ঘাটাইলে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৩৬ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৪৫নং শেখ শিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সোহরাব হেসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি ও অমানবিক আচরনের অভিযোগ ওঠেছে।
এ বিষয়ে বিগত ৭ ডিসেম্বর/২৫ খ্রিস্টাব্দে ভূক্তভোগী অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ১৫৭ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত সূত্রে জানা যায়,শেখ শিমুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোঃ সোহরাব হোসেন ২০১৭ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিগত ৭ বছরে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল, সেশন চার্জ, রেজিষ্ট্রেশন ফিস, সার্টিফিকেট ও প্রশংসাপত্র বাবদ প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও নিজ কর্মস্থলে কোচিং সেন্টার খুলে এবং বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষা উপকরন ব্যবহার করে প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। সোনালী ব্যাকের দুইটি হিসাবের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য ২০১৭ হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১১০৬৩০০ টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু শিক্ষার মান এবং পাঠদান ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে বেশির ভাগ টাকাই আত্বসাৎ করেছেন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরকে কৃতকার্য করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা গ্রহণ, সিলেবাস বিক্রি, পলায়নকৃত শিক্ষার্থীর কাছ জরিমানা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ফি নিয়েছেন যা সঠিক ভাবে খরচ না করে বেশির ভাগই আত্বসাৎ করেছেন বলে উল্লেখ্য করেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর হতে সরবরাহকৃত ৩টি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ওয়াই-ফাই রাউটার, ২টি সাউন্ড সিষ্টেম ও মিনি হ্যান্ড মাইক চুরি হয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে রাখেন।
তাড়াও খেয়াল খুশি মতো বিদ্যালয়ে আসেন এবং উপজেলাতে বিভিন্ন কাজ,মিটিং ইত্যাদির কথা বলে প্রায়ই চলে যান বলে উল্লেখ্য করেছেন।
এ বিষয়ে অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতি বছরই ভর্তি ফি,মাঝে,মাঝে বিদ্যুৎ বিলের জন্য এমনকি চেয়ার, টেবিল পরিস্কার করার জন্য গামছা ক্রয়ের টাকাও দিতে হয়েছে।
নুরু নামের এক অভিভাবক বলেন, সার্টিফিকেট ও প্রসংশাপত্রের বিনিময়ে, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি ফরমের মূল্য ও সেশন চার্জ এবং প্রতি মাসে প্রাইভেট পড়ার জন্য টাকা দিতে হয়েছে।
ম্যানেজিং কমিটির সাবেক বিদ্যুৎ সাহী সদস্য মোস্তফা কামাল বন্যা বলেন, বিগত বছর গুলোতে কমিটির সাবেক সভাপতিদের সাথে আতাত করে সোহরাব স্যার নিয়মবহির্ভূত টাকা আত্বসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। তিনি বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতি করেছি বলে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে আমার কোন কথাই শুনতেন না।
বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সাবেক সদস্য ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন,অভিযোগে উল্লেখ্যিত অনিয়ম,দূর্নীতির সত্যতা আছে বলেই তো অভিযোগ দিয়েছে।
একই বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাফিউল স্যার পর,পর দুইদিন আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে আর না এগিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে বলেন। দূর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করে আমাকে চুপচাপ থাকা বা মিমাংসার কথা বলা প্রত্যাশা করিনি। আরোও বলেন, প্রধান শিক্ষক স্যার, স্ব,স্ব শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত ভাবে বিভিন্ন খাতের জন্য টাকা উত্তোলন করেছেন এবং, প্রতি বছরই পুরাতন বই উত্তোলন করে বিক্রী করেছেন। এসবে সহযোগিতা করেছেন সহকারি শিক্ষক আবু বক্কর স্যার।
বিদ্যালয় প্রধানের অমানবিক আচরনের স্বীকার ভূক্তভোগী এক সহকারী শিক্ষক বলেন, আমার মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদনে সুপারিশ চাওয়া হলে বদলী শিক্ষক না দেওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক স্যার ছুটির আবেদনে সুপারিশ করেন নাই। বাধ্য হয়ে আমার কলেজ পড়ুয়া ছোট বোনকে বদলী শিক্ষক হিসেবে দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে চার মাস পাঠদান করাতে হয়েছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগীর ছোট বোন মুঠোফোনে জানান, আপুর মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রয়োজনে আমি প্রায় চার মাস ঐ স্কুলে পাঠদান করিয়েছি। আমার ডিগ্রি পরিক্ষার দিনও পাঠদান করাতে হয়েছে। এসময়ে আমি কোন পারিশ্রমিক বা যাতায়াত ভাড়াটাও পাই নাই।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর বলেন, আগে স্ব,স্ব ক্লাশ টিচারের মাধ্যমে সেজন চার্জ নেওয়া হতো, কোচিং ও আগে করাতেন। এখন করেন না। সার্টিফিকেট ও প্রসংশাপত্রের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্যারের এখতিয়ার।
প্রধান শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অনিয়ম,দূর্নীতির কথা অস্বীকার করে বলেন, সার্টিফিকেট ও প্রসংশাপত্র বাবদ শিক্ষার্থীরা মাঝে,মাঝে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে থাকেন। প্রাইভেট পড়ানোর ব্যাপারে জানান, দূর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাশ নিয়ে থাকি। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে বদলী শিক্ষিক দিয়ে যেতে হয় কি-না বা ঐ শিক্ষকের বোনকে দিয়ে পাঠদান করিয়েছেন কি-না? তিনি বলেন, এগুলো উপজেলা অফিস বলতে পারবে তবে একজন সহকারি শিক্ষকের বোন প্রায় চার মাস পাঠদান করিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম বলেন, ইউএনও স্যার মারফত এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। ইতিমধ্যে একটি পক্রিয়া চলমান। অভিযোগের তদন্ত করার নির্দেশনা রয়েছে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরীবিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে। অভিযোগে উল্লেখ্যিত বিষয়গুলো যদি করে থাকেন তাহলে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে। সহকারি শিক্ষককে অফিসে ডেকে চুপ থাকতে বা মিমাংসা করার প্রস্তাবের বিষয়ে বলেন, এই বিষয় নিয়ে আর না এগিয়ে মিলেমিশে থাকাতে বলেছি।
উল্লেখ্য যে, শেখ শিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ খ্রিঃ হতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের জন্য সংযুক্ত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
















