কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ৬৬ বার পড়া হয়েছে
ঈদ-পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জমে থাকা বিপুল প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউএনডিপি বাংলাদেশ, দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন এবং স্থানীয় সরকার যৌথভাবে একটি প্লাস্টিক পুনঃচক্রায়নভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় সৈকত পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেছে।
এই কার্যক্রমের আওতায় কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা লাবণী সৈকত ও সুগন্ধা সৈকত-এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের অতিরিক্ত চাপের কারণে এসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে সৈকতে ফেলে রাখা পানির বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ বিভিন্ন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু পরিবেশ দূষণই বাড়ায় না, বরং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ সাগরে গিয়ে মিশে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গত ২৪ মার্চ সকাল ১১টায় সুগন্ধা সৈকত পয়েন্টে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ এ. মান্নান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মোঃ শামীম আল ইমরান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ পর্যায়ে প্রতিদিন ৩০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও ২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী সৈকত পরিষ্কারে কাজ করছেন। তারা প্লাস্টিকসহ সব ধরনের একবার ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ, পরিমাণ নির্ধারণ এবং স্থানীয়ভাবে পুনঃব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগৃহীত বর্জ্যের একটি বড় অংশ এখনো কার্যকরভাবে পুনঃব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, শুধুমাত্র পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে কক্সবাজারের পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং পর্যটন খাতও ক্ষতির মুখে পড়বে।
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সৈকতে বর্জ্যের পরিমাণ দৃশ্যমানভাবে কমবে, জনসচেতনতা বাড়বে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও ধারাবাহিক করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


















