বাবাকে শিক্ষা দিতে জুয়ার আসরে ছেলের হামলা, নিহত ১
- আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাবাকে জুয়া থেকে ফেরাতে গিয়ে ছেলের নেতৃত্বে জুয়ার আসরে হামলা ও মারধরের ঘটনায় লুৎফুর রহমান সাজু (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা পলাতক রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালী টগারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফুর রহমান সাজু উপজেলার চন্ডিমন্ডপ চতল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
আহতরা হলেন, বিন্নাকুড়ি এলাকার আব্দুল্লাহ ওরফে লম্বা আব্দুল্লাহ, মলাজানি গ্রামের খাটো আব্দুল্লাহ এবং টগারঘাট এলাকার আব্দুর রহিম। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসে আসছিল। মলাজানি, বিন্নাকুড়ি, চতল ও ইছাখালী এলাকায় নিয়মিত এসব আসর বসত। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কিছুটা আড়ালে গোপনে এসব আসর চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিন্নাকুড়ি গ্রামের আব্দুল্লাহ নিয়মিত ওই জুয়ার আসরে যেতেন। তার ছেলে বিষয়টি জানতে পেরে বাবাকে জুয়া থেকে ফেরাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসরে যান। সেখানে বাবাকে দেখতে পেয়ে তাকে ফেরাতে গেলে উপস্থিতদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লুৎফুর রহমান সাজু প্রতিবাদ করলে ছেলের নেতৃত্বে থাকা লোকজন তাকে ও আরও তিনজনকে মারধর করে।
এতে লুৎফুর রহমান সাজু গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাজুকে বেধড়ক মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যায়। তাদের দাবি, এই মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবার আরও অভিযোগ করে, সাজু বর্তমানে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















