বড়লেখা পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অফিসের লাইনম্যান কামরুল ইসলাম কাগজে-কলমে লাইনম্যান হলেও বাস্তবে তিনি যেন অলিখিত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে।
অভিযোগ রয়েছে, দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন ও অমল পালের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি গড়ে তুলেছেন ঘুষ বাণিজ্যের একটি সিন্ডিকেট। নতুন সংযোগ, কিলোওয়াট বৃদ্ধি, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন ও লাইন নির্মাণের মতো কাজে সরেজমিন তদন্তে না গিয়ে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা লাইনম্যান কামরুল ইসলামকে পাঠান।
গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুল ইসলাম সরেজমিনে গিয়ে ঘুষের চুক্তি নিশ্চিত করলে তবেই অফিসে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অন্যথায় নানা অজুহাতে আবেদন ফাইল বাতিল বা ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, গ্রাহক হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার তারাদরম গ্রামের বাসিন্দা নাঈম আহমদ জানান, সোমবার রাতের ঝড়ে তাদের গ্রামের একটি লাইন ছিঁড়ে গেলে প্রায় ৫০-৬০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে অভিযোগ জানানো হলেও লাইনম্যান ঘটনাস্থলে যাননি। পরে রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে সমাধান না করে উল্টো হয়রানি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে লাইনম্যান নিজে না গিয়ে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে কাজ করান, যা ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত।
আরও অভিযোগ রয়েছে, উত্তর শাহবাজপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ কর্মস্থলে অবস্থান না করে পাশের বিয়ানীবাজারে বসবাস করেন এবং অভিযোগ পেলে স্থানীয় লোক দিয়ে কাজ করান।
এ বিষয়ে লাইনম্যান কামরুল ইসলাম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন ও অমল পালের বক্তব্য নিতে ডিজিএম অফিসে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, “তারাদরম গ্রামের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


















