ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার মিরপুরের কৃষি অফিসার মামুন নিরব

দুই ডিলারের ১৬২ মেট্রিকটন সারের হদিস নেই, হুমকিতে চাষাবাদ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাজিহাট বাজারে বিসিআইসি সার ডিলার মীর মুনা ওলিউল্লাহ ও কুষ্টিয়ারচর বাজারে বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স সোলাইমান হোসেন নামে দুজন পৃথক সার ডিলার থাকলেও দীর্ঘ দিনেও জানেন না ঐ এলাকার সাধারণ কৃষকরা। মীর মুলা ওলিউল্লাহর বাড়ি আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১ ওয়ার্ডের আলিফ উদ্দিন বিশ্বাস রোডে খানা পাড়ায় আর সোলাইমান হোসেনের বাড়ি বর্তমানে মিরপুর উপজেলার ৬ নং আমলা ইউনিয়নের আমলা গ্রামে, তার পিতার নাম মৃত ইয়াদ আলী হড়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কুন্টিয়ারচর বাজার এলাকায় মেসার্স সোলাইমান হোসেন নামে কোনো ডিলারশিপের অস্তিত্ব নেই বাস্তবে। তবে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকা দেখা গেছে তার নাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- বরাদ্দকৃত সার লোলাইমান হোসেন উত্তোলন করে অধিক নামে কালো বাজারে বিক্রি করে থাকে। আবার কখনো আমলা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাষী ভান্ডারে অবৈধ গুদামজাত করে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। ভার বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন তাদের পরিবারে তিনটা ডিলারশিপ আছে। পিতা-পুত্র মিলে সার ডিলারের অন্তরালে সার সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধ কালো বাজাবের জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। গত নভেম্বর মাসে মেসার্স সোলাইমান হোসেন কুন্টিয়ারচর বাজারের জন্য টিএসপি সার ৪.৭০ মে.টন, ডিএপি ৫.০০ মে, টিন, এমওপি ২৫.২৫ মে. টন সহ সর্বমোট ৩৪,৯৫ মে. টন বিভিন্ন প্রকার উত্তোলণ করলেও ডিলার পয়েন্টে পৌঁছায়নি এসব সার। এলাকার কৃষকদের দাবি এসব সার কালো বাজারে বিক্রি হয়েছে অথবা অবৈধ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে তারা।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার মৃত খোস্তার আলীর ছেলে বহুপূর্বে জানকাগজ পত্র তৈরি করে আমবাড়িয়া ইউনিয়নের নান্দিয়া গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করে পার্শ্ববর্তী কুর্শা ইউনিয়নের ডিলারশিপ চালিয়েছে যাচ্ছেন। তিনি এখনো স্থায়ীভাবে বসবাস করেন- আলমডাঙ্গাতে। এই ব্যবসা দেখাশোনা করেন মীর মুসার নিয়োগ প্রাপ্ত মাজিহাট গ্রামের জনৈক ব্যক্তি মিরাজুল। তিনি সার উত্তোলন করে ডিলার পয়েন্টে না এনে অবৈধ মজুদ করে কালো বাজারে উচ্চদামে বিক্রি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাজিহাট বাজারে একটি নামমাত্রে দোকান থাকলেও তা খোলেন না নিয়মিত। সার নিতে হলে তাকে মোবাইল ফোনে খুঁজতে হয়। কৃষকদের। মীর মুসা ওলিউল্লাহ চলতি বছরের নভেম্বর মাসে মাজিহাট বাজার নামক ডিলার পয়েন্টের জন্য ইউরিয়া সার ৫৬ মে. টন, টিএসপি সার ৯.৬ মে. টন, ডিএপি সার ৩৬.১৫ মে. টন ও এমওপি সার ব ২৫.৩০ মে. টন সহ সর্বমোট বরাদ্দ পেয়েছেন- ১২৭.০৫ মে. টন। এসব সার অবৈন মজুদ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ স্থানীয়দের।
মীর মুসার নামে মিরপুরের মাজিহাট বাজারে, তার ভাতিজা রাসেলের নামে হাসাদহ বাজার জীবননগরে, তার বড় ভাই মৃত মীর মহির নামে আলমডাঙ্গাতে। এয়াড়াও নামে-বেনামে চুয়াডাঙ্গা সদর ও দামুড়হুদায় আছে তাদের সাবের ডিলারশিপ, এযেন আন্তঃজেলা সার ডিলারশিপের মাফিয়া চক্র। মেসার্স সোলাইমান হোসেন ও মীর মুসা ওলিউল্লাহর নামে বরাদ্দকৃত গত নভেম্বর মাসে বরাদ্দকৃত ১৬২ মেট্রিকটন সারের সিংহভাগ অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। এবিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ মামুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন- কি পরিমান সার বরাদ্দ হয়েছে, তা আপনারা কিভাবে জানলেন? মীর মুসার গুলিউল্লাহর প্রতিনিধি মিরাজুল ১২৬ মেট্রিকটন সার উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও বিক্রয় মোমো দেখাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। মেসার্স সোলাইমান হোসেন তার পুত্র বিল্লালের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অবৈধ সার মজুদদার ও কালোবাজারি সার ডিলারশিপ বন্ধ করে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যস্থা নেওয়া জরুরী। অন্যথায় আসন্ন রবি মৌসুমে সার সংকটে ব্যাহত হবে হালচাষ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুষ্টিয়ার মিরপুরের কৃষি অফিসার মামুন নিরব

দুই ডিলারের ১৬২ মেট্রিকটন সারের হদিস নেই, হুমকিতে চাষাবাদ

আপডেট সময় :


কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাজিহাট বাজারে বিসিআইসি সার ডিলার মীর মুনা ওলিউল্লাহ ও কুষ্টিয়ারচর বাজারে বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স সোলাইমান হোসেন নামে দুজন পৃথক সার ডিলার থাকলেও দীর্ঘ দিনেও জানেন না ঐ এলাকার সাধারণ কৃষকরা। মীর মুলা ওলিউল্লাহর বাড়ি আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১ ওয়ার্ডের আলিফ উদ্দিন বিশ্বাস রোডে খানা পাড়ায় আর সোলাইমান হোসেনের বাড়ি বর্তমানে মিরপুর উপজেলার ৬ নং আমলা ইউনিয়নের আমলা গ্রামে, তার পিতার নাম মৃত ইয়াদ আলী হড়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কুন্টিয়ারচর বাজার এলাকায় মেসার্স সোলাইমান হোসেন নামে কোনো ডিলারশিপের অস্তিত্ব নেই বাস্তবে। তবে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকা দেখা গেছে তার নাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- বরাদ্দকৃত সার লোলাইমান হোসেন উত্তোলন করে অধিক নামে কালো বাজারে বিক্রি করে থাকে। আবার কখনো আমলা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাষী ভান্ডারে অবৈধ গুদামজাত করে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। ভার বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন তাদের পরিবারে তিনটা ডিলারশিপ আছে। পিতা-পুত্র মিলে সার ডিলারের অন্তরালে সার সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধ কালো বাজাবের জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। গত নভেম্বর মাসে মেসার্স সোলাইমান হোসেন কুন্টিয়ারচর বাজারের জন্য টিএসপি সার ৪.৭০ মে.টন, ডিএপি ৫.০০ মে, টিন, এমওপি ২৫.২৫ মে. টন সহ সর্বমোট ৩৪,৯৫ মে. টন বিভিন্ন প্রকার উত্তোলণ করলেও ডিলার পয়েন্টে পৌঁছায়নি এসব সার। এলাকার কৃষকদের দাবি এসব সার কালো বাজারে বিক্রি হয়েছে অথবা অবৈধ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে তারা।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার মৃত খোস্তার আলীর ছেলে বহুপূর্বে জানকাগজ পত্র তৈরি করে আমবাড়িয়া ইউনিয়নের নান্দিয়া গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করে পার্শ্ববর্তী কুর্শা ইউনিয়নের ডিলারশিপ চালিয়েছে যাচ্ছেন। তিনি এখনো স্থায়ীভাবে বসবাস করেন- আলমডাঙ্গাতে। এই ব্যবসা দেখাশোনা করেন মীর মুসার নিয়োগ প্রাপ্ত মাজিহাট গ্রামের জনৈক ব্যক্তি মিরাজুল। তিনি সার উত্তোলন করে ডিলার পয়েন্টে না এনে অবৈধ মজুদ করে কালো বাজারে উচ্চদামে বিক্রি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাজিহাট বাজারে একটি নামমাত্রে দোকান থাকলেও তা খোলেন না নিয়মিত। সার নিতে হলে তাকে মোবাইল ফোনে খুঁজতে হয়। কৃষকদের। মীর মুসা ওলিউল্লাহ চলতি বছরের নভেম্বর মাসে মাজিহাট বাজার নামক ডিলার পয়েন্টের জন্য ইউরিয়া সার ৫৬ মে. টন, টিএসপি সার ৯.৬ মে. টন, ডিএপি সার ৩৬.১৫ মে. টন ও এমওপি সার ব ২৫.৩০ মে. টন সহ সর্বমোট বরাদ্দ পেয়েছেন- ১২৭.০৫ মে. টন। এসব সার অবৈন মজুদ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ স্থানীয়দের।
মীর মুসার নামে মিরপুরের মাজিহাট বাজারে, তার ভাতিজা রাসেলের নামে হাসাদহ বাজার জীবননগরে, তার বড় ভাই মৃত মীর মহির নামে আলমডাঙ্গাতে। এয়াড়াও নামে-বেনামে চুয়াডাঙ্গা সদর ও দামুড়হুদায় আছে তাদের সাবের ডিলারশিপ, এযেন আন্তঃজেলা সার ডিলারশিপের মাফিয়া চক্র। মেসার্স সোলাইমান হোসেন ও মীর মুসা ওলিউল্লাহর নামে বরাদ্দকৃত গত নভেম্বর মাসে বরাদ্দকৃত ১৬২ মেট্রিকটন সারের সিংহভাগ অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। এবিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ মামুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন- কি পরিমান সার বরাদ্দ হয়েছে, তা আপনারা কিভাবে জানলেন? মীর মুসার গুলিউল্লাহর প্রতিনিধি মিরাজুল ১২৬ মেট্রিকটন সার উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও বিক্রয় মোমো দেখাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। মেসার্স সোলাইমান হোসেন তার পুত্র বিল্লালের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অবৈধ সার মজুদদার ও কালোবাজারি সার ডিলারশিপ বন্ধ করে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যস্থা নেওয়া জরুরী। অন্যথায় আসন্ন রবি মৌসুমে সার সংকটে ব্যাহত হবে হালচাষ।