ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ঈদগড় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অনিয়মে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের ঈদগাহ জোনাল অফিসের আওতাধীন ঈদগড় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে চলমান সেচ মৌসুমে দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা এবং বিল সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতির কারণে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে দিনে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ধানসহ মৌসুমি ফসল চাষে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন।
ঈদগড় ইউনিয়নের কৃষক আবদুল কাদের বলেন, “দিনে দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে কীভাবে সেচ দেব? রাতেও বিদ্যুৎ থাকে না। জমিতে পানি দিতে না পারলে পুরো মৌসুমটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”
একই এলাকার আরেক কৃষক মো. রশিদ জানান, “বিদ্যুৎ কখন আসে কখন যায় বোঝা যায় না। পাম্প চালু করতেই আবার চলে যায়। এতে সেচ খরচ বাড়ছে, ফসলের উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে সামনে ১৫ তারিখ সরকারি বৃত্তি পরীক্ষা এবং ২১ তারিখ থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সন্ধ্যার পর ৩-৪ বার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না।
পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের মা নাসিমা বেগম বলেন, “সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ থাকে না। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। পরীক্ষা সামনে, কিন্তু এই অবস্থায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে গেছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “সারাদিন দোকান চালাতে পারি না। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
গ্রাহকদের আরেকটি বড় অভিযোগ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। তাদের দাবি, বর্তমান মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কোনো মিল থাকে না। অনেক সময় বিল হাতে পৌঁছায় না, কিন্তু বিল পরিশোধে দেরি হলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পুনঃসংযোগে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।
গ্রাহক আবুল হোসেন বলেন, “বিল হাতে পাই না, কিন্তু পরে এসে বলে বকেয়া আছে। টাকা না দিলে লাইন কেটে দেয়। আবার লাইন নিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।”
এছাড়া গাছ কাটার সময় আগাম মাইকিং করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
একজন স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরীক্ষার সময় এভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা খুবই দুঃখজনক। অন্তত শিক্ষা কার্যক্রম বিবেচনা করে লোডশেডিং কমানো উচিত।”
এ বিষয়ে ঈদগড় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বিলের অসঙ্গতি দূর করা এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বিদ্যুৎ বন্ধ না রাখার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঈদগড় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের অনিয়মে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের ঈদগাহ জোনাল অফিসের আওতাধীন ঈদগড় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে চলমান সেচ মৌসুমে দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা এবং বিল সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতির কারণে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে দিনে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ধানসহ মৌসুমি ফসল চাষে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন।
ঈদগড় ইউনিয়নের কৃষক আবদুল কাদের বলেন, “দিনে দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে কীভাবে সেচ দেব? রাতেও বিদ্যুৎ থাকে না। জমিতে পানি দিতে না পারলে পুরো মৌসুমটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”
একই এলাকার আরেক কৃষক মো. রশিদ জানান, “বিদ্যুৎ কখন আসে কখন যায় বোঝা যায় না। পাম্প চালু করতেই আবার চলে যায়। এতে সেচ খরচ বাড়ছে, ফসলের উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে সামনে ১৫ তারিখ সরকারি বৃত্তি পরীক্ষা এবং ২১ তারিখ থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সন্ধ্যার পর ৩-৪ বার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না।
পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের মা নাসিমা বেগম বলেন, “সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ থাকে না। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। পরীক্ষা সামনে, কিন্তু এই অবস্থায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে গেছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “সারাদিন দোকান চালাতে পারি না। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
গ্রাহকদের আরেকটি বড় অভিযোগ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। তাদের দাবি, বর্তমান মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কোনো মিল থাকে না। অনেক সময় বিল হাতে পৌঁছায় না, কিন্তু বিল পরিশোধে দেরি হলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পুনঃসংযোগে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।
গ্রাহক আবুল হোসেন বলেন, “বিল হাতে পাই না, কিন্তু পরে এসে বলে বকেয়া আছে। টাকা না দিলে লাইন কেটে দেয়। আবার লাইন নিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।”
এছাড়া গাছ কাটার সময় আগাম মাইকিং করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
একজন স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পরীক্ষার সময় এভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা খুবই দুঃখজনক। অন্তত শিক্ষা কার্যক্রম বিবেচনা করে লোডশেডিং কমানো উচিত।”
এ বিষয়ে ঈদগড় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বিলের অসঙ্গতি দূর করা এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বিদ্যুৎ বন্ধ না রাখার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।