ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

রামুতে আইডব্লিউআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

কর্মকর্তা–ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

এস.এম হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ৯৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল, জোয়ারিয়ানালা, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে জাপান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত আইডব্লিউআর (IWR) প্রকল্পের ওয়াশ (WASH) কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার করছে।
অভিযোগে বলা হয়, টিউবওয়েল, সাবমারসিবল পাম্প ও ডাবল চেম্বার টয়লেট নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের সস্তা ও নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট-কুয়া ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় টিউবওয়েলের হেড বা গর্দান নকশা ও মানদণ্ড অনুসরণ না করেই বসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বোরিংয়ের গভীরতা নিয়েও ব্যাপক গরমিল রয়েছে। বাস্তবে ৩৫০ থেকে ৫৩০ ফুট বোরিং করা হলেও বিল দেখানো হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট। একইভাবে সেলু টিউবওয়েলে ৯০ থেকে ১২০ ফুট বোরিং করেও বিল দেখানো হয়েছে প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ ফুট গভীরতার।
এ ছাড়া কিছু এলাকায় নতুন বোরিং না করে স্থানীয়দের পুরনো ব্যক্তিগত টিউবওয়েলের সঙ্গে পাইপ সংযোগ দিয়ে নতুন কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেক উপকারভোগীর পুরনো টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে।
ডাবল চেম্বার টয়লেট নির্মাণেও নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগ রয়েছে। নকশা অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি ছাঁদ ঢালাই করার কথা থাকলেও বহু জায়গায় মাত্র ২ থেকে ৩ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের তালিকায় প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান, প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আহসান সাব্বির, মনিটরিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার টমাস বিশ্বাস, ফাইন্যান্স অফিসার রাসেল মাঝিসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফাক্রিকাটা গ্রাম ওয়াস কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সরকারি ও দাতা সংস্থার অর্থ অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। দরিদ্র মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রামুতে আইডব্লিউআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

কর্মকর্তা–ঠিকাদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল, জোয়ারিয়ানালা, গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে জাপান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত আইডব্লিউআর (IWR) প্রকল্পের ওয়াশ (WASH) কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার করছে।
অভিযোগে বলা হয়, টিউবওয়েল, সাবমারসিবল পাম্প ও ডাবল চেম্বার টয়লেট নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের সস্তা ও নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের পাশাপাশি নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট-কুয়া ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় টিউবওয়েলের হেড বা গর্দান নকশা ও মানদণ্ড অনুসরণ না করেই বসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বোরিংয়ের গভীরতা নিয়েও ব্যাপক গরমিল রয়েছে। বাস্তবে ৩৫০ থেকে ৫৩০ ফুট বোরিং করা হলেও বিল দেখানো হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট। একইভাবে সেলু টিউবওয়েলে ৯০ থেকে ১২০ ফুট বোরিং করেও বিল দেখানো হয়েছে প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ ফুট গভীরতার।
এ ছাড়া কিছু এলাকায় নতুন বোরিং না করে স্থানীয়দের পুরনো ব্যক্তিগত টিউবওয়েলের সঙ্গে পাইপ সংযোগ দিয়ে নতুন কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেক উপকারভোগীর পুরনো টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে।
ডাবল চেম্বার টয়লেট নির্মাণেও নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগ রয়েছে। নকশা অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি ছাঁদ ঢালাই করার কথা থাকলেও বহু জায়গায় মাত্র ২ থেকে ৩ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের তালিকায় প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান, প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আহসান সাব্বির, মনিটরিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার টমাস বিশ্বাস, ফাইন্যান্স অফিসার রাসেল মাঝিসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফাক্রিকাটা গ্রাম ওয়াস কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সরকারি ও দাতা সংস্থার অর্থ অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। দরিদ্র মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।