ফেনী-৩ আসনে মিন্টুর প্রচারণা, পদবঞ্চিতদের হামলা
- আপডেট সময় : ৯৪ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী- ৩ ধানের শীষের প্রার্থী গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলায় বিভিন্ন পথ সভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আপনাদের সহযোগিতা পেলে সমৃদ্ধ সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা গড়তে চাই। আমি আশা করি অদূর ভবিষ্যতে সে সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমি আপনাদের কাছে বহুবার এসেছি, একবার বাবার জন্য এসেছি একবার ভাইয়ের জন্য এসেছি। এবার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের জন্য ভোট চাইতে এসেছি। আশা করি আমরা একত্রে মিলেমিশে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমৃদ্ধ সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা গড়তে পারব, এই আশা করছি।উপজেলার বেকের বাজারে বিএনপি আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছর বাংলাদেশের জনগণ যে অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছে তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ নির্বাচন, যা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। আমি আশা করি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে সরকার গঠন হবে।
তিনি আরো বলেন, সোনাগাজী – দাগনভুঞা আমরা সবাই ভাই ভাই, সকল সমস্যা সমাধান করে আমরা এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা অতীতের ন্যায় আবারো ফিরিয়ে আনবো। নির্বাচন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা, আমাদের দল সরকারকে আগে থেকে সহযোগিতা করে আসছে, এখনো করছে।
শুক্রবার বিকালে তিনি বাবা মায়ের কবর জিয়ারত করে দাগনভূঞা উপজেলার বৈরাগীর হাট, কৌরাইশমুন্সী, দরবেশের হাট, রাজাপুর, গজারিয়ায় গণসংযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিনা ভোটের হাসিনার সরকার অনেক গায়েবি মামলা দিয়ে আমাকে হেনস্তা করেছে। ফ্যাসিস্টরা আমার স্থাপিত ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। কোনো প্রোগ্রাম করতে দেয়নি। আমার বাড়িতে আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়েছে। আমি বিগত ১৬ বছর বাবা ও মায়ের কবর পর্যন্ত জিয়ারত করতে পারিনি। আমার প্রতিষ্ঠিত দুলা মিয়া কটন মিল বন্ধ করে দিয়েছে।
গজারিয়ায় পথ সভা শেষে গজারিয়ায় বাজারের পাশে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির সাবেক আমির ৃমকবুল আহমেদ এর কবর জিয়ারত করেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে নির্বাচনী এলাকায় আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকালে বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তাঁকে বরণ করেন দলীয় সমর্থকরা। বহরটি ফেনীর ফতেহপুর হয়ে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া ও মাতুভূঞা ইউনিয়নের বেকেরবাজার অতিক্রম করে উপজেলা শহরে পৌঁছার আগেই মহাসড়কের উপর বেশ কয়েকটি বালুর ট্রাক দাঁড় করয়ে অবরুদ্ধ রাখে বিএনপির অপর একটি অংশ। দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে ধানের শীষের প্রার্থী মিন্টুর প্রচারণায় গাড়ি বহরে হামলা ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলমসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। আহত অন্যরা হলেন যুবদল–ছাত্রদলের নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দাগনভূঞা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। সন্ধ্যায় দাগনভূঞা বাজারে আসার আগেই প্রথমে বালুর ট্রাক দিয়ে পথ আটকে দেয় দাগনভূঞা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা জামশেদ আলম ফটিক, বিএনপি নেতা বাহাদুর ও সাইফুর রহমান রতনের অনুসারীরা। এসময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃস্টি হয়।
পুলিশী সহযোগিতায় ট্রাক গুলো সরিয়ে মিন্টুর গাড়ী বহর ফেনী-মাইজদী মহাসড়ক দিয়ে তুলাতুলীর দিকে যাওয়ার সময় পেছনের দিকে হামলা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন। এসময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই আকবর হোসেন প্রতিবাদ জানিয়েছেন।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ফেনী জেলা বিএনপির নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে আজকে দাগনভূঞা বাজারে আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাহেবের নির্বাচনী গাড়ি বহরে হামলার তিব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি ।
এদিকে পরে তুলাতুলীতে সংক্ষিপ্ত পথসভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দাগনভূঞা কোনো গুন্ডা বদমাশ ও সন্ত্রাসীর জায়গা না। আগেও ছিলোনা, ভবিষ্যতেও হবে না। এ সময় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- নির্বাচনের পরিবেশ যাই হোক, নির্বাচন হতেই হবে। এ সরকারকে আমরা প্রথম থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছি। আশা করছি তাঁরা অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তার আগে শুরুতে নিজ উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজারে এক পথসভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমি এই প্রথম নির্বাচন করতে এসেছি। এর আগে আমার বাবার ও ভাইয়ের জন্য নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে এলাকার উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক কাজ করবো।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুল হক ডিলারের সভাপতিত্বে ও ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় উক্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন ,বিএনপির নির্বাহি কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার শানু, ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান জুয়েল ও সদস্য সচিব এস এম কায়সার এলিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার সদস্যসচিব নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত ।













