পত্নীতলায় মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের হামলায় নারীসহ আহত ৪
- আপডেট সময় : ২৯৬ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মধইল চৌধুরীপাড়া এলাকায় ধান মাড়াইকে কেন্দ্র করে মধইল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের হামলায় নারীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—সেদিন ফরিদা বেগমের স্বামী মোঃ সায়েম, শ্বশুর মোঃ লুৎফর রহমান ও দেবর আনোয়ার হোসেন বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই করছিলেন। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক লোকমান হাকিম, অধ্যক্ষ মহসীন আলী, অফিস সহকারী আক্কাস আলী এবং শিক্ষক আব্দুর রশিদসহ আরও কয়েকজন সেখানে এসে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন এবং পরে অতর্কিত হামলা চালান। এতে নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
আহত চারজনকে পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
এলাকাবাসীরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমন আচরণে পুরো এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাদ্রাসার ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার শিক্ষক লোকমান হাকিম বলেন,
পরীক্ষা চলাকালীন তারা বংগা মেশিন চালিয়ে বিকট শব্দে ধান মাড়াই করছিল। প্রথমে ছাত্ররা গিয়ে নিষেধ করে, পরে আমরা গিয়ে অনুরোধ করি। কিন্তু তারা কথা না শুনে উল্টো উত্তেজনা ছড়ায়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অধ্যক্ষ মহসীন আলী বলেন, এই জমিটি কাগজ-কলমে মাদ্রাসার সম্পত্তি। এর আগেও এ জমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন তারা জোর করে ধান মাড়াই করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। আমরা শান্তভাবে নিষেধ করতে গেলে তারা আমাদের আঘাত করে। পরে ছাত্র-শিক্ষকরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীও জানান, ধান মাড়াইয়ের শব্দে পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছিল বলে প্রথমে তারা অঙ্গন থেকে বের হয়ে অনুরোধ জানাতে যান। শিক্ষার্থীদের দাবি—তারা কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যায়নি; শুধু পরীক্ষা চলছিল বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিল।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন—উল্টো ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ঠেলাঠেলির শিকার হন এবং শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের গায়েও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর পুরো মধইল চৌধুরীপাড়া এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

















