ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

এমবিবিএস পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. এম রহমান, নেই বিএমডিসি নাম্বার

কখনও এমবিবিএস আবার কখনও সরকারি ডাক্তার সেজে করছেন চিকিৎসা

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকায় নিজেকে কখনও এমবিবিএস, কখনও সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন ডা: এম রহমান নামের এক চিকিৎসক। তিনি নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে ডা. এম রহমানের বিরুদ্ধে। তার প্রকৃত পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা সনদ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হলেও নজর নেই প্রশাসনের।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত একজন ব্যক্তিকে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে এবং গাইনি সংক্রান্ত বিষয়ে রোগীর সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি নিজেকে ডা. এম রহমান নামে পরিচয় দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার প্রকৃত নাম মুহাম্মাদ মুখলেসুর রহমান। রাজশাহী মহানগরের ষষ্টিতলা এলাকায় তার পৈতৃক বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি নওহাটা এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে তিনি “নওহাটা ইসলামী জেনারেল হাসপাতাল” নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ক্লিনিকে তিনি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন এবং বিশেষ করে গাইনি রোগীদের চিকিৎসায় পবেশ আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি করেন, প্রেসক্রিপশন লিখেন এবং অপারেশনের মতো কাজও করে থাকেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তার ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ড, চিকিৎসা প্যাড ও সিলমোহরে নামের আগে ‘ডা.’ এবং পরে “MBBS” লেখা রয়েছে। তবে তার চিকিৎসা শিক্ষার কোনো বৈধ সনদ বা নিবন্ধনের তথ্যও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। এ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র ও আলট্রাসনোগ্রাফি করার ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৩০ বছর বয়সী মোমেনা (ছদ্মনাম) নামের এক নারী চিকিৎসা নিতে নওহাটা ইসলামী জেনারেল হাসপাতালে যান। তিনি জানান, সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন স্টাফ তাকে ফি জমা দিতে বলেন এবং জানান যে ডা. এম রহমান তার সমস্যার চিকিৎসা দেবেন। তার অভিযোগ, নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর ডা. এম রহমান নিজেই তার আলট্রাসনোগ্রাফি করেছেন এবং প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরেক নারী রোগী আফরোজা (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, তিনিও একই দিনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে একই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, চিকিৎসার সময় তার সঙ্গে বাজে ভাষায় কথা বলেছেন এবং চিকিৎসার নামে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরও এক ভুক্তভোগী জানান, আলট্রাসনোগ্রাফির সময় তার জরায়ু অত্যান্ত সুন্দর আছে এবং জুটমিলে কাজ করেও কিভাবে এত সুন্দর রেখেছে বলে প্রশ্ন করেন। শুধু তাই নয়, স্বামীর সঙ্গে কতক্ষণ সহবাস হয় সে কথাও তিনি জানতে চান। এসময় ঐ ভুক্তভোগী চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন বলে জানান। পরে তিনি আর কখনও ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নওহাটা ইসলামী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ডা. এম রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জানা যায় তিনি হাসপাতালে নেই। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হাসপাতালে যেতে বলেন। এরপর সেখানে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হলে সাংবাদিকরা তার চিকিৎসা সনদ ও যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে তিনি দাবি করেন, তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সিভিল সার্জন অফিসে জমা দেওয়া আছে এবং সেখান থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেন। তবে তিনি নিজে কোনো চিকিৎসা সনদ বা নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। এসময় তিনি আলট্রাসনোগ্রাফি করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে একটি ভিডিও দেখানো হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন। সেখানে ব্যর্থ হলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতার পরিচয় দেন এবং পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন।
এমন কর্মকান্ড নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্পর্শকাতর খাতে যদি কেউ ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন, তবে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সুত্র বলছে, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) অ্যাক্ট ২০১০ এর ধারা ২৯ অনুযায়ী, BMDC নিবন্ধন ছাড়া কেউ যদি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন বা চিকিৎসা প্রদান করেন, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধানও রয়েছে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ ভুয়া পরিচয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন, তাহলে বাংলাদেশ পেনাল কোড ১৮৬০ এর বিভিন্ন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন-
ধারা ৪১৯, ধারা ৪২০। এই ধারাগুলোর আওতায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এমন ঘটনা নিয়ে কথা হয় পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আসাদুজ্জামান এর সাথে। তিনি বলেন বিষয়টি ঈদের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছি। ঈদের পর ব্যবস্থা নিব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার আপনি বললেন, অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর তদন্তের স্বার্থে আমাকে সংরক্ষিত ডকুমেন্টস গুলো দিয়ে হেল্প করবেন। পরে প্রতিবেদকের সাথে সৌজন্য আলোচনা করে কথা শেষ করেন।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন গণমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এমবিবিএস পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. এম রহমান, নেই বিএমডিসি নাম্বার

কখনও এমবিবিএস আবার কখনও সরকারি ডাক্তার সেজে করছেন চিকিৎসা

আপডেট সময় :

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকায় নিজেকে কখনও এমবিবিএস, কখনও সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন ডা: এম রহমান নামের এক চিকিৎসক। তিনি নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি ও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে ডা. এম রহমানের বিরুদ্ধে। তার প্রকৃত পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা সনদ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হলেও নজর নেই প্রশাসনের।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত একজন ব্যক্তিকে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে এবং গাইনি সংক্রান্ত বিষয়ে রোগীর সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি নিজেকে ডা. এম রহমান নামে পরিচয় দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার প্রকৃত নাম মুহাম্মাদ মুখলেসুর রহমান। রাজশাহী মহানগরের ষষ্টিতলা এলাকায় তার পৈতৃক বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি নওহাটা এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে তিনি “নওহাটা ইসলামী জেনারেল হাসপাতাল” নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ক্লিনিকে তিনি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করেন এবং বিশেষ করে গাইনি রোগীদের চিকিৎসায় পবেশ আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি করেন, প্রেসক্রিপশন লিখেন এবং অপারেশনের মতো কাজও করে থাকেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তার ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ড, চিকিৎসা প্যাড ও সিলমোহরে নামের আগে ‘ডা.’ এবং পরে “MBBS” লেখা রয়েছে। তবে তার চিকিৎসা শিক্ষার কোনো বৈধ সনদ বা নিবন্ধনের তথ্যও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। এ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র ও আলট্রাসনোগ্রাফি করার ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৩০ বছর বয়সী মোমেনা (ছদ্মনাম) নামের এক নারী চিকিৎসা নিতে নওহাটা ইসলামী জেনারেল হাসপাতালে যান। তিনি জানান, সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন স্টাফ তাকে ফি জমা দিতে বলেন এবং জানান যে ডা. এম রহমান তার সমস্যার চিকিৎসা দেবেন। তার অভিযোগ, নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর ডা. এম রহমান নিজেই তার আলট্রাসনোগ্রাফি করেছেন এবং প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও গণমাধ্যমের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরেক নারী রোগী আফরোজা (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, তিনিও একই দিনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে একই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি জানান, চিকিৎসার সময় তার সঙ্গে বাজে ভাষায় কথা বলেছেন এবং চিকিৎসার নামে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরও এক ভুক্তভোগী জানান, আলট্রাসনোগ্রাফির সময় তার জরায়ু অত্যান্ত সুন্দর আছে এবং জুটমিলে কাজ করেও কিভাবে এত সুন্দর রেখেছে বলে প্রশ্ন করেন। শুধু তাই নয়, স্বামীর সঙ্গে কতক্ষণ সহবাস হয় সে কথাও তিনি জানতে চান। এসময় ঐ ভুক্তভোগী চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন বলে জানান। পরে তিনি আর কখনও ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নওহাটা ইসলামী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ডা. এম রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জানা যায় তিনি হাসপাতালে নেই। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হাসপাতালে যেতে বলেন। এরপর সেখানে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হলে সাংবাদিকরা তার চিকিৎসা সনদ ও যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে তিনি দাবি করেন, তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সিভিল সার্জন অফিসে জমা দেওয়া আছে এবং সেখান থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেন। তবে তিনি নিজে কোনো চিকিৎসা সনদ বা নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। এসময় তিনি আলট্রাসনোগ্রাফি করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে একটি ভিডিও দেখানো হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন। সেখানে ব্যর্থ হলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতার পরিচয় দেন এবং পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন।
এমন কর্মকান্ড নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্পর্শকাতর খাতে যদি কেউ ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন, তবে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সুত্র বলছে, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) অ্যাক্ট ২০১০ এর ধারা ২৯ অনুযায়ী, BMDC নিবন্ধন ছাড়া কেউ যদি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন বা চিকিৎসা প্রদান করেন, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধানও রয়েছে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ ভুয়া পরিচয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন, তাহলে বাংলাদেশ পেনাল কোড ১৮৬০ এর বিভিন্ন ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন-
ধারা ৪১৯, ধারা ৪২০। এই ধারাগুলোর আওতায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এমন ঘটনা নিয়ে কথা হয় পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আসাদুজ্জামান এর সাথে। তিনি বলেন বিষয়টি ঈদের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখেছি। ঈদের পর ব্যবস্থা নিব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার আপনি বললেন, অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর তদন্তের স্বার্থে আমাকে সংরক্ষিত ডকুমেন্টস গুলো দিয়ে হেল্প করবেন। পরে প্রতিবেদকের সাথে সৌজন্য আলোচনা করে কথা শেষ করেন।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন গণমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।