ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া কালি মন্দির

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৬০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শত শত বিঘা সম্পত্তি, পুকুর থাকা সত্ত্বেও বেদখল থাকায় নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ঠাকুর মান্দা রাজখাড়া ষ্টেটের কালিমন্দিরের ২শ বছরের ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে। পারছে না জাকজমকপূর্ণ পরিবেশে পূজা অর্চনা করতে, পারছে না নিয়ামতপুর, মান্দা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নে সাহায্য করতে যা পূর্ব পুরুষরা করে আসছিল, পারছে না সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করতে। কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বলছিলেন ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া জমিদার পরিবারের উত্তরসুরী অশোক রায় বাপ্পি।
ঠাকুর মান্দা রাজখাড়া জমিদার বাড়ীর কালিমন্দিরের ২শ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কালিপূজা অনুষ্ঠানের পূর্ব মুহুর্তে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন অসোক রায় বাপ্পি।
তিনি আরো বলেন, শ্রীশ্রী জয় কালী মাতা ও শ্রীশ্রী শরৎকালী ঠাকুরানী রাজখাড়া দেবোত্তর স্টেট কসবা মান্দা জেলা নওগাঁ কর্তৃক আয়োজিত ২শ বছর জন্মতিথি উপলক্ষে এক বিশেষ কালী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরে রাজশাহী কালেক্টর মহোদয়ের নিকট প্রাক্তন জমিদার কালিপদ রায় ও দেবীপদ রায় ২৫০/৭৫ মামলা রুজু করে। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী কালেক্টর মহোদয় ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড কর্তৃক মান্দা এবং নিয়ামতপুর উপজেলাধীন ৩৪৭.৬৬ একর সম্পত্তি এক নাম্বার নিষ্কণ্টক খাস খতিয়ান হতে শ্রী শ্রী জয় কালী মাতা ঠাকুরানি পক্ষে বরাদ্দ করে। উক্ত মন্দিরের সেবাইতগন খাজনা খারিজ সহ দেব সেবা পরিচালনা করিয়া আসিয়াছে এবং নওগাঁ জেলা হওয়ার পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব নওগাঁ) কর্তৃক ২৫০/৭৫ মিসকেসের পক্ষে পুনরায় রায় প্রদান করিয়া সংশোধিত খতিয়ান ২(ক) প্রস্তুত করিয়া ভোগ দখল করিতে থাকেন।
২০০৩ সালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নওগাঁ এ রায়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী মহোদয়ের নিকট ১১২/২০০৩ আপিল মামলার দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২রা ফেব্রুয়ারীতে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় উক্ত আপিল বাতিল করিয়া পুনরায় রাজখাড়া দেবতর স্টেট
শ্রীশ্রী জয় কালী মাতা ঠাকুরানীর পক্ষে রায় প্রদান করেন।
কিন্তু বিগত সরকার থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটা সম্পত্তি ভূমিদস্যদের দখলে যা পুনরুদ্ধারে গেলে বিভিন্ন প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। সেবাইত অশোক রায় সরকার বাহাদুরের কাছে বিনীত অনুরোধ করেন উক্ত স্টেট এর সম্পত্তি যেন খুব তাড়াতাড়ি অবৈধ দুষ্কৃতিদের হাত থেকে অবমুক্ত করিয়া এই দেব সেবা পরিচালনার কাজে সহায়তা করেন। বিগত সরকারের আমলে সরকারী দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাদেও সম্পত্তি জবরদখল করে খাচ্ছিল। ঠিক তেমনি ভাইে এখন আরেক দলের লোকেরা জোর কওে জবর দখল করে খাচ্ছে। তাই সরকার বাহাদুরের কাছে আকুল আবেদন আমার রাজখাড়া ষ্টেটের সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার কওে ২শ বছরের ঐতিহ্য রক্ষাসহ বিভিন্ন মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়ন করা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া কালি মন্দির

আপডেট সময় :

শত শত বিঘা সম্পত্তি, পুকুর থাকা সত্ত্বেও বেদখল থাকায় নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ঠাকুর মান্দা রাজখাড়া ষ্টেটের কালিমন্দিরের ২শ বছরের ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে। পারছে না জাকজমকপূর্ণ পরিবেশে পূজা অর্চনা করতে, পারছে না নিয়ামতপুর, মান্দা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নে সাহায্য করতে যা পূর্ব পুরুষরা করে আসছিল, পারছে না সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করতে। কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বলছিলেন ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া জমিদার পরিবারের উত্তরসুরী অশোক রায় বাপ্পি।
ঠাকুর মান্দা রাজখাড়া জমিদার বাড়ীর কালিমন্দিরের ২শ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কালিপূজা অনুষ্ঠানের পূর্ব মুহুর্তে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন অসোক রায় বাপ্পি।
তিনি আরো বলেন, শ্রীশ্রী জয় কালী মাতা ও শ্রীশ্রী শরৎকালী ঠাকুরানী রাজখাড়া দেবোত্তর স্টেট কসবা মান্দা জেলা নওগাঁ কর্তৃক আয়োজিত ২শ বছর জন্মতিথি উপলক্ষে এক বিশেষ কালী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরে রাজশাহী কালেক্টর মহোদয়ের নিকট প্রাক্তন জমিদার কালিপদ রায় ও দেবীপদ রায় ২৫০/৭৫ মামলা রুজু করে। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী কালেক্টর মহোদয় ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড কর্তৃক মান্দা এবং নিয়ামতপুর উপজেলাধীন ৩৪৭.৬৬ একর সম্পত্তি এক নাম্বার নিষ্কণ্টক খাস খতিয়ান হতে শ্রী শ্রী জয় কালী মাতা ঠাকুরানি পক্ষে বরাদ্দ করে। উক্ত মন্দিরের সেবাইতগন খাজনা খারিজ সহ দেব সেবা পরিচালনা করিয়া আসিয়াছে এবং নওগাঁ জেলা হওয়ার পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব নওগাঁ) কর্তৃক ২৫০/৭৫ মিসকেসের পক্ষে পুনরায় রায় প্রদান করিয়া সংশোধিত খতিয়ান ২(ক) প্রস্তুত করিয়া ভোগ দখল করিতে থাকেন।
২০০৩ সালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নওগাঁ এ রায়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী মহোদয়ের নিকট ১১২/২০০৩ আপিল মামলার দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২রা ফেব্রুয়ারীতে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় উক্ত আপিল বাতিল করিয়া পুনরায় রাজখাড়া দেবতর স্টেট
শ্রীশ্রী জয় কালী মাতা ঠাকুরানীর পক্ষে রায় প্রদান করেন।
কিন্তু বিগত সরকার থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটা সম্পত্তি ভূমিদস্যদের দখলে যা পুনরুদ্ধারে গেলে বিভিন্ন প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। সেবাইত অশোক রায় সরকার বাহাদুরের কাছে বিনীত অনুরোধ করেন উক্ত স্টেট এর সম্পত্তি যেন খুব তাড়াতাড়ি অবৈধ দুষ্কৃতিদের হাত থেকে অবমুক্ত করিয়া এই দেব সেবা পরিচালনার কাজে সহায়তা করেন। বিগত সরকারের আমলে সরকারী দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাদেও সম্পত্তি জবরদখল করে খাচ্ছিল। ঠিক তেমনি ভাইে এখন আরেক দলের লোকেরা জোর কওে জবর দখল করে খাচ্ছে। তাই সরকার বাহাদুরের কাছে আকুল আবেদন আমার রাজখাড়া ষ্টেটের সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার কওে ২শ বছরের ঐতিহ্য রক্ষাসহ বিভিন্ন মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়ন করা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করুন।