ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাগমারায় এলজিইডির কাজে নিম্নমানের অভিযোগ, তথ্য দিতে অনীহা প্রকৌশলীর Logo কক্সবাজারে মায়ের সঙ্গে কারাগারে ছয় বছরের শিশু Logo নেছারাবাদে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান Logo গোপালগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান, মাদকসহ আটক ১ Logo ঘাটাইলে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ Logo সুন্দরবন থেকে দেড় বছরে ৬১ দস্যুকে অস্ত্রসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড Logo মনোনয়ন কিনতে গিয়ে লাঞ্ছিত প্রার্থীরা Logo পলিক্রস পেঁয়াজে কৃষকের নতুন স্বপ্ন, বদলাচ্ছে আয়ের হিসাব Logo ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি Logo লাইসেন্স নেই, অধিক মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করায় জরিমানা

পেঁয়াজ বীজে কুড়িগ্রামে নীরব কৃষি-বিপ্লব

পলিক্রস পেঁয়াজে কৃষকের নতুন স্বপ্ন, বদলাচ্ছে আয়ের হিসাব

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরাঞ্চলের কৃষি মানচিত্রে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়—পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে নীরব এক বিপ্লব ঘটছে কুড়িগ্রামে। জেলার রাজারহাট উপজেলার ছাটমাধাই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদের হাত ধরে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ এখন স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।
ধান ও আলু চাষে দীর্ঘদিনের লোকসানে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন কৃষক রাসেল আহমেদ। কিন্তু থেমে যাননি। বিকল্প আয়ের খোঁজে তিনি শুরু করেন পলিক্রস জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন। গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬০ শতক জমিতে শুরু করা সেই চাষ এখন সবুজ সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
ক্ষেতজুড়ে এখন সুস্থ ও সবল পেঁয়াজ গাছের সারি। প্রতিটি গাছ যেন কৃষকের সাহস আর পরিশ্রমের গল্প বলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েই বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফল হলে এটি কেবল একজন কৃষকের নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির জন্য হতে পারে বড় পরিবর্তনের সূচনা।
এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানও। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তারা দৈনিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন, যা গ্রামীণ জীবনে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
কৃষক রাসেল আহমেদ বলেন, “শখের বশে শুরু করেছিলাম, কিন্তু এখন এটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফলন ভালো হলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করবো।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে এবারই প্রথম পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতদিন এ বীজ বাইরের জেলা, বিশেষ করে ফরিদপুর থেকে সংগ্রহ করতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে খরচ কমবে এবং কৃষকের লাভের সম্ভাবনা বাড়বে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার সাথী বলেন, “এটি আমাদের জেলার কৃষির জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষকরা আগ্রহী হলে ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত হবে।”
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কুড়িগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া এ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এই ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। কুড়িগ্রাম তখন শুধু কৃষি জেলা নয়, হয়ে উঠতে পারে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের এক শক্তিশালী কেন্দ্র—যেখানে জন্ম নেবে নতুন সাফল্যের গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পেঁয়াজ বীজে কুড়িগ্রামে নীরব কৃষি-বিপ্লব

পলিক্রস পেঁয়াজে কৃষকের নতুন স্বপ্ন, বদলাচ্ছে আয়ের হিসাব

আপডেট সময় :

উত্তরাঞ্চলের কৃষি মানচিত্রে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়—পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে নীরব এক বিপ্লব ঘটছে কুড়িগ্রামে। জেলার রাজারহাট উপজেলার ছাটমাধাই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদের হাত ধরে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ এখন স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।
ধান ও আলু চাষে দীর্ঘদিনের লোকসানে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন কৃষক রাসেল আহমেদ। কিন্তু থেমে যাননি। বিকল্প আয়ের খোঁজে তিনি শুরু করেন পলিক্রস জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন। গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬০ শতক জমিতে শুরু করা সেই চাষ এখন সবুজ সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
ক্ষেতজুড়ে এখন সুস্থ ও সবল পেঁয়াজ গাছের সারি। প্রতিটি গাছ যেন কৃষকের সাহস আর পরিশ্রমের গল্প বলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েই বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফল হলে এটি কেবল একজন কৃষকের নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির জন্য হতে পারে বড় পরিবর্তনের সূচনা।
এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানও। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তারা দৈনিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন, যা গ্রামীণ জীবনে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
কৃষক রাসেল আহমেদ বলেন, “শখের বশে শুরু করেছিলাম, কিন্তু এখন এটা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ফলন ভালো হলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করবো।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে এবারই প্রথম পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতদিন এ বীজ বাইরের জেলা, বিশেষ করে ফরিদপুর থেকে সংগ্রহ করতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে খরচ কমবে এবং কৃষকের লাভের সম্ভাবনা বাড়বে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার সাথী বলেন, “এটি আমাদের জেলার কৃষির জন্য একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষকরা আগ্রহী হলে ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত হবে।”
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কুড়িগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া এ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এই ছোট উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। কুড়িগ্রাম তখন শুধু কৃষি জেলা নয়, হয়ে উঠতে পারে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের এক শক্তিশালী কেন্দ্র—যেখানে জন্ম নেবে নতুন সাফল্যের গল্প।