ঢাকা,বৃহস্পতিবার,৩১০ ভাদ্র ১৪২৮,১৩,মে,২০২১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : > সাধারণ মানুষকে অবাক করে খাবার তুলে দিচ্ছেন ইউএনও তানভীর   > করোনা ভাইরাসের মধ্যেও দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী শামীম   > শ্রীনগরে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীকে মারধরের অভিযোগ   > গাইবান্ধায় বেড়েছে কাউন চাষ   > সিরাজদিখানে দেড় হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার   > সিলেটে আতিকুর রহমানের সমর্থনে দক্ষিণ সুরমা জাতীয় পার্টির কর্মীসভা   > অপরিপক্ক ফলে ঝালকাঠির বাজার সয়লাব   > বান্দরবানে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দু:স্থ ও অসহায়দের উপহার দিল শ্রমিক লীগ   > অনুশীলনে বাধা নেই টাইগারদের   > বলিউড সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে যা বললেন নানি  

   সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বঙ্গবন্ধুর নামে ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা উৎসর্গ হবে

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হবে এবং এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে গতকাল জানিয়েছে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের আয়োজকরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বছর পূর্তি উপলক্ষে যেহেতু ২০২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, সেহেতু এবারের বইমেলার থিম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। আয়োজকরা বলছেন, মেলার পুরো সময় জুড়ে কোভিড-১৯ প্রটোকল মেনে চলা হবে এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে বইপ্রেমীদের সমস্যা লাগবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক প্রকাশক মেলায় অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

বঙ্গবন্ধুর নামে ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা উৎসর্গ হবে
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হবে এবং এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়নি বলে গতকাল জানিয়েছে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের আয়োজকরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বছর পূর্তি উপলক্ষে যেহেতু ২০২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, সেহেতু এবারের বইমেলার থিম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। আয়োজকরা বলছেন, মেলার পুরো সময় জুড়ে কোভিড-১৯ প্রটোকল মেনে চলা হবে এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে বইপ্রেমীদের সমস্যা লাগবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক প্রকাশক মেলায় অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা বিষয়ক লোক সংগীত ও পথ নাটক
                                  

কক্সবাজার প্রতিনিধি : সরকারি আইনগত সহায়তা কারা পাবে, কোথায় পাবে, কিভাবে পাবে এই বিষয়ের উপর লোক সংগীত ও পথ নাটকের মাধ্যমে (নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, নারী অধিকার ও অন্যান্য আইনগত বিষয়) নিয়ে সামাজিক মূল চিত্র পথ নাটক নতুন আলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। গতকাল বিকাল ৪টায় কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ইপসা, কক্সবাজার এর যৌথ আয়োজনে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর বাস্তবায়নে, ইউএসএআইডি আর্থিক সহায়তায় কক্সবাজার সদরের শহীদ দৌলত পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠের অনুষ্ঠান মঞ্চে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা বিষয়ক লোক সংগীত ও পথ নাটক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রকল্প ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন বলেন এই লোক সংগীত ও পথ নাটকের মাধ্যমে বিনোদন এর পাশাপাশি বাস্তব চিত্র নিজেদের আইনগত সমস্যা খুব সহজেই চিহ্নিত করতে পারবে এবং সেখান থেকে কিভাবে সরকারি আইনগত সহায়তা পাবে এ বিষয়ে তারা অবগত হচ্ছে। তাতে গরীব, অসহায়, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক নারী, পুরুষ তাদের ন্যায়বিচার আদায় করতে পারবে খুব সহজে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রকল্পের হিসাব রক্ষক শাহিনা আকতার সহ স্থানীয় নারী পুরুষসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আর নেই
                                  

স্টাফ রিপোর্টার : বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, চ্যানেল আই-এর এমডি ফরিদুর রেজা সাগরের মা রাবেয়া খাতুন আর নেই। গতকাল রোববার বিকালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাবেয়া খাতুন এর জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর মামার বাড়িতে। ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চিত্রপরিচালক, বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক এটিএম ফজলুল হকের সঙ্গে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। মহৎপ্রাণ এ কথাসাহিত্যিকের চার সন্তান। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম , চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, স্থপতি ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী। রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেঘের পর মেঘ’ অবলম্বনে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘মেঘের পরে মেঘ’ এবং ২০১১ সালে তার আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মধুমতি’ অবলম্বনে পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘মধুমতি’। এছাড়াও অভিনেত্রী মৌসুমী ২০০৩ সালে তার লেখা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ অবলম্বনে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন একটি চলচ্চিত্র। লেখালেখির পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতাও করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার। জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের গঠনতন্ত্র পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ডের বিচারক, শিশু একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুড়ি’র বিচারক। লেখালেখির জন্যে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তার মধ্যে আছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার-১৯৭৩, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার -১৯৮৯, একুশে পদক-১৯৯৩,বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ -১৯৯৪, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক-১৯৯৫,জসিমউদ্দিন পুরস্কার-১৯৯৬, শেরে বাংলা স্বর্ণপদক-১৯৯৬, শাপলা দোয়েল পুরস্কার-১৯৯৬, টেনাশিনাস পুরস্কার -১৯৯৭, ঋষিজ সাহিত্য পদক-১৯৯৮, অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার-১৯৯৮, লায়লা সামাদ পুরস্কার -১৯৯৯, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৯৯৯, মিলেনিয়াম এ্যাওয়ার্ড -২০০০, টেলিভিশন রিপোটার্স এ্যাওয়ার্ড -২০০১, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোটার্স এ্যাওয়ার্ড -২০০২, শেলটেক পদক- ২০০২ এবং মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার-২০০৫ ইত্যাদি।

সেরা লেখকের পুরস্কার পেলেন আয়মান সাদিক
                                  

সাহিত্য ডেস্ক : অনলাইন বুকশপ রকমারি ডটকম আয়োজিত ‘বইমেলা বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সেরা লেখকের পুরস্কার পেয়েছেন টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। গত ৮ ডিসেম্বর রকমারির ফেসবুক পেজে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

জানা যায়, ২০২০ সালের বইমেলা উপলক্ষে ঘোষিত ‘সেরা লেখক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের বইমেলায় তার দুটি বই প্রকাশ হয়। এর মধ্যে একটি হলো- ‘কমিউনিকেশন্স হ্যাকস’। বইটিতে দৈন্দিন জীবনের আচরণ, কথোপকথন, পাবলিক স্পিকিংয়ের ভুল সংশোধন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর আগে ‘স্টুডেন্টস হ্যাকস’ বইটিও জনপ্রিয় হয়েছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে।

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অ্যাওয়ার্ডটি পাওয়ায় আমার সব পাঠককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আসলে দিনশেষে এসব প্রাপ্তি আসে একমাত্র তাদের অসীম ভালোবাসার কারণে। মানুষ আমাদের বইটি পছন্দ করেছে বলেই কিনেছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনার এ সময়েও বইয়ের প্রতি পাঠকদের ভালোবাসা রয়েছে। পাঠক অনলাইনে অর্ডার করেও যে ব্যাপকহারে বই কিনছে, পড়ছে। এটাও অনেক বড় কিছু। আমি মনে করি, শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়। সব লেখককে এ ব্যাপারগুলো প্রেরণা বাড়িয়ে দেয়।’

"" নারী তুমি জাগো ""
                                  

"" নারী তুমি জাগো ""

- মির্জা সিফাত-ই-খোদা

কর্ষন কর বিশ্ব
হও নবসৃষ্টির তরে
নিশ্চিত বিধ্বংসী।
মুছে ফেলো জল
জ্বালো দ্বাবানল
স্থির অবিচল।
ভয়কে করে লয়
শানিত কর জয়
প্রজ্ঞায় অক্ষয়।
ভেঙে দাও ভুল
হও নির্দয়ে নির্ভয়
স্বাধীন অভয়।
হিংস্রতা করে আপ্ত
হও সুপ্ত অগ্নিতপ্ত
স্নিগ্ধতা পরিব্যাপ্ত।
তুমি স্রষ্টার কারিগর
আত্ম-অবিনশ্বর
মর্যাদা উচ্চতর!

লেখক-জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,সিরাজগঞ্জ।

প্রতিষ্ঠানের নামফলক বাংলা করার দাবি
                                  

সাহিত্য ডেস্ক : মুজিব বর্ষ শেষ হওয়ার আগেই ঢাকা মহানগরের সব প্রতিষ্ঠানের নামফলক বাংলা করার দাবি জানিয়েছে বাংলা প্রচলন প্রয়াস (বাপ্রপ্র)। এ উপলক্ষে আগামী ৩১ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন বাংলা ভাষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারপত্র বিলি করবে সংগঠনটি।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ বাংলা ভাষা প্রচলন আইন পাস হয়। এ আইনে বলা হয়, এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া সব ক্ষেত্রে নথি, চিঠিপত্র, আইন-আদালতে প্রশ্ন-উত্তর, অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে এবং কোনো ব্যক্তি বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করলে সে আবেদন বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

আইনে আরও বলা আছে, যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ আইন অমান্য করেন, তবে তা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন কমিশন ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইনের প্রয়োগের জন্য সুপারিশ করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বাংলা ভাষা প্রচলন আইন ১৯৮৭ অনুযায়ী অফিস আদালত, গণমাধ্যমসহ সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করেন।

পাশাপাশি দূতাবাস ও বিদেশে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ছাড়া দেশের সব সাইনবোর্ড, নামফলক ও গাড়ির নম্বর প্লেটে, বিলবোর্ডে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনে বাংলা প্রচলনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নির্দেশের ৩ মাস পর ২০১৪ সালের ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলোকে আদেশটি কার্যকর করতে বলেন। কিন্তু এতেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এক চিঠির মাধ্যমে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বর প্লেটে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানায়।

বাপ্রপ্র’র প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর রুমি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইংরেজিতে লেখা নামফলকগুলোর উপরে বড় করে বাংলা ভাষায় নামফলক লেখা, বিভিন্ন যানবাহনের গায়ে ইংরেজি পরিচিতির উপরে বাংলা ভাষায় পরিচিতি লেখার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

শিল্পী-সাহিত্যিকদের উপর আস্থা ছিল প্রণব মুখার্জির
                                  

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রণব মুখার্জি বিশ্বাস করতেন, শিল্পী-সাহিত্যিকরাই নতুন পৃথিবী গড়বেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় দূষণ মানুষের চিন্তা-ভাবনা, মনে ও কাজে। আর এ দূষণ দূর করে নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবেন শুধুমাত্র শিল্পী-সাহিত্যিকরা।

২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি দুই দিনের আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলনের সমাপনী আয়োজনে যোগ দিয়ে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এ কথা বলেছিলেন।

২০১২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের শুরুতেই বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। দায়িত্ব শেষের প্রথম সফরটিও তার স্ত্রীর জন্মভূমিতে। সে সফরে বাংলা একাডেমিতে মাত্র ১৯ মিনিটের বক্তব্য রাখেন তিনি। যাতে জয় করে নেন প্রাঙ্গণজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষের মন।

সেদিন নিজের বক্তব্যের শুরুতেই রসিকতার ঢঙে নিজেকে ‘যোগাই’ বলেছিলেন প্রণব মুখার্জি।

তিনি বলেছিলেন, আমি তো পাঠক, একজন দর্শক। আমি স্রষ্টা নই; সৃষ্টিকর্ম তো আমার নেই। এই আন্তর্জাতিক সাহিত্যের মহামেলায় আমার কাজটা কী হবে? বীরভূমের গ্রামের ভাষায় রাজমিস্ত্রিদের সিমেন্ট, বালু, মসলা ইত্যাদি এনে দেওয়া লোকদের ‘যোগাই’ বলা হয়। এই সম্মেলনে আমার কাজটা এখানে অনেকটা যোগাইয়ের মতো।

মাঠের রাজনীতি করেই কাটিয়েছেন জীবনের ৩৩ বছর। মানুষের পাশে থাকলেও বই থেকে ছিলেন অনেক দূরে। এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল ঢের।

তিনি বলেছিলেন, সরকারি কাজ, সংসদীয় কাজের ঠেলায় বই পড়ার সময় পাইনি। ৩৩০ কক্ষের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রথমে এসে ভাবলাম- এখানে আমার কাজ কী? প্রধানমন্ত্রী ফাইল পাঠাবেন, আইন প্রণয়ন করবেন সাংসদরা; আমি তাদের পরামর্শ দেব। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির এখানে ভূমিকা কম। বছরে একদিন সাংসদদের ডেকে বক্তৃতা দেব। সেখানে দাঁড়ি, কমা, ফুল স্টপ- সবটাই মন্ত্রিসভার তৈরি। রাষ্ট্রপতিকে বলতে হবে- মাই গভর্নমেন্ট। রাষ্ট্রপতির কাজ `নৈবেদ্যর মণ্ডা`র মত বসে থাকা।

রাষ্ট্রপতি ভবনেই গড়ে উঠে নিজের পাঠাভ্যাস। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দেখলাম প্রাসাদসম বিশাল ভবন। পরিসংখ্যানবিদদের মতে, ৩৩০ টি কক্ষ বিশিষ্ট এমন ভবন বিশ্বে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের নেই। প্রচুর বই রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনে। প্রচুর কাগজ, দলিল দস্তাবেজ সেখানে। ইতিহাসের প্রচুর উপাদান। যেসব পড়তে তিনটি প্রেসিডেন্সিয়াল টার্ম লাগবে। তো, অতদিন তো সময় পাওয়া যাবে না। তার আগেই ঈশ্বর আমাকে ডেকে নেবে। বলবেন, এসো আমার কাছে। তাই আমি দেরি না করে পড়তে শুরু করলাম।

শিল্পী-সাহিত্যিকদের নিয়ে তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষায় পাসের জন্য দিগ্বিজয়ী বীরদের নিয়ে পড়াশোনা করা যায়৷ কিন্তু পাসের পর তাদের বেমালুম ভুলে যাই। কিন্তু শিল্পীর ছবি, কবির কবিতা বা প্রিয় উপন্যাস কখনও ভোলা যায় নাকি? যে গান, সানাই বা সরোদের সুর আমাদের প্রিয় তা কখনও ভুলতে পারি আমরা?

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তিতে বাংলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।

বাংলা ভাষার জন্য বাংলাদেশের প্রতি ঋণ স্বীকার করে বাংলার ‘জামাইবাবু’ বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলনে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষায় ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়। তাদের কাছে আমরা ঋণী। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসকে তারা রক্ষা করেছেন। যারা আগ্রাসন করে তাদের হাতে সেই ইতিহাসকে লুট হয়ে যেতে দেননি।

লেখক-সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, আসুন এই সংকল্প করি, ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা হিংস্রতার সব বিষবাস্প থেকে বাঁচাব।

বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাসসহ বিভিন্ন আঙ্গিক সাহিত্যের প্রসার ঘটিয়েছে। বৈচিত্র্যময় সাহিত্যের অনেক কিছুই কোন একটি বইয়ে একত্রে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন বই থেকে শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করতে হয় সাহিত্যের সকল তথ্য। করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেই কষ্ট লাঘব করতে বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, চিন্তাবিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের একক প্রচেষ্টায় ‘‘বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র’’ নামে একটি শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

যেখানে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের ইতিহাস থেকে শুরু করে পাওয়া যাবে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সাহিত্যের আলোচনা। বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র এর ওয়েবসাইটে ‘‘ই-বুক’’ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সঙ্গে থাকছে গুণীজনদের সাহিত্য সমালোচনা।

হাতের কাছে বই না থাকলেও এখানে পাঠকরা পাবেন সাহিত্যের ই-বুক, অডিও-বুক এবং ভিডিও। এছাড়াও সংগঠনটির নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল-এ সাহিত্যের আলোচনা থেকে উপকৃত হবেন শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। বিশেষত সাহিত্যের বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়েছি আমরা। আর ওয়েবসাইটটি নিয়মিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও গ্রন্থ আপলোডের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, তবে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে এই সংগঠনটি। উপরন্তু গবেষকদের লেখাকে ই-বুক আকারে প্রকাশেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, তাঁর সঙ্গে একদল তরুণ গবেষক আছেন যারা আইটি ও সাহিত্য বিষয়ে ভালো ধারণা রাখেন। তাদের নাম ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করা হবে।

হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
                                  

গণমুক্তি ডেস্ক : নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুলাই)। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
মৃত্যুর পর বহুপ্রতিভার অধিকারী এই মানুষটিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে তার নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়।

প্রতি বছরই নানা আয়োজনে পালিত হয় হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী। করোনার কারণে এবার স্বল্প পরিসরে পালিত হবে দিনটি।

জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি।

আসুক না বাঁধা
                                  

আসুক না বাঁধা

রমজান আলী রনি

আযানের সুরে মসজিদে হাঁটা
আসুক না বাঁধা বিঁধুক না কাঁটা
কাফের, মুশরিক নিপাত করে
তোমার নামে যাব সিফাত পড়ে।

নজরানা ফুল দাও তাওহীদে
তোমার নামে যাই আহার-নিদে
মাওলা পুলসিরাত পার কর-
হে তুমি বাঁচাও হে তুমিই মার।

আঁধারে সীমানায় আলোক নূর
পাখপাখালি ডাকে যে সুমধুর।

যে যায় সে দীর্ঘ যায়
                                  

সুহিতা সুলতানা

দাউদ আল হাফিজ আমাদের বন্ধু, আমাদের সুহৃদ। ১৯৯৫ সালে দাউদকে প্রথম দেখি আজিজ সুপার মার্কেটে। তখন আজিজ মার্কেটের ভরা যৌবন। কত মহারথিরা যে সেখানে আসতেন নাম বলে শেষ করা যাবে না। বাচ্চু ভাইয়ের বিশাকা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হবে ‘ষাটজন কবির কাব্যচিন্তন’—তা নিয়ে কী মহাব্যস্ততা আমাদের। অনিকেত শামীমের ‘লোক’-এ বসে আমরা দিনরাত্রি সাক্ষাৎকার গ্রহণের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। দাউদ, রণক, শামীম, চঞ্চল আশরাফ, আমি। তুমুল আড্ডার মধ্য দিয়ে আমরা কী নিখুঁতভাবে সম্পাদনার কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলাম।

পঞ্চাশ থেকে নব্বই দশকের মধ্য থেকে ষাটজন কবিকে নির্বাচন করাও ছিল দুঃসাধ্য। প্রতি সন্ধ্যায় আমাদের আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন হুমায়ুন আজাদ স্যার। স্যারের নির্দেশনাও আমাদের সম্পাদনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ কাফেলায় আরেক জন নিয়মিত আসতেন খোন্দকার আশরাফ হোসেন। আমাদের এমনই দুর্ভাগ্য এ লেখাটি যখন লিখতে বসেছি, তখন মাথার ওপর থেকে সরে গেছে আর্শীবাদের হাত—চলে গেছেন হুমায়ুন আজাদ স্যার, খোন্দকার আশরাফ হোসেন। ক’দিন আগে চলে গেলেন আমাদের প্রিয় বন্ধু দাউদ আল হাফিজ।

বুকের পাজর ভেঙে ভেঙে যায়। দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। দাউদ এত দ্রুত চলে যাবে এটাও মানতে হবে! এরকম কষ্টের লেখা লিখতাম না হয়ত—সম্পাদকের অনুরোধে লিখতে বসেছি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। কতবার রণককে ফোন করেছি, খলিল মজিদকে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না দাউদ চলে গেছে না ফেরার দেশে।

আবার ১৯৯৫ সালে ফিরে যাচ্ছি...সৈয়দ আলী আহসান, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, সিকদার আমিনুল হক, রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা—কত কবির বাড়িতেই না আমরা গিয়েছি সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য। দাউদ সব সময় থাকতো আমাদের সাথে। কী জোরে প্রাণ খুলেই না দাউদ হাসতো। ওর ভেতরের কষ্টগুলো বুঝতে পারতাম না। কী অদম্য মেধাবী একটা ছেলে এ শহরে একটা ভালো চাকরি পাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতে পারে না। কখনো কখনো অকপটে কষ্টের কথাগুলো বলে ফেলতো।

দাউদ হাঁটতে পছন্দ করতো ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনের পথ ধরে। টেড হিউজের কবিতা পড়তো হাঁটতে হাঁটতে, মজা করে প্রায়ই বলতো ইংল্যান্ডে থাকলে আপনি সিলভিয়া হয়ে যেতেন। দাউদের কথায় আমরা কেউ রাগ করতাম না। ওর মেধাকে সবাই মূল্যায়ন করতো। ওর হাতের লেখাও ছিল অসাধারণ। একবিংশ পত্রিকার সাথে ও যুক্ত ছিল বরাবরই। খোন্দকার আশরাফ হোসেন ওকে অনেক প্রশ্রয় দিতেন, সেটা আমরা আশরাফ ভাইকে বললে উনি বলতেন, দাউদ তো অন্য রকম। অন্য রকমটা কী তা জানা হয়নি আর।

অবশেষে সিদ্ধান্ত হয় রণক আর আমার যৌথ সম্পাদনায় ষাটজন কবির কাব্যচিন্তন প্রকাশিত হবে। প্রচ্ছদ করে দিল বিনা পারিশ্রমিকে মাহমুদুর রহমান দীপন। মন দিয়ে প্রুফ দেখতো দাউদ। শামীম ওর লোকের কক্ষটি আমাদের জন্য ছেড়েই দিয়েছিল একরকম। ৯৫-এর বইমেলায় তুমুল আলোচিত হলো গ্রন্থটি। বিশাকার স্টলের সামনে জমে উঠতো আড্ডা। তুষার গায়েন, মোহাম্মদ আলীও মাঝে মাঝে আসতো আড্ডায়।

ছফা ভাই (আহমদ ছফা) তখন আজিজের দু’তলায় বসতেন, আমাদের ব্যস্ততা দেখে রেগে গিয়ে বলতেন, ‘কী হবে সুহিতা এসব করে?’ আমরা কোনো উত্তর দিতাম না। হুমায়ুন আজাদ স্যার ছিলেন আমাদের আশার আলো। সম্পাদনা গ্রন্থটি হাতে নিয়ে স্যার বলেছিলেন, ‘অনেকদিন পর একটা ভালো কাজ করলে তোমরা।’ আজ স্যার থাকলে দাউদের মৃত্যু মানতে পারতেন না।

দাউদের কোথায় যেন একটা হাহাকার ছিল। যেটা বলতে লজ্জা পেত অনেক সময়।

দাউদ রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার লাবণ্য-অমিত চরিত্রের বর্ণনা সুন্দর করে দিত। জীবনানন্দ দাশ ওর প্রিয় কবি ছিল। তবে কবি হবার জন্য ওর খুব অস্থিরতা ছিল এটা আমার মনে হয়নি কখনো। তবে নতুন কোনো কবিতা লিখলে পকেট থেকে বের করে আমাদের শোনাতো। শাদা প্যান্ট-শার্টই পরতো বেশি, মজা করে বলতাম এই স্কুল ড্রেস মার্কা পোশাক এখনো পরেন দাউদ? হেসে উত্তর দিত, অত টাকা নেই যে রঙিন পোশাক কেনার!

তারপর অনেকদিন আর দাউদের সাথে দেখা নেই, মাঝে মাঝে ফোন করতো। গ্রামই ছিল ওর পছন্দের জায়গা। বারবার গ্রামেই ফিরে যেত ও। ঢাকার জীবন ওকে স্বস্তি দেয়নি একটুও। রবার্ট ফ্রস্ট, টলস্টয়, কার্ল মার্কস, মানিক, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, আহমদ শরীফ, বদরুদ্দীন উমর, সুনীল ও বিনয় মজুমদারের লেখা নিয়ে আলোচনা করতে করতে জমিয়ে তুলতো সাহিত্যের আড্ডা। প্রিয় স্যার বলতে কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়লেও প্রায় ৭-৮ টি ভাষা জানতো ও। শৈলকুপার কৃতি সন্তান দাউদ আল হাফিজের নামটি হয়ত একদিন ম্লান হয়ে আসবে, মানুষের চোখ ধূসর হয়ে আসবে। তবে কারো কারো হৃদয়ে এ নামটি থেকে যাবে হয়ত বা।

‘আনাবাস অথবা দ্বিধার গন্ধম’ এই একটি মাত্র কবিতা গ্রন্থের জনক দাউদ। সব কিছুতেই ওর পরিমিতি বোধ। দাউদ অন্যদের মতো ছিল না, ছিল একটু আলাদা। প্রেম করে বিয়েও করেছিল ছাত্র অবস্থায়। তারপর লেখাপড়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেলেও মন পড়ে থাকতো শৈলকুপায়। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, পিছুটান অর্থ-সংকট ওকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল।

‘হে রাখাল, হে দুগ্ধবতী গাভী, হে গ্রাম্য কিশোরী, আমি আবার আসবো ফিরে

তোমাদের মোহন ঠিকানায়।’

‘আজ আমার বিশ্বাস নেই অন্য কোনো তীর্থ।’

দাউদের চার স্তবকের কবিতার শরীর জুড়ে তীরবিদ্ধ যন্ত্রণা ছিল—

‘দারিদ্র্যের এক মহান পুরোহিত কবি

বিদ্রোহী মানুষের অপার দুধ ভাত আর

সমূহ শান্তি সংগ্রহ শত্রু শিবিরে ছুঁড়েছেন

অনলবর্ষী কবিতা-কার্তুজ।’

আনাবাস পর্বের ভেতরে তিন স্তবকে ‘শূন্যে শূন্যে ঘুরছে/ শূন্যভুবন ত্রিভুবনের ত্রিত্ত্বসকল/ খ ও খামার জলেস্থলে…’

দাউদের কাব্য বিশ্লেষণ করবার জন্য এ লেখাটি নয়। সামগ্রিক দিকটাই তুলে আনা। একটা বাউল মন ছিল ওর। ওর অস্তিত্ব ও চিন্তার জগৎ ঘিরে সেটাই উপলদ্ধি করা যায়।

জগৎ সংসারে যা দেখা যায় তার প্রায় সবটা জুড়েই কৃত্রিমতা, স্বার্থের র‌্যাপিন কাগজে মোড়ানো হৃদপিণ্ডহীন জড়বস্তু।

‘সবুর, ছবর, তিতিক্ষা এই তিনে মানবজীবন।’

চলে যাবার আগে দাউদের চিন্তাজগতের ভাবনা ছিল এরকম।

এই দাউদ আল হাফিজই যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল, অতি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও ও একটু একটু করে সামনে আগাতে চেয়েছিল। দারিদ্র্যের কষাঘাত মেধাকেও পিষ্ট করে দেয়। আগাতে পারেনি বেশি দূর। ফিরে গেছে বারবার গ্রামের মেঠো পথ ধরে, জন্মের ঠিকানায়। শহর ওকে ধরে রাখতে পারেনি। ইট কাঠ পাথর ধুলো পেছনে ফেলে চলে গেছে প্রাণপ্রবাহের কাছে।

আর কত হারানোর বেদনা সইব?
                                  

গোপাল অধিকারী

প্রতিদিন চলে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। সূর্য উঠছে, দিন হচ্ছে । তারপরও কেমন যেন আঁধার বিরাজ করছে সকলের প্রাণে। কে পূরণ করবে তাঁদের অভাব, কবে কাটবে আধার? হারানোর বেদনাকে ভারি করে চলে গেলেন ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। নিভে গেল আরেকটি নক্ষত্র। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। বাংলাদেশ নামক সৌরজগতে করোনাকালে আমরা হারাচ্ছি আমাদের মূল্যবান নক্ষত্রগুলো। জগতে একটি মন্দ কাজ করা খুবই সহজ। বির্তকিত হওয়া সময়ে ব্যাপার। কিন্তু ভাল দিকনির্দেশনা দেওয়া আর ভালটা প্রতিষ্ঠা করা সময়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এমনই কঠিন সময় পেরিয়ে নিজেকে আলোকিত করেছিলেন কামাল লোহানী। কামাল লোহানীর প্রকৃত নাম আবু নাইম মোহা. মোস্তফাা কামাল খান লোহানী। সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া গ্রামের খান মনতলা গ্রামে ১৯৩৪ সালের জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পাবনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন ১৯৫২ সালে। পরে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে। পাবনা জেলা স্কুলে শেষ বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে কামাল লোহানীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৫৩ সালে নুরুল আমিনসহ মুসলিম লীগ নেতাদের পাবনা আগমন প্রতিরোধ করতে গিয়ে তাকে কারাগারে যেতে হয়। মুক্ত হতে না হতেই আবার ১৯৫৪ সালে গ্রেপ্তার হন কামাল লোহানী। সেই সময় তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শে দীক্ষিত হন। পরের বছর আবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে একই কারাকক্ষে তার বন্দিজীবন কাটে। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র শতবর্ষ পালনে পাকিস্থানি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে ছায়ানটের নেতৃত্বে কামাল লোহানী ও হাজারো রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক কর্মী সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরের বছর কামাল লোহানী ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। ষাটের দশকের শেষ ভাগে ন্যাপের (ভাসানী) রাজনীতিতে জড়িয়ে কামাল লোহানী যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে পূর্ব বাংলার শিল্পীরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তার সঙ্গেও কামাল লোহানী সম্পৃক্ত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কামাল লোহানী একজন শিল্পী, একজন সাংবাদিক ও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেন। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালকের দায়িত্ব পান। কামাল লোহানী পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তার কর্মস্থল ছিল দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তা প্রভৃতি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নে দু’দফা যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হন। কামাল লোহানী ১৯৮১ সালে দৈনিক বার্তার সম্পাদকের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নতুন উদ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। পরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কামাল লোহানী দেখেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে থাকার চিত্র ও তাঁর মধ্যে ছিল বেদতার তীক্ত অভিজ্ঞতা। দেশের ভাষা আন্দোলন, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সকল কিছুতে ছিল তাঁর অগ্রনী ভ’মিকা। অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মাধ্যমে তাঁর মুখের স্বাধীনতার বাণী আমরা ক’জন জানি। প্রবাদে আছে, “পুরাতন চাউল ভাতে বাড়ে”। প্রকৃতই কামাল লোহানীর মত গুণীজন থাকায় আমরা স্বাধীনতা নামক সোনার হরিণ অর্জনের স্বাদের কিছুটা আস্বাদন করতে পারি। প্রেরণা পায় দেশপ্রেমের। তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। আমাদের দেশপ্রেমের প্রেরণা যোগাতে এমন মানুষদের যুগে যুগে প্রয়োজন। তাছাড়া এক সময় ভবিষ্য প্রজন্মকে দেশপ্রেম শেখানোর প্রবাদ পুরুষ থাকবে না। আমাদের তাদের কর্ম থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা প্রয়োজন । কারণ তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের আলোর পথ দেখাবে। একটি মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকে না। বেঁচে থাকে তার কর্ম। কর্মের ছোঁয়ায় অলোকিত হয় নতুন প্রজন্ম। তারপরও কিছু গুণীজনের বিদায় যেন একটি হতাশার মুখে ফেলে দেয়। অনুভূত হয় নির্দেশনার অভাব। আমার কাছে মনে হয় একটি পরিবারের পিতা কিছু না করতে পারলেও তার সহঅবস্থানে থাকাটা আমাদের বটবৃক্ষ। তাঁর উপস্থিতি আমাদের সকল কাজের অস্তি। আমাদের বিপথ থেকে ফিরে আসার শেষ সম্বল। আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। তাই এমন গুণীজনকে হারানো অপূরণীয় ক্ষতি। হে মহান পুরুষ তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি, তোমার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। এই বাণীটা ছাড়া কিছুই করার নেই আমাদের ক্ষমতা।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

ভেন্টিলেটর বিভ্রাট
                                  

এক ক্ষুদ্ররাজ্য- চন্দ্রপুর। রাজ্যে রাজা, মন্ত্রী, সৈন্যসামন্ত, ডাক্তার, বিভিন্ন দফতর, প্রজাসাধারণ- সবই আছে। চন্দ্রপুররাজ্য লন্ডভন্ড এক নতুন ভাইরাসের কারণে। চন্দ্রপুরেই নয়; নতুন এই ভাইরাসের ভয়ে সারা পৃথিবীর মানুষ গৃহবাসী হল। কোথাও নেই কোনো কোলাহল। শিশুপার্কগুলো শিশুশূন্য, রাইড সব খা-খা করছে। বিশাল বিশাল বহুতল প্রাসাদগুলো দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছে।

ভেতরে ভেতরে মানুষ বন্দি, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। রাজার চোখে প্রজাদের জীবনরক্ষার চিন্তায় ঘুম নেই। চোখের কোণে দাগ পড়েছে, কপালে চিন্তার ভাঁজ। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত। দেশের হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ। প্রতিদিন শতশত রোগী মারা যাচ্ছেন। ডাক্তাররা ভয়ে অর্ধেক গা-ঢাকা দিয়েছে।

হাসপাতালে ডাক্তার নেই, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি নেই, ওষুধ নেই। তাই রাজা তার সকল দফতর ডেকে জরুরি পরামর্শ ডাকলেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা রাজাকে লক্ষাধিক ভেন্টিলেটরসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। রাজা দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ লক্ষাধিক ভেন্টিলেটর স্থাপনে জরুরি নির্দেশ দিলেন। সময় দিলেন একমাস। মোটা মাথা, মোটা শরীর নিয়ে হেলেদুলে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার দফতরে লম্বা এক নির্দেশ জারি করলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে পূর্ব থেকে বিদ্যমান বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেটর অর্থাৎ ঘুলঘুলিগুলো রেখে যেন চার-পাঁচগুণ করা হয়।

এমনকি দেশের সব ধনী মানুষের পাকা ঘরগুলোতেও যেন তা দ্বিগুণ করা হয়। যেমন আদেশ তেমন কাজ। এ কাজে মন্ত্রী হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও দিলেন। রাজ্যজুড়ে সব পাকাঘরে বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেটর কয়েকগুণ বৃদ্ধি করার কী বিশাল কর্মযজ্ঞ। একসপ্তাহে কোটি ভেন্টিলেটর স্থাপন হল। মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন ডেকে সুসংবাদটি প্রচার করলেন। রাজাকে জানালেন। দেশজুড়ে এমন সংবাদে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেল। সব মিডিয়ায় প্রচার হয়ে গেল। উন্নত দেশগুলো এ খবরে হতভম্ব হয়ে যায়।

এদিকে কোটি ভেন্টিলেটর স্থাপনের খবরে রাজাও অবাক। রাজা মন্ত্রীকে ডেকে আগে বাড়িতে বাড়িতে ভেন্টিলেটর কীভাবে হলো দেখতে চাইলেন। মন্ত্রী মহা আহ্লাদি হয়ে রাজাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেটরগুলো দেখালেন। রাজা সব দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কেবল বললেন, আপনার মাথাটা যেমন মোটা, কাজও তেমন। আপনার কাজের পুরস্কার পেয়ে যাবেন।

বিকালে রাজার আদেশপত্র এল মন্ত্রীর হাতে। ‘আদেশপত্র পাওয়ামাত্র চিরদিনের জন্য হোম কোয়ারান্টিনে চলে যাবেন। আপনার দীর্ঘ চিকিৎসা প্রয়োজন।’ মন্ত্রী আর কখনো নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পেলেন না।

আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী
                                  

মনির হোসেন, মোংলা : আজ ২১ জুন। তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহথর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কবিতায় অবিসস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার রুদ্র স্মৃতি সংসদ কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠাখালীতে সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও সন্ধ্যায় রুদ্র সংসদ কার্যালয়ে সীমিত পরিসরে স্মরণ সভার আয়োজন করেছে। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হবে। এছাড়াও মোংলা সাহিত্য পরিষদ, মোংলা স্টুডেন্টস ক্যাটারস, তারুণ্য মোংলা সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অকাল প্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্য চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন`এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই দিন সমতার। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্র প্রতীকথ-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্য নাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকোথ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূলথ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রামথ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদথ থেকে পরপর দু‌‌`বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শিশুসাহিত্য রচনায় নজরুলের অবদান
                                  

মাহমুদ আলবেনী

শিশু সাহিত্য রচনায় নজরুলের অবদান অপরিমিত। উৎকর্ষের বিচারে বাংলা সাহিত্যের তিনি প্রায় অপ্রতিদ্বন্দী। এর প্রধান কারন নজরুলের কবি মানসের একদিকে একটি শৈশব লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তিনি নিজেই বলেন-

“আমি চির শিশু, চির কিশোর”

তাঁর মধ্যে একটা শিশুসুলভ সারল্য রয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁর মন শিশুর প্রতি আশ্চার্য সংবেদনশীল। তাই তিনি অতি সহজে শিশুর সাথে একাত্ম হতে পেরেছেন। মনস্তত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। শিশুর স্বপ্ন-সাধ, আশা-আকাঙ্খা, খেলাধুলা, হাসি-তামাশা, কীর্তিকলাপ, অনুকরনপ্রিয়তা, স্কুল জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, মা-বাবার সাথে মান অভিমান, বুড়ো দাদুকে নিয়ে হাস্যালাপ, ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন কল্পনার রথে চড়ে দুঃসাহসিক অভিযান এসব তিনি নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং সার্থক ভাবে রূপদান করেছেন তার রচনায়। এখানেই তিনি অনন্য আর একারনেই তিনি শিশু সাহিত্য রচনায় অপ্রতিদ্ব›দ্বী।
নজরুল উপলব্ধি করেছেন, শিশু মন অতিমাত্রায় খেয়ালী, স্বপ্নময় ও আশ্চার্য কল্পনাপ্রবন। তাই রুপকথার রাজ্যে তার অবাধ সঞ্চালন। সে অদ্ভুত ও রহস্য রসের রসিক। আবোল তাবোল চিন্তায়, বাস্তবতার বৈপরীত্যজনিত কাল্পনিক ভাবনায় ও প্রকৃতির রহস্য রঙের বিষয় বস্তুতে তার অসীম আগ্রহ ও কৌতুহল। সেই জন্যে এইসব রচনায় তার আনন্দের পরিমান ও বেশী। শিশু শিক্ষামূলক কবিতায় নজরুল কখনো শিশুকে তার কর্তব্যকর্ম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, কখনো তাকে আত্মচেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে বলেছেন, আবার কখনো তাকে মহৎকর্ম ও জ্ঞানের পথে আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু শিক্ষামূলক কবিতা রচনার পাশাপাশি শিশুদের আনন্দ বিধান বিষয়ক সাহিত্য সৃষ্টিতে নজরুলের প্রতিভার স্মৃতি হয়েছে বেশী। ঝিঙেফুল কাব্যগ্রন্থে ঝিঙেফুল নামক কবিতা ছাড়া- খুকী ও কাঠবেড়ালী, খোকার খুশি, খাঁদু-দাদু, দিদির বেতে খোকা, মা খোকার বুদ্ধি, খোকার গল্প বলা, চিঠি, প্রভাতী, লিচু চোর, হোদল-কুতকুতের বিজ্ঞাপন, ঠ্যাং ফুলি ও পিলে পটকা, এই তেরটি কবিতা আছে। এই গ্রন্থের প্রতিটি কবিতা রসে ভরপুর।
শিশুদের হাসি-তামাশা, আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন আশা বিধৃত হয়েছে প্রতিটি কবিতার ছত্রে ছত্রে। প্রভাতী কবিতায় প্রভাতের বর্ননা অত্যন্ত সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। উৎসবমুখর ঝলাধারার মতো কবিতাটির গতি ও অবারিত-

‘ভোর হলো দোর খোলো খুকুমনি ওঠরে
ঐ ডাকে যুঁই শাখে ফুল-খুকী ছোটরে’

নজরুলের শিশু কবিতায় আছে শব্দের বর্নাঢ্য ব্যবহার আর ছন্দের ঝংকার। এ জন্যে তাঁর কবিতায় সাধারন বিষয় ও অনেক জায়গায় অসামান্য হয়ে উঠেছে রুপলাবন্যে। ঝিঙেফুল কাব্যের ভূমিকায় ‘ফিরোজিয়া’ শব্দ ব্যবহারে নৈপুন্য সহজচেই লক্ষ্য করা যায়। সেই সঙ্গে অনুপ্রাস ব্যবহারে অনুবর্নন সৃষ্টি। এটি একটি নিটোল মিষ্টি কবিতা-

ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল!
সবুজপাতার দেশে ফিরোজিয়া ঝিঙেফুল! ঝিঙেফুল!

খুকুও কাঠবেড়ালী কবিতায় কাঠবেড়ালীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত খুকুর উক্তির মধ্যে শিশু হৃদয়ের কল্পনা বিলাস এবং জিবজন্তুর জীবন সম্পর্কে তার ভাষা ও ছন্দ শিশুসুলভ চাঞ্চল্যে ভরা-

‘কাঠবেড়ালী! কাঠবেড়ালী! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ ভাত খাও?
বাতাবি লেবু? লাউ
বিড়াল বাচ্চা কুকুর ছানা? তাও?

দাদুর সাথে খোকা খুকুর সম্পর্ক যেমন মধুর তেমনি সহজ ও গভীর। কেননা বার্ধক্য তো দ্বিতীয় শৈশবই। ‘খাকু দাদু’ কবিতায় দাদুর নাক সম্পর্কে শিশুর গবেষণা কৌতুককর-

‘অমা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং?
খাঁদা নাকে নাচছে ন্যাদা- নাক ডেঙ্গা ডেং ড্যাং’

শিশুদের দুরন্তপনার শেষ নেই। কতরকম দুষ্টুমি সে যে করে। ‘লিচু চোর’ শিশুমনের উত্তেজনাময় কাজ করার প্রবৃত্তি ব্যক্ত হয়েছে। একটা হালকা রঙের সুর কবিতাকে বিশেষভাবে মনোগ্রাহী করে তুলেছে। লিচু চুরি করতে গিয়ে যে কান্ড ঘটে তা যথার্থ হাস্যোদ্দীপক। কবিতাটির ছন্দের ঝংকারটি ও বিশেষ উপভোগ্য-

“বাবুদের তাল পুকুরে
হাবুদের ডাল কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া
বলি থাক একটু দাড়া”

চুরি করতে গিয়ে শিশুর অভিজ্ঞতা স্বাভাবিকভাবেই সাময়িকভাবে রোমঞ্চকর হলেও পরিনামে মোটেই সুখকর হয়নি। তাই কবিতাটির শেষে শিশুর অনুতাপজনিত উক্তির মধ্যে একটি নীতিকথা পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে-

“যাব ফেব? কান মলি তাই,,
চুরিতে আঁর যদি যাই।”

শিশুর মন উদ্দাম। উধাও হয়ে দেশ-দেশান্তর ঘুরে বেড়াতে চায়। তাই সে যাবে অচিন দেশে, তুহিন মেরু পার হয়ে, বরফ ঢাকা পাহাড় ডিঙিয়ে, হাওয়ায় চড়ে, চাঁদের দেশে আর না হয় পাতালে। সমস্ত দুনিয়াটা সে হাতের মুঠোয় পেতে চায়-

“থাকবো না কো বদ্ধ ঘরে
দেখবো এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ
যুগান্তরের ঘুর্ণি পাকে”

শৈশবে নজরুল যে জীবন কাটিয়েছেন তা মুক্ত, স্বাধীন ও অবাধ। বাধা বাধাবন্ধনহীন শিশু নজরুলেরই স্বপ্নসাধ, স্কুল ছেড়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। তাঁর কবিতাতেও শিশু যুদ্ধে যোগদানের স্বপ্নই দেখে-

“মাগো আমি যুদ্ধে যাবো
নিষেধ কি মা আর মানি?
রাত্তিরে রোজ ঘুমের ঘোরে
ডাকে পোলান্ড জার্মানি”

নজরুলের মধ্যে যে দুঃসাহসিকতা, তাঁর শিশু ও সেই দুঃসাহসিকতার স্বপ্নই দেখে। তাঁর শিশু ও অকুতোভয়। দুঃসাহসিক শিশু নিত্যনতুনের যাত্রী। সে ঝর্ণার মতো উদ্দাম, চঞ্চল। আকাশের মতো বাধাহীন। বেদুইনের মতো সঞ্চারশীল এবং মুক্ত চিত্ত-

“মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম
মোরা ঝর্ণার মতো চঞ্চল
মোরা বিধাতার মতো নির্ভর
মোরা প্রকৃতির মতো স্বচ্ছল”

নজরুল উপলব্ধি করেছেন, শিশুর মন আশ্চার্য কল্পনাপ্রবন। তাই শিশু কল্পনার রথে চড়ে উড়ে যেতে চায় সূর্যি মামার আগে। তার কলতালে জেগে উঠবে সাগর পাহাড় নদী। তাকে দেখে ঝর্ণামাসী উৎফুল্ল হয়ে উঠবে। তাই ছোট্ট খোকা হতে চায় ঘুম জাগানো পাখী-

“আমি হবো সকাল বেলার পাখী
সবার আগে কুসুম বাগে
উঠবো আমি ডাকি”।

সংখ্যার দিক থেকে নজরুলের শিশু সাহিত্য বিস্তৃত কম। কিন্তু বিষয়বস্তুর অভিনত্তে¡ নন্দিত। তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যের সংখ্যা- ঝিঙেফুল (১৯২৬), সাত ভাই চম্পা, পিলে পটকা (১৯৬৪), মঞ্চায়ন (১৯৫৫) ও ঘুম পাড়ানী পাখি (১৯৬৮)।
তিনি শিশুদের জন্য শুধু নাট্যধর্মী কবিতা রচনা করেননি, নাটিকাও রচনা করেছেন। যেমন: পুতুলের বিয়ে। শিশুদের জন্য এ নাটিকাটি খুব উপভোগ্য। শিশুদের জন্য এরূপ অভিনয়োপযোগী নাটিকা বাংলা সাহিত্যে নেই বললেই চলে। এই নাটকিট নজরুলের এক অপুর্ব সৃষ্টি। নজরুলের ছিল একটা চির কিশোর মন, যার সাহায্যে তিনি শিশুদের হৃদয়ে প্রবেশ করে তাদের মনের স্বচ্ছন্দ প্রকাশে সহায়তা করেছেন। শিশু চরিত্র আঁকতে গিয়ে তিনি দর্শনের দ্বারস্ত হননি। আপন মনের অভিজ্ঞতায় তাদের বিস্তৃতি রাজ্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এখানে কোন কৃত্তিমতা আসেনি। এসেছে মনের স্বাভাবিক প্রকাশ। স্বাভাবিক দৃষ্টিকোন থেকে নজরুল প্রবেশ করেছেন শিশুমনের এক বিচিত্র জড়তে। নজরুল দুর থেকে এই জগতকে পর্যবেক্ষণ করেননি বলেই তার শিশুতোষ কবিতায় এসেছে স্বাভাবিক ছন্দ। নজরুলের কন্ঠে বিদ্রোহী চেনতার কবিতার অবয়ব পরিবর্তনে যেভাবে সহায়তা করেছিল সেভাবেই তাঁর বিদ্রোহী চেতনার পাশে যে কোমল একটা মন তাও সোপন করেছিল, তার প্রকাশ ঘটেছে তার শিশু সাহিত্যে।

গসপেলে আছে- Expart you be converted and become aslittle children, you shall not enter the kingdom of heaven. যিশুর উক্তির তাৎপর্য এই যে যদি শিশুর মত সরল, নিষ্পাপ হওয়া যায় তা হলেই স্বর্গরাজ্য লাভ করা সম্ভব। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শিশু স্রষ্টার কতখানি প্রিয়! শিশু দেবোপম। এ জন্যই ইংরেজী বা ইউরোপয়ী সাহিত্যে শিশুকে বিশেষ একটি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাই ইউরোপীয় ইংরেজী শিশুসাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছেন- যে জগতে উপনীত হয়ে সব দেশের সবকালের শিশু বিমোহিত হেব। ইংরেজী সাহিত্য লুইস ক্যারলের অবাক জগতে এলিস’ শিশুদের জন্য রচিত এক অত্যাশ্চার্য সৃষ্টি। কিন্তু ইউরোপীয় সাহিত্যের তুলনায় বাংলা শিশু সাহিত্যের দৈন্য সুপ্রকট। এর হেতু নানাবিধ। তবে মোটামুটি দু একটি কারন উল্লেখ করা যেতে পারে; আমরা জন্মেই বুড়িয়ে যাই। তাই শিশুকে ঠিক শিশু বলে ভাবি না, বুড়ো থেকো বলেই ভাবি এবং শিশুদের জন্য যে সাহিত্য লেখা হয় তা শিশুদের উপযোগী নয়। বড়দের সাহিত্য হয়ে পড়ে। বাংলায় শিশু সাহিত্য অবহেলিত। গাথা এবং রূপকথার লৌকিক ধারায় বেশ প্রাচুর্য ছিল উনিশ শতকের বিখ্যাত লেখকেরা শিশুদের জন্য মৌলিক কিছু লেখার কথা ভাবেন নি। শিশুদের জন্য লেখার তাগিদ আসে বিশ শতকে। সেই সময় নজরুল বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করেই শিশু সাহিত্যের এ দৈন্যদশা ঘুচিয়ে দেন। তাঁর মন ছিল শিশুর মত সরল, শিশুর মতো নিস্পাট। তিনি শিশুদের মনপ্রাণ দিয়েই ভালোবাসতেন। তিনি শিশুদের মনস্তত্ব সম্পর্কে জানতেন। শিশুদের প্রতি তাঁর অন্তরের দরদ তাঁর শিশু সাহিত্যকে করে তুলেছে প্রানস্পর্শী ও আবেগময়।
এ জন্যই তাঁর শিশু সাহিত্য হয়ে উঠেছে স্বার্থক ও অনবদ্য।

লেখক : বাংলা শিশু সাহিত্য ও নজরুল

লকডাউন
                                  

জনির বউ এতটা লক্ষ্মী যে তাদের দুজনের মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি। আসলেই অবিশ্বাস্য একটা বিষয়। অন্তত জনির এমনটাই মনে হয়। বিয়ের এক বছর হতে চলল তবু জনির কোনো সিদ্ধান্তে মনা কোনো দিন আপত্তি তোলেনি। জনি যা বলে তাতেই মনা হ্যাঁ, হুম, বলে সায় দিয়ে যায়। বিয়ের আগে মনা কখনো শাড়ি পরেনি। বিয়ের পর সে সালোয়ার কামিজ পরত কিন্তু জনি একদিন বলে, তুমি শাড়ি পরার অভ্যাস করলে আমি খুশি হবো। জনির আর কিছু বলার প্রয়োজনই হয়নি। মনা তার সব শটস্, জিন্স, টি শার্ট, সালোয়ার কামিজ কবাটে উঠিয়ে রেখেছে। এখন সর্বক্ষণ সে শাড়ি পরে থাকে। জনি চাকরি করে একটি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে। খুবই ব্যস্ততা তার। কখনো নারায়ণগঞ্জে, কখনো আশুলিয়ায় দৌঁড়ের ওপর থাকতে হয় তাকে। ভালোই চলছিল তাদের জীবন। হঠাৎ করে এলো করোনার কাল। আস্তে আস্তে দেশের অবস্থা এমন দিকে গড়ালো সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা হল। জনি এখন সারাদিন বাড়িতে। দুজনে গল্প করে, চা খায় বারান্দায় বসে। এটা ওটা নিয়ে গল্প করে। মনার একটা খারাপ অভ্যাস ছিলো। সে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হটস্অ্যাপ, টিকটক সব ধরনের একাউন্ট আছে তার। জনি বলে, দেখছি মোবাইলটা তোমার হাসবেন্ড হয়ে গেছে।

মনা বলে, কী করব বলো। তুমি সারা দিন বাইরে। সময় কাটে না। এসব করে সময় কাটাই।

—আমি তাই তো বলছি একটা বাচ্চা নাও।

—ঠিক আছে আর কিছুদিন যাক।

জনির বউ অপরূপ সুন্দরী তাই জনি বাইরে চাকরির জন্য পাঠাতে চায় না। বলা তো যায় না। রাস্তা-ঘাটে কোথায় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। নারায়ণগঞ্জে বখাটেদের তো অভাব নেই। একদিন গোসল সেরে জনি গামছা দিয়ে চুল মুছতে মুছতে রুমে ঢোকে। অন্যদিন এই সময় তার ভীষণ ব্যস্ততা থাকে। কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে নাস্তা সেরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হওয়া যায় সেই চেষ্টা চলে। আজ বেলা করে ঘুম থেকে উঠে নাস্তাটা সেরে গোসলে গেছিল। এরপর হাতে কোনো কাজ নেই। বই-পেপার পড়া, টিভি দেখা এসবে তার তেমন কোনো আগ্রহ নাই। কথায় আছে, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা। জনির মাথায় কী যে শয়তানি চাপলো সে ভাবলো বউয়ের সাথে একটু মজা করা যাক। জনি বলল, এই তুমি সারা দিন ফেসবুকে কার কার সঙ্গে কথা বলো?

মনা ফোনটা বন্ধ করে জনির দিকে তাকালো। দুঃখিত। তুমি কখন এলে খেয়াল করিনি। চা খাবে? চা করে দেই?

—লাগবে না।

—তাহলে এখানে এসে বসো। জনির ভেজা মাথায় হাত বুলিয়ে শুকিয়ে দিচ্ছি। তোমাকে বললাম এই সময় নাড়া হয়ে যাও। সবসময় বাড়িতে থাকছো। আরাম পেতে।

—না ঠিক আছে।

মনা জোর করে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে জনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। জনি ভাবে, এই মেয়ে কী দিয়ে তৈরি—রাগ বলতে কি তার কিছু নেই। জনির মনে জেদ চেপে গেল। সে যেভাবেই হোক মনাকে খেপিয়ে তুলবে তারপর ক্ষমা চেয়ে নেবে।

তার কয়েকদিন পরের কথা। মনা বারান্দায় গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল। জনি বারান্দায় গিয়ে হুট করে মনার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দিল। ফোনে নম্বরটা ছোট বোন শিল্পীর নামে সেভ করা। তবু জনি বলল—বারান্দায় এসে লুকিয়ে লুকিয়ে কার সাথে কথা বলছ? মনে করেছ আমি বুঝি না!

—কী বলছ এসব বাজে কথা? আমি আমার ছোট বোন শিল্পীর সাথে কথা বলছিলাম। আমি শুনেছিলাম ছেলে মানুষ বেকার হয়ে বাড়িতে বসে থাকলে মাথা ঠিক থাকে না। সেই হয়েছে তোমার দশা।

—আমাকে উল্টা-পাল্টা বলে পার পাবা না? তোমার মতো সুন্দরী মেয়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটাও প্রেম করেনি সেটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?

—তুমিও তাহলে প্রেম করেছো অনেক?

জনি কী উত্তর দিবে বুঝে উঠতে পারে না। দুয়েকটা প্রেম সে যে করেনি সেটা বললে ঠিক হবে না। কিন্তু ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে গিয়ে ওসব আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হয়নি। এম.এ. করার দশ বছর পর সে বিয়ে করেছে। নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে করবে কীভাবে। দীর্ঘদিন অল্প বেতনে ছোটখাটো চাকরি করেছে তারপর এই চাকরি এবং বিয়ে। মনার সঙ্গে বিয়েটা তার পারিবারিকভাবেই হয়েছে। তবে বিয়ের আগে তারা মাসখানেক নিজের মতো করে ঘুরেছে। একে অপরের মনের কথা শেয়ার করেছে বিয়ের বাজার তারা দুজনে মিলে করেছিলো। জনি বলে, সে সময় পেলাম কই। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এই করতে বরতে তো অর্ধেকটা জীবন পার হয়ে গেল।

—আমার জীবনটা তোমার কাছে উন্মুক্ত বইয়ের মতো। সবই তো তোমাকে বলেছি বিয়ের আগে। আমি একটা রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। মাথায় কাপড় না দিয়ে বাইরে কখনো বের হইনি। কোনো ছেলে বন্ধু তো দূরের কথা—কোনো বান্ধবীর বাড়িতে পর্যন্ত যাওয়া নিষেধ ছিল।

—ও তো কথা জানি না। আমি সারা দিন অফিস করে মরি আর তুমি কার সাথে মারিয়ে বেড়াও। এসব চলবে না। যদি আমার সাথে সংসার করতে চাও তো যেভাবে বলছি সেভাবে চলবে। না তো বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিব।

—বিয়ে এক বছরও হলো না। এরই মধ্যে আমাকে তোমার আর ভালো লাগছে না?

—এই সব বলে সিমপ্যাথি নেবার চেষ্টা করবে না।

—তুমি বলার পর থেকে আমি ফেসবুক বন্ধ করে রেখেছি আর খুলিনি। ফোনটাও কি ব্যবহার করতে পারব না?

—নাহ। পারবা না। বোনের সাথে কথা বলছি বলে আড়ালে প্রেমিকের সাথে কথা বলবে সে চলবে না।

—তোমার মুখে কি কোনো কথা আটকায় না। মনা চোখের জল মুছতে মুছতে ঘরে চলে গেল। রাতে খাবার টেবিলে মনা কোনো কথা বলল না। মায়াভরা কাজল চোখের মেয়েটির জন্য জনির খুব মায়া হল। কী যে সে করছে। অহেতুক মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছে। না এটা ঠিক হচ্ছে না। রাতে অস্থির মন নিয়ে জনি ছাদে একা একা হাঁটাহাঁটি করছিল। হাঁটতে হাঁটতে সে ভীষণ একাকিত্ব বোধ করতে শুরু করে। নিঃসঙ্গ চাঁদটাকে তার অসহ্য মনে হয়। দ্রুত সে নিচে নেমে আসে। শোবার ঘরে গিয়ে দেখে মনা একা একা বসে কাঁদছে। জনি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। তারপর বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বুকে মাথা রাখে। মনার হাত দুটোকে টেনে এনে নিজের মাথার উপর রাখে। মনা হাত দুটো সরিয়ে নেয়। জনি আবার মনার হাত দুটোকে তার মাথার উপর রাখে। মনা আবার হাত সরিয়ে নেয়। তৃতীয়বারে মনা নিজেই জনিকে বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে। জনির ঠোঁটে চুমু খায়। মনা বলে, তুমি বাচ্চা নিতে চাইলে আমার কোনো আপত্তি নেই।

—তাহলে আজ থেকেই সে চেষ্টা শুরু করা যাক।

—ওরে বদমাশ। সুড়সুড়ি। সে জনির কোমরে সুড়সুড়ি দেয়। মনা ভালা করেই জানে জনির কোমরে অনেক সুড়সুড়ি। জনি ছিটকে দূরে সরে যায়।

পরের দিন সকালে জনি ভাবে, নাহ আর নাহ। এই খেলা বাদ দিতে হবে। খুব রিক্সি হয়ে যাচ্ছে গেইমটা। কিন্তু ঠিক তখনই মাথার মধ্যে পোকা কিলবিল করে ওঠে। মনা বিছানা ঠিক করতে করতে বলে, কবে যে লকডাউন অবস্থা থেকে মুক্তি পাবো। নারায়ণগঞ্জের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।

—কেন? যদি সমস্যা হয় আমার হবে। অফিস আর ক’মাস বেতন দিতে পারবে? বেতন বন্ধ হলে সংসার চালাব কীভাবে? এসব তো আমার ভাবনা। তুমি তো বিন্দাস আছো।

—তারপরও।

—তারপরও কী? প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলতে পারছ না।

—কী বলছ এসব! অবাক হয়ে মনা জনির দিকে তাকায়।

জনি জানে, মনা সে ধরনের নারী যাদের জীবনের উদ্দেশ্য স্বামী সেবা—পতিব্রতা যাদের কাছে পরম ধর্ম। জনি তার মুখে একটা কৃত্রিম উষ্ণতা ধরে রাখে।

মনা এবার সত্যি ভয় পেয়ে যায়। সে বলে, তোমার সাথে আজকাল কথা বলতে ভয় হয়। মনা ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

—ধুর। জনি ভীষণ বিরক্ত। এ মেয়ে কী দিয়ে গড়া এত কিছুর পরও উত্তেজিত হয় না।

তবে একটা প্রতিক্রিয়া মনা দেখায়—জনির সাথে সে একেবারে কথা বন্ধ করে দেয়। জনি আবার এমন গুমোট পরিবেশ সহ্য করতে পারে না। বাড়িতে তারা দুইজন প্রাণী। লোকডাউন চলছে। বাইরে যাওয়া একেবারে বন্ধ। এখন যদি মনার সাথে সে কথা বলতে না পারে তো দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে! জনি সিদ্ধান্ত নেয়—এই খেলা শেষ করতে হবে। এভাবে দুই দিন কেটে গেছে। আজ ছিল পহেলা বৈশাখ। লকডাউন শুরু হবার আগে জনি একটা শাড়ি কিনে এনেছিল। ভেবেছিল মনা সেটা পরবে। বাড়িতে যা কিছু আছে তা দিয়েই ভালো-মন্দ রান্না করবে। কিন্তু সেটা করে না মনা। জনি ভাবে, নাহ। এবার সত্যি সত্যি এই খেলা শেষ করবে। রাত তখন ১১টা। মনা শোবার ঘরে আর আসে না। ব্যালকুনির অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে থাকে। বিকেল থেকে আকাশে মেঘ ছিলো, কোথাও না কোথাও কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। জনি বিছানায় না গিয়ে চেয়ারে বসে থাকে। বরোটা বেজে যায় তবু মনা ঘরে আসে না। বাইরে ঠান্ডা বাতাস বইছে। মাঝে মাঝে আকাশ রূপালি আলোয় ভরে যাচ্ছে। সে আলোয় মনার তন্বী তনু জানালার ওপারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনির মাথায় কী যে ভূত চাপল সে ব্যালকুনির আঁধারে মনার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। এখানে কী করছ?

—কী বলবা না কোন সেই প্রেমিক? কার জন্য মন খারাপ করে এখানে দাঁড়িয়ে আছো? এই তোমার শেষ সুযোগ। মনা অবাক হয়ে জনির দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে ভয়ের রেখা। বিজলির আলোয় মনার ঠোঁট দুটো কেঁপে কেঁপে ওঠে। জনি আবার বলে, কী বলবা না, কে সে?

—তুমি যেদিন বলেছিলে ফেসবুক বন্ধ করে দিতে সেদিন থেকে ওর সাথে কথা বন্ধ করেছি।

হঠাৎ ঝড় উঠল। সাথে এলোমেলো বৃষ্টি। বজ্রপাতের শব্দে জনির কান যেন ঝালা-ফালা হয়ে গেল। মাঝে মাঝে লকডাউন ভেঙে বাজার করার জন্য জনিকে বাইরে যেতে হয়েছে। শরীরে ঘাম দিয়ে যেন জ্বর আসছে তার। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে নাকি সে?


   Page 1 of 8
     সাহিত্য
বঙ্গবন্ধুর নামে ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা উৎসর্গ হবে
.............................................................................................
সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা বিষয়ক লোক সংগীত ও পথ নাটক
.............................................................................................
একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আর নেই
.............................................................................................
সেরা লেখকের পুরস্কার পেলেন আয়মান সাদিক
.............................................................................................
"" নারী তুমি জাগো ""
.............................................................................................
প্রতিষ্ঠানের নামফলক বাংলা করার দাবি
.............................................................................................
শিল্পী-সাহিত্যিকদের উপর আস্থা ছিল প্রণব মুখার্জির
.............................................................................................
বাংলা সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্রের ওয়েবসাইটের যাত্রা শুরু
.............................................................................................
হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আসুক না বাঁধা
.............................................................................................
যে যায় সে দীর্ঘ যায়
.............................................................................................
আর কত হারানোর বেদনা সইব?
.............................................................................................
ভেন্টিলেটর বিভ্রাট
.............................................................................................
আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী
.............................................................................................
শিশুসাহিত্য রচনায় নজরুলের অবদান
.............................................................................................
লকডাউন
.............................................................................................
মসজিদ পোড়ার প্রতিবাদে মন্দির রক্ষা করে দেখিয়ে দিন
.............................................................................................
বইমেলায় দৈনিক গণমুক্তির কলামিস্ট আসাদুজ্জামান জুয়েলের দুটি বই
.............................................................................................
দিনাজপুর বানিজ্য মেলার উদ্বোধন
.............................................................................................
বাংলা মোদের মাতৃভাষা
.............................................................................................
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষিকাকে শীলতাহানি,কারাদন্ড-১
.............................................................................................
প্রশাসনের সাহসী নির্বাহী কর্মকর্তা
.............................................................................................
একুশে বইমেলায় মোংলা সাহিত্য পরিষদের ৪টি নতুন বই
.............................................................................................
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কতিপয় সমাজিক প্রতিবন্ধকতা
.............................................................................................
অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
পাকিস্তানের কবি ফায়েজের বিখ্যাত পংক্তি কি হিন্দু-বিরোধী - তদন্ত হচ্ছে ভারতে
.............................................................................................
পল্লীকবি জসীমঊদ্দীনের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
অ্যারি বেহন লেখক এবং নরওয়ের রাজকন্যার প্রাক্তন স্বামী আর নেই
.............................................................................................
যে দশটি বই জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত
.............................................................................................
সরকারের ধান সংগ্রহে কৃষকের সঙ্গে এই প্রতারণার শেষ কোথায়?
.............................................................................................
""ব্যবধান""
.............................................................................................
কচুরিপানা সরিয়েই উন্নয়নের নৌকা এগিয়ে নিতে হবে
.............................................................................................
রক্ষা করা যাচ্ছেনা জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ
.............................................................................................
কবিতা
.............................................................................................
মৌচাক
.............................................................................................
অনগ্রসর মানুষের জীবনে দ্বীপ জ্বালাতে চান ঝর্ণা
.............................................................................................
পোড়া বৈশাখ
.............................................................................................
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
.............................................................................................
পাকিজা মল্লিক
.............................................................................................
মরুপ্লাবন
.............................................................................................
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিলেন ৪ লেখক
.............................................................................................
শাশুড়ির মন জয় করার ৭ উপায়
.............................................................................................
কেন কেটে নেওয়া হয়েছিল খনার জিব
.............................................................................................
জাতি হিসেবে একাত্তরের বিজয় আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন: ড. আতিউর
.............................................................................................
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
আজ কবি ভাগ্যধন বড়ুয়ার জন্মদিন
.............................................................................................
অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আকিমুন রহমান
.............................................................................................
কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন নির্মলেন্দু গুণ
.............................................................................................
আজ মোহিত কামালের ৬০তম জন্মদিন
.............................................................................................
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ
.............................................................................................

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মো: রিপন তরফদার নিয়াম
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : মফিজুর রহমান রোকন
নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হোসেন শাহীন
বাণিজ্যিক কার্যালয় : "রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্স"
(৬ষ্ঠ তলা), ২৮/১ সি, টয়েনবি সার্কুলার রোড,
মতিঝিল বা/এ ঢাকা-১০০০| জিপিও বক্স নং-৫৪৭, ঢাকা
ফোন নাম্বার : ০২-৪৭১২০৮০৫/৬, ০২-৯৫৮৭৮৫০
মোবাইল : ০১৭০৭-০৮৯৫৫৩, 01731800427
E-mail: dailyganomukti@gmail.com
Website : http://www.dailyganomukti.com
   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop