নওগাঁ জেলা পরিষদ পার্কের বেহাল অবস্থা
- আপডেট সময় : ২৭০ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ জেলা পরিষদ পার্কটি প্রায় দুই বছর থেকে বেহাল অবস্থা। শিশুদের বিনোদনের রাইডগুলো ভাঙা। নেই আলোর ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পর সাপ-পোকামাকড়ে আতঙ্ক। পার্কটি দ্রুত সংস্কার ও শোভাবর্ধন করে বিনোদনের উপযোগী করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তির মোড়ে অবস্থিত জেলা পরিষদ পার্ক। শতবছর আগে ২ দশমিক ৪৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ পার্কটি জেলাবাসীর একমাত্র বিনোদনের কেন্দ্র। যেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটাচলা করেন প্রবীন ও বয়স্করা। তবে বিকেলে সবার জন্য পার্কটি উন্মুক্ত থাকে। ছুটির দিনগুলোতে সবশ্রেনী পেশার মানুষ ও শিশু-কিশোরসহ দর্শনার্থীদের সমাগম বেশি হয়ে থাকে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রাইডগুলোর মধ্যে- দোলনা, ঢেঁকি, মই ও স্লিপার। তবে ঢেঁকি ৩টির মধ্যে ৩ টি ভাঙ্গা, দোলনা অধিকাংশ নষ্ট এবং ২টি স্লিপার থাকলেও মরিচা ও জংধরা। স্লিপারগুলো যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। পার্কটি অযত্নে ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে এর পরিবেশ। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
ছুটির দিনগুলোতে বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য অভিভাবকরা ছুটে আসেন জেলার একমাত্র জেলা পরিষদ পার্কে। বাধ্য হয়ে ভাঙাচোরা রাইডগুলোতে শিশুদের বিনোদন করতে হয়। দোলনাগুলোর নিচে গর্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এতে অনেক সময় বাচ্চারা পড়ে গিয়ে নোংরা হয়ে যায়। ভাঙা রাইডগুলোর কারণে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয় শিশুদের। এমনকি মোশার উপদ্রবে অতিষ্ট পার্কে ঘুরতে আসা বিনোদন প্রেমীরা।
গত দুই বছর থেকে বাল্বগুলো নষ্ট হওয়ায় পার্কের ভিতরে আলোকিত হচ্ছে না। ফলে সন্ধ্যার পর পার্কটিতে অন্ধকার নেমে আসে। অন্ধকারে প্রবীন ও বয়স্কদের হাঁটাচলার সমস্যায় পড়তে হয়। এতে সাপ-পোকামাড়কে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। অনেকে দিনের আলোতে হাঁটাচলা করে ফিরে যেতে হয়। পার্কটি অভিভাবকহীন যেন দেখার কেউ নেই বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
গত কয়েকমাস থেকে নতুন করে আরেকটি সমস্যা ও চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। পার্কের মুল ফটকের সামনে রাখা হচ্ছে মোটরসাইকেল। এতে পার্কে প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে। আবার মুল ফটকের পাশে ও দেয়াল ঘেষে বিভিন্ন ফাস্টফুড ও খাবারের দোকান বসায় ফুটপাতে পথচারীরা চলাচল করতে পারছে না। এসব দোকান নির্দিষ্ট স্থানে বসানোর দাবী দর্শনার্থীদের।
শহরের উকিলপাড়ার বাসীন্দা গৃহবধু মরিয়ম বেগম বলেন- ছুটির দিনগুলোতে বাচ্চারা পার্কে আসার জন্য জেদ করে। বাচ্চাদের জন্য যে দোলনা আছে বর্ষার সময় তার নিচে কাদাপানি জমে থাকে। অনেক সময় বাচ্চারা পড়ে গিয়ে গায়ে কাদাপানিতে নোংরা হয়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি উড়ে। মইগুলো দীর্ঘদিন থেকে ভাঙা। স্লিপারেও মরিচা ধরেছে। গত কয়েক বছর থেকে এ সমস্যা। যেন দেখার কেউ নেই।
সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব খাদেমুল ইসলাম ক্যাপ্টেন বলেন- এই পার্কটি আমাদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। পার্কের তেমন উন্নয়ন নেই। শিশুদের যে রাইডগুলো আছে তার অধিকাংশ ভাঙা ও নষ্ট। পুকুরের পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং পানিও অপরিষ্কার। ফুলের কোন গাছ নেই। মানুষ পার্কে যে বিনোদন করবে সে পরিবেশ নেই।
পার্কে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা ব্যায়াম করেন সুমন চৌধূরী। তিনি বলেন- পার্ক নিয়ম করে হাটাহাটি করা হয়। পার্কে বাল্ব থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন থেকে নষ্ট। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে থাকে। এতে কয়েকবার সাপের কবলে পড়তে হয়েছে। যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আলোর ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম জাকির হোসেন বলেন- শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র হওয়ায় দর্শনার্থীদের সমাগম বেশি হয়ে থাকে। গত তিন বছরে পার্কটিতে হাঁটাচলা (ওয়ার্কওয়ে) এবং রাইডসহ অনেক কাজ করা হয়েছে। তবে শিশুদের বিনোদনের রাইডগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যবহার হওয়ায় নষ্ট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দোলনার নিচে ফুট টাইলস করাসহ পার্কের আরো কিছু উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তবে পার্কটি সংস্কার সহ আধুনিকায়নে দ্রুত উদ্যোগ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন- প্রধান গেটের সামনে বিভিন্ন দোকান হওয়ায় এবং মোটরসাইকেল রাখায় দর্শনার্থী ও পথচারীদের হাটাচলার সমস্যা হচ্ছে। আর দোকানের বিষয়টি মনিটরিংএ রাখা হবে।













