দাগনভূঞা ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সংকট চরমে
- আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
দাগনভূঞা ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন সংকট ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এদিকে ছোট যানবাহনগুলো বিশেষ করে মোটরবাইক ও প্রাইভেট এবং পেট্রোল চালিত যানবাহনগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তেল সংকট থাকায় ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে দৈনন্দিন কাজগুলোর উপর প্রভাব। যারা মোটরবাইক কিংবা প্রাইভেট কার ব্যবহার করে চাকুরি কিংবা মার্কেটিং এর কাজ করেন তাদের ভোগান্তির রেশ চাকুরি কিংবা ব্যবসার উপর প্রভাব পড়ছে। অনেকেই বলছেন এটি কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মুল্য বৃদ্ধির কৌশল। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন চাহিদা অনুযায়ী তৈল আনা হলেও হঠাৎ কেন তেলের চাহিদা বেড়েছে তা অবাক করার বিষয়! এত তেল যাচ্ছে কোথায়?
সচেতন নাগরিকদের মতে, দাগনভূঞা এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকট হলে সাধারণত কয়েকটি কারণ একসাথে কাজ করে। সংক্ষেপে বিষয়টা
সরবরাহ কমে যাওয়া, ডিপো বা ডিস্ট্রিবিউশন থেকে পর্যাপ্ত তেল না আসা, চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, উৎসব বা মৌসুমি সময়ে ব্যবহার বেড়ে যায়, পরিবহন ধর্মঘট, যানজট বা লজিস্টিক সমস্যার কারণে সরবরাহ বিলম্ব মজুতদারি (হোর্ডিং) – কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে তেল জমা করে রাখে।
মূল্য পরিবর্তনের গুজব: দাম বাড়বে এমন খবর ছড়ালে মানুষ বেশি করে কিনতে শুরু করে।
এর প্রভাবে পাম্পে লম্বা লাইন, পরিবহন খরচ বাড়ে, নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়।
কার্যকর সমাধান হিসেবে জানিয়েছেন সরকার ও প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচার করা, বিকল্প জ্বালানি (যেমন সিএনজি) ব্যবহার বাড়ানো, বুধবার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজকে ফেনী–দাগনভূঞা এলাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না। অনেক জায়গায় পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না বা খুব সীমিত কিছু পাম্পে ডিজেল আংশিক পাওয়া যাচ্ছে কোথাও কোথাও পাম্প তেল শেষ হয়ে বন্ধ।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক খবরে বলা হচ্ছে, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল আসায় অনেক পাম্পে সরবরাহ বন্ধ বা কমে গেছে। লোকাল আপডেটেও দেখা যাচ্ছে, আজ সকালে কয়েক ঘণ্টা ঘুরেও অনেকেই তেল পাননি। সব পাম্পে তেল নেই ❌ এ চিহৃ প্রদর্শন করে রেখেছেন।
কিছু পাম্পে অল্প অল্প আছে (বিশেষ করে ডিজেল) লাইন/ভিড় বেশি। অনেক পাম্পে তেল সীমিত বা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
কিছু পাম্পে আজকে নতুন তেল আসার কথা রয়েছে কিংবা আসছে।
দেশের ডিপো থেকে আবার সরবরাহ আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে এমনটাও জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। দাগনভূঞা ইব্রাহিম ফিলিং স্টেশন যেখানে অকটেন ক্রয়ের জন্য সবসময় মোটরবাইক ভিড় করেন তখনও এত তেল বিক্রয় হয়নি। কিন্ত গত কয়েকদিনে একটি গাড়ি যেখানে ৪/৫ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ গাড়ির তৈল শেষ হয়ে যাচ্ছে একদিনে। হঠাৎ এত গাড়ি আবার এত তেল যাচ্ছে কোথায় বা তেল নিয়ে কি করছেন তা তদারকির বিষয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মোটরবাইক মালিক আবু নাছের জানান, মার্কেটিং এ চাকুরি করি। সারাদিন দুই লিটারের বেশী তেল লাগে কিন্ত পাম্পে দিচ্ছে ১৫০ টাকা বা ২শ টাকার তেল। এতে ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না।
অপর মোটরবাইক চালক জানান, লিটার প্রতি ৩০/৩৫ কিলোমিটার যায় কিন্ত আমার চাহিদামতো তেল পাচ্ছিনা। এতে দৈনন্দিন জরুরি কাজ সম্পূর্ণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আবার ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে তেল নিতে সময় অপচয় হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
ঊত্তম পাল সততা ফিলিং স্টেশনের মালিক (মেঘনা ডিলার) জানান, গত বছর মার্চ মাসের তেলের বাজেট অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ দিচ্ছে। কিন্ত বাইকার এবং প্রাইভেট কার তেল নিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। যার কারনে পেট্রোল এবং অকটেন শেষ হতে বেশী সময় লাগেনা। এত তেল নিয়ে তারা কি করেন তাই ভাবনার বিষয়।
দাগনভূঞা ফিলিং স্টেশনের মালিক বজলুর রহমান সুমন জানান, আমরা পেট্রোল বিক্রি করি কিন্ত লক্ষ করা গেছে একজন বাইকার কয়েকবার তেল নিচ্ছেন। যদিও ২ শ টাকার সমপরিমাণ তেল দেয়া হচ্ছে কিন্ত এটিকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে যারা সত্যিকারে তেল কিনতে আসেন তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এমন পরিস্থিতিতে। অযথা তেল কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করারও অনুরোধ জানান তিনি।



















