কুষ্টিয়ার জনতার হামলায় নিহত কথিত পীর শামীমের দাফন সম্পন্ন
এলাকায় উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হামলা মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত হন শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যান। সে সময় আস্তানায় থাকা কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা ফিরে গেছেন। গত শনিবার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে সেখানে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই ঘটনার প্রায় একদিন হতে চললেও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
১২ মার্চ রোববার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে এলাকার তৌহিদী জনতা অপরদিকে ভন্ড শামীম পীরের অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান গ্রহন করছেন। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন।
এছাড়াও, তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, তার প্রায় সব কর্মকান্ডই ছিল ভন্ডামির বহিঃপ্রকাশ, যা ধীরে ধীরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এর আগেও একাধিকবার এলাকাবাসী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যিনি কোরআন শরীফের তাফসীর লিখেছেন তিনিও মুর্খ এবং যারা পড়ে তারাও মুর্খ। এ কথা প্রচারের পরই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যা পরিপেক্ষিতে এলাকাবাসী শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটায় বলে জানানো হয়।
ঘটনার দিন সকাল থেকেই তার কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ মারধরের ঘটনায় শামীম নিহত হয় আহত হন প্রায় ৭ জন।
এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবেশ শান্ত করতে সেখানে ব্যাপক পুলিশ বিজিবি প্রশাসন মোতায়েন করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডি আইজি শেখ জয়নুদ্দিন, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

















