আনভীরের বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গতকাল মঙ্গলবার আবেদনটি করে পুলিশ। এদিকে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, সায়েম সোবহান যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকেও সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর তার লেখা ডায়েরি, সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। মুনিয়ার পরিবারের দাবী দুই বছরের বেশি সময় ধরে আনভীরের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক। গুলশানের ওই ফ্ল্যাটেই আনভীর আসা যাওয়া করতেন। তবে এপ্রিল মাসের একটি ইফতার পার্টিকে ঘিরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই ঘটনা মুনিয়া তার বোনকে ফোনে জানিয়েছিলেন বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে উল্লেখ করেন। এদিকে মামলার এজাহার গ্রহণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম আগামী ৩০ মে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাকে।

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীরের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলাপাড় চলছে, অনেকে তার অতীত কর্মকান্ড নিয়েও মন্তব্য করছেন। এই ঘটনায় দেশি এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিবিসি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। এই মামলার একমাত্র আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় তারা আনভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এ বিষয়ে জানতে সায়েম সোবহান আনভীরের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ থাকায় তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি।
পরিবারের অভিযোগ হত্যাকাণ্ড
মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর গোটা পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার শ্যালিকা মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। দুদিন আগেও তার সঙ্গে কথা বলেছি। আত্মহত্যা করবে এমন কোনো মোটিভ ছিল না। আমাদের মনে হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমরা ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করবো। এসময় মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাড়ির ৩/বি ফ্ল্যাট থেকে এইচএসসি পড়ুয়া মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুনিয়ার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শফিকুর রহমান। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরের উজির দিঘিরপাড় এলাকায়। গুলশান জোনের পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক লাখ টাকা ভাড়ায় দুই মাস আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন মুনিয়া। তবে ফ্ল্যাটে ওই তরুণী একাই থাকতেন। এ ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে গুলশান থানায় মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল ঢামেক মর্গে তরুণীর ময়নাতদন্তের পর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়। গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, সোমবার রাতে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর-২৭। গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বরে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের তরুণীর এক লাখ টাকা ভাড়ায় মাস দুয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে বাদি বোন বলেন, মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাঁরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাঁকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে তাঁর (বাদী নুসরাত) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। এজাহারে আরও বলা হয়, সবশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে প্ররোচিত করেন আসামি। তিনি বাসা ভাড়া নিতে মামলার বাদী নুসরাত ও তাঁর স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তাঁর (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
বাদী নুসরাত এজাহারে বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাঁকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ, দেশে থাকলে আসামির মা বাবা আসামিকে কিছু না করলেও তাঁর বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন। বাদী এজাহারে বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করে বলেন, আনভীর তাঁকে বকা দিয়েছেন। বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রীর বান্ধবী ?পিয়াসা দেখেছেন। তিনি তাঁর (আসামির) মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। এজাহারে বলা হয়, আসামি মোসারাতকে বলেন, তিনি দুবাই চলে যাচ্ছেন, সে যেন কুমিল্লায় চলে যায়। আসামির মা জানতে পারলে তাঁকে (মোসারাত) মেরে ফেলবেন। এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাঁকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাঁকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তাঁর শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাঁকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁর বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাঁরা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন। এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তাঁর আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তাঁরা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তাঁর বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তাঁর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ সূত্র বলছে, আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় মোসারাত মারা যান।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিবিসি’র প্রতিবেদন
ঢাকায় পুলিশ বলছে, গুলশান এলাকায় একজন তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার একটি অভিযোগ নথিভূক্ত করা হয়েছে। মৃত তরুণীর বোন গুলশান থানায় মঙ্গলবার ভোররাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে সায়েম সোবহান আনভীরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মি. আনভীর বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্যের জন্য বিবিসি বাংলা মি. আনভীর এবং বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের তরফ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মৃত তরুণীটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন ছাত্রী ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে কয়েকমাস ধরে তিনি একাই থাকছিলেন। গুলশান অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান ফিরোজ বিবিসিকে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীর বোন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন। সন্ধ্যায় গুলশানের অ্যাপার্টমেন্টটিতে ঢুকে তিনি বোনের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দেখতে পায় যে, মৃতদেহটি সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে। রাতেই মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। রাতে মেয়েটির বড়বোন গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, তাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মি. হাসান বলছেন, মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই তরুণীর সাথে মি. আনভীরের দুই বছর যাবৎ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিবিসির তরফ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। মি. আনভীরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও সকাল থেকে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদের সঙ্গে বিবিসির কথা হয়েছে। তিনি জানান যে তার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে মি. আনভীরকে পাওয়া যাবে না। মি. মোহাম্মদ বলেন, হি ইজ আনঅ্যাভেইলেবল।

মহামারি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে উন্নত বিশ্বের এগিয়ে আসা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার জাতিসংঘ-এসকেপের ৭৭তম অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব পেশ করে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়ন অংশীদারদের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ৭৭তম বার্ষিক জাতিসংঘ-এসকেপ অধিবেশনে প্রচারিত তার ধারণকৃত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পন্থা, দক্ষ নীতি এবং কৌশল নেওয়ার আহ্বান জানান। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকেপ) তিন দিনের ৭৭তম অধিবেশন আজ ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তোরণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের ওপর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে টেকসই প্রত্যাবাসনের দিকে মনোনিবেশ এবং যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি তার প্রথম প্রস্তাবে বলেন, উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএফএস) কোভিড মহামারি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে এগিয়ে আসা উচিত। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পদ্ধতি হওয়া উচিত যেকোনো সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তেরণের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক ও পরিবেশবান্ধব। শেখ হাসিনা তার তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচিত একটি শক্তিশালী ও সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দক্ষ নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা। চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি ও আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মিয়ানমার থেকে ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তচ্যূত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য এই বিষয়ে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি সারাবিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করেছে। প্রায় দুই দশমিক ৯৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে এবং প্রতিদিন আরও হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহামারি অনেক মানুষকে আরও দরিদ্র করে তুলেছে এবং আরও অনেককে দারিদ্র্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯’র সংক্রমণ মোকাবিলায় তার সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি, চাকরি ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের জিডিপির প্রায় চার দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশকে অবাধ ও টেকসই এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত করা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার দিকে গতিপথ নির্ধারণের কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পরিবেশ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।

করোনার তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়াবহ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : করোনার তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সময়মতো সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হয়তো সামনেই কমে যাবে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণ সম্পর্কে সচেতন না হলে সামনে আবার করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে আসবে এবং তৃতীয় ঢেউ আরো ভয়াবহ হয়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণে করোনার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে, দেশের প্রতিটি মানুষকে করোনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গতকাল রোববার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত অনলাইন জুম অ্যাপে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউ আমরা যথেষ্ট দক্ষতার সাথে সামলে নিয়েছিলাম। ফেব্রুয়ারিতে যখন করোনার মৃত্যু ৩/৪ জনে নেমেছিল তখন মানুষ ভেবেছিল করোনা দেশ থেকে চলে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষ অনীহা দেখাচ্ছিল। কক্সবাজার, সিলেটসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ২৫/৩০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ভ্রমণ করেছে। অধিকহারে বিয়ে অনুষ্ঠান, পিকনিকসহ নানা রকম সামাজিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এসব কারণেই করোনার আমাদের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। দিনে প্রায় শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ম্যালেরিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে মাত্র ২টি জেলা বাদে সকল জেলা থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, “ম্যালেরিয়া এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দেশে ২০০৮ সালের তুলনায় এখন ৯৩ শতাংশ ম্যালেরিয়া রোগী কমেছে এবং ৯৪ শতাংশ মৃত্যু কমেছে। দেশের মাত্র ২টি জেলাতে এখন ম্যালেরিয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই দেশ থেকে ম্যালেরিয়া পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে।” সিডিসির পরিচালক ডা. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) জুয়েনা আজিজ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সেনাল, স্বাচিপ-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, গ্লোবাল ফান্ডের প্রতিনিধিরা।

সুরক্ষানীতি না মানলে পরিস্থিতি ভারতের মতো ভয়ঙ্কর হতে পারে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন না করলে বাংলাদেশের অবস্থা ভারতে মতো ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর মোহাম্মদ রোবেদ আমিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পাশের দেশ ভারতে যে ভ্যারিয়েন্ট চলে এসেছে তা অত্যন্ত মারাত্মক। এটির চারদিকে সংক্রমণ ছড়ানোর তিনশ’ গুণ বেশি ক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন না করি, তাহলে আমাদের চিত্র পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে যেতে পারে। রোবেদ আমিন বলেন, ভারতের ভ্যারিয়েন্ট যেন বাংলাদেশে আসতে না পারে সে জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বারবার সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন অবশ্যই ১৪ দিন হতে হবে। এর কমে কোয়ারেন্টিন সম্ভব নয়। কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়, এতে আরও অনেক মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জিনিসটি দেখতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন হলে সবচেয়ে ভালো হয়। যদি তা না-ও হয়, যদি কেউ বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকেন তাহলেও ১৪ দিন কঠোরভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। রোববার থেকে সীমিত আকারে দোকান-পাট, শপিং মল খুলে দেওয়া হয়েছে এবং গণপরিবহন চালুর বিষয়েও সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। এ অবস্থায় জনগণকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। ব্যবসায়ীদের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি মেনে চলতেই হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ করতে হবে, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিনই একমাত্র পথ নয়। ভ্যাকসিন একটি মাত্র পথ। পৃথিবীতে যতগুলো প্রমাণিত বিষয় আছে তার একটি হলো সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। মাস্কের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক প্রমাণ এসেছে। জরুরি প্রয়োজনে টিকা পেতে ছয়টি দেশের সমন্বয়ে একটি ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি টু সাউথ এশিয়া ফোরামে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রীতি ও ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ চীন সরকার বাংলাদেশকে ৬ লাখ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা উপহার হিসেবে প্রদান করবে বলেছে। এখন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমরা দিচ্ছি। এখনো কিছু টিকা পাওয়ার কথা। কিন্তু সেরাম ইনস্টিটিউট তাদের বাধাগত কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের টিকাগুলো দিতে পারছে না।

মে মাসের শুরুতে ২১ লাখ টিকা আসবে-স্বাস্থ্যের ডিজি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের আরও ২১ লাখ টিকা আগামী মে মাসের প্রথম দিকে আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘২১ লাখ টিকার মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ টিকা আনবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। বাকি এক লাখ টিকা কোভ্যাক্স থেকে, ফাইজার উৎপাদিত।’ চীন উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা সিনোভ্যাকের পাঁচ লাখ ডোজ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘চীন সিনোফার্মের তৈরি পাঁচ লাখ ভ্যাকসিন বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেবে। ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিচালক এর অনুমোদন দিয়েছেন। এটা গ্রহণ করা হবে। গ্রহণ করার পর আমাদের যাঁরা নীতি-নির্ধারক আছেন, তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন, কখন কীভাবে প্রয়োগ করা হবে।’ এদিকে, করোনাভাইরাসের টিকা পেতে চীনসহ ছয়টি দেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ‘ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি ফর কোভিড ফর সাউথ এশিয়া’ নামের এই প্ল্যাটফর্মের অন্য দেশগুলো হচ্ছে চীন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

টিকার বিকল্প দেশের সন্ধান চলছে, সেরাম দিচ্ছে না
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, করোনা টিকা সরবরাহে সরকার ও বেক্সিমকো সেরামের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছে। কিন্তু সেরাম এখন টিকা দিতে পারছে না। অন্যদিকে টিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের লাগবেই। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। চীনের সিনোভ্যাক নামে একটি কোম্পানির ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছিলো সরকার? আইসিডিডিআরবির সহযোগিতায় এই ট্রায়াল হবার কথা। কিন্তু হঠাৎ করেই চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ করে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা সরবরাহ ঝুঁকে পড়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারত সরকারের বিরোধিতায় সেরাম বাংলাদেশে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার এবার নতুন করে রাশিয়া কিংবা চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের দিকে ঝুঁকছে। তখন চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিন ট্রায়ালের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রায় সব প্রস্তুতিই শেষ করে এনেছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র। সেজন্য ঢাকার সাত হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছিল- কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বার্ন ইউনিট-১, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট-২। কিন্তু হঠাৎ করে চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা সরবরাহ করে। এখন সেরামের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সংকটের আগেই সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে, ভারত সরকারের বিরোধিতায় সেরাম টিকা পাঠাতে পারছে না। তবে ভারত সরকারের অনুমতি মিললে টিকা রপ্তানি করবে। তারা টিকা দিতে প্রস্তুত। আমরা এখনও মানুষকে টিকা দিচ্ছি, আশা করা হচ্ছে- টিকার সংকট হবে না বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকার বিকল্প উৎস খুঁজতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা রাশিয়া ও চীনের টিকা নিয়ে কাজ করছে।

করোনা ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য ঘোষণা চান শেখ হাসিনা
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক পণ্য আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গত ভাবে ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেকের ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্তৃত্বে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য হিসাবে ঘোষণা করা উচিত। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোকে সার্বজনীন ভ্যাকসিনের কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে অন্যদেরকেও ভ্যাকসিন তৈরি করতে সহায়তা করা উচিত।’ এশিয়ার জন্য বোয়াও ফোরামের সম্মেলনের প্ল্যানারি পর্বে প্রচারিত এবং পূর্বে ধারণকৃত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বিএফএ সম্মেলনে এরাবারের প্রতিপাদ্য ‘এ ওয়াল্ড ইন চেঞ্জ: জয়েন হ্যান্ডস টু ট্রেংদেন গ্লোবাল গভর্নেন্স এন্ড অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কোঅপারেশন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিলগুলিতে আরো বেশি প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। শেখ হাসিনা আরো বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী আমাদের মানবসভ্যতার সন্ধিক্ষণে বিশেষত ইতিহাসের চূড়ান্ত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই মহামারীর আর্থসামাজিক প্রভাব ব্যাপক, যা ক্রমশ প্রকাশিত হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনীতিকে উৎসাহিত করার জন্য আমাদের জিডিপির প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, যা টাকার অংকে ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি।’


   Page 1 of 398
     জাতীয়
পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ফেরি ভর্তি যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সের ঠাঁই নেই
.............................................................................................
প্রজ্ঞাপন জারি, লকডাউন বাড়ল ১৬ মে পর্যন্ত
.............................................................................................
খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে আদালতের সম্মতি লাগবে-এজি
.............................................................................................
১৬ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ট্রেন-লঞ্চ জেলায় চলবে গণপরিবহন
.............................................................................................
মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’র মোড়ক উন্মোচন করলেন তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
গণমাধ্যমের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত দরকার
.............................................................................................
দুই সপ্তাহের আগে দেশে টিকা আসছে না
.............................................................................................
ঢাকায় চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঝটিকা সফর
.............................................................................................
বসুন্ধরার এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
মহামারি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে উন্নত বিশ্বের এগিয়ে আসা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
করোনার তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়াবহ হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
সুরক্ষানীতি না মানলে পরিস্থিতি ভারতের মতো ভয়ঙ্কর হতে পারে
.............................................................................................
মে মাসের শুরুতে ২১ লাখ টিকা আসবে-স্বাস্থ্যের ডিজি
.............................................................................................
টিকার বিকল্প দেশের সন্ধান চলছে, সেরাম দিচ্ছে না
.............................................................................................
করোনা ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য ঘোষণা চান শেখ হাসিনা
.............................................................................................
মামুনুল সাত দিনের রিমান্ডে
.............................................................................................
করোনা দিন দিন ভীতিকর হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
বাঁশখালীতে শ্রমিক পুলিশের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত ৫
.............................................................................................
সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : কাদের
.............................................................................................
রোমান্টিক অভিনেত্রী কবরী পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তলোকে
.............................................................................................
করোনা আক্রান্ত শিল্পী ফরিদা পারভীনের অবস্থা স্থিতিশিল
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর কন্যার নের্তৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে: এনামুল হক শামীম
.............................................................................................
২ লক্ষ টাকা পেলে বেঁচে যাবেন ক্যান্সার আক্রান্ত রাশেদা
.............................................................................................
রমজানে ছয় নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিলো সরকার
.............................................................................................
কোভ্যাক্স থেকে শিগগিরই ৭ কোটি ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ
.............................................................................................
লকডাউনে কর্মহীন পরিবার পাবে ৫০০ টাকা ও খাবার
.............................................................................................
বাবুনগরী মামুনুলসহ ৪৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট
.............................................................................................
রোজার বাজারে ভাজ্যতেল নিয়ে এনবিআর
.............................................................................................
কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে জনকণ্ঠ অফিসে তালা
.............................................................................................
বুধবার থেকে সাধারণ ছুটির আভাস
.............................................................................................
প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মিতা হক করোনায় মারা গেলেন
.............................................................................................
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে রপ্তানি আয়ে আবারো বিপর্যয়ের শঙ্কা
.............................................................................................
প্রণোদনার হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত
.............................................................................................
করোনায় মারা গেলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি
.............................................................................................
করোনায় সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার মারা গেছেন
.............................................................................................
এক বন্দরে রাজস্ব আয় ৫৫৯ কোটি টাকা
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে বাইডেনের দূত কেরি ঢাকায়
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন শেখ হাসিনা
.............................................................................................
আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর
.............................................................................................
সেনাপ্রধান চার ইউনিটকে রেজিমেন্টাল পতাকা দিলেন
.............................................................................................
লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
মামুনুলের ঘটনায় আমার প্রচণ্ড লজ্জা লাগছে: হাছান মাহমুদ
.............................................................................................
এমপি আসলামুল হক আসলাম আর নেই
.............................................................................................
শীতলক্ষায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবি
.............................................................................................
রাজউক শ্রমিক কর্মচারী লীগের নির্বাচন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড়
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের জন্য মেডিকেল সামগ্রী নিয়ে ঢাকায় তুর্কি বিমান
.............................................................................................
সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি ওয়াক্কাস আর নেই
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop