ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁয় নকল ভেটেরিনারি ওষুধ কারখানায় অভিযান

ভেজাল মালামাল জব্দ ও ধ্বংস, সিলগালা ভ্রাম্যমাণ আদালতের

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁয় নকল মৎস্য ও প্রাণী ওষুধ তৈরির একটি গোপন কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ, উৎপাদন উপকরণ ও যন্ত্রপাতি জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। গতকাল রোববার শুরু হওয়া এই অভিযান চলে প্রায় এক ঘণ্টা। সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান।
অভিযানের সময় কারখানায় কোনো কর্মী বা মালিককে পাওয়া না গেলেও ভেতরে নকল ওষুধ উৎপাদনের সম্পূর্ণ সেটআপ পাওয়া যায়। তালাবদ্ধ গুদামের তালা মালিকের উপস্থিতিতে ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়—এভেটা, নাভারা, বাজাজ, গ্ল্যাক্সোসহ বিভিন্ন এগ্রোভেট কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে নকল মৎস্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ তৈরি এবং বাজারজাত করা হচ্ছিল। এছাড়া ওষুধ তৈরির মেশিন, পাউডার, রাসায়নিক উপাদানসহ অনেক উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরে অধিকাংশ ভেজাল মালামাল স্থলেই ধ্বংস করা হয় এবং কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
জানা যায়, সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় সংলগ্ন সামসুদ্দীনের নর্থ বেঙ্গল গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অটোরাইস মিলের পাশে একটি চালকলের গুদাম ভাড়া নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই এ গোপন কারখানা পরিচালনা করছিলেন। এতে সাধারণ কৃষক, চাষি ও খামারিদের ক্ষতির পাশাপাশি আসল কোম্পানিগুলোর সুনামও নষ্ট হচ্ছিল।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজিদ আলম, গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ এবং সদর থানার পুলিশ সদস্যরা।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এখানে নকল ভেটেরিনারি ও মৎস্য ওষুধ তৈরির প্রমাণ পেয়েছি। বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। কারখানার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ বলেন, আমাদের কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ তৈরি হওয়ায় ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। আজকের অভিযানে সেই রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নওগাঁয় নকল ভেটেরিনারি ওষুধ কারখানায় অভিযান

ভেজাল মালামাল জব্দ ও ধ্বংস, সিলগালা ভ্রাম্যমাণ আদালতের

আপডেট সময় :

নওগাঁয় নকল মৎস্য ও প্রাণী ওষুধ তৈরির একটি গোপন কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ, উৎপাদন উপকরণ ও যন্ত্রপাতি জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। গতকাল রোববার শুরু হওয়া এই অভিযান চলে প্রায় এক ঘণ্টা। সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান।
অভিযানের সময় কারখানায় কোনো কর্মী বা মালিককে পাওয়া না গেলেও ভেতরে নকল ওষুধ উৎপাদনের সম্পূর্ণ সেটআপ পাওয়া যায়। তালাবদ্ধ গুদামের তালা মালিকের উপস্থিতিতে ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়—এভেটা, নাভারা, বাজাজ, গ্ল্যাক্সোসহ বিভিন্ন এগ্রোভেট কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে নকল মৎস্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ তৈরি এবং বাজারজাত করা হচ্ছিল। এছাড়া ওষুধ তৈরির মেশিন, পাউডার, রাসায়নিক উপাদানসহ অনেক উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরে অধিকাংশ ভেজাল মালামাল স্থলেই ধ্বংস করা হয় এবং কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
জানা যায়, সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় সংলগ্ন সামসুদ্দীনের নর্থ বেঙ্গল গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অটোরাইস মিলের পাশে একটি চালকলের গুদাম ভাড়া নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই এ গোপন কারখানা পরিচালনা করছিলেন। এতে সাধারণ কৃষক, চাষি ও খামারিদের ক্ষতির পাশাপাশি আসল কোম্পানিগুলোর সুনামও নষ্ট হচ্ছিল।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজিদ আলম, গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ এবং সদর থানার পুলিশ সদস্যরা।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এখানে নকল ভেটেরিনারি ও মৎস্য ওষুধ তৈরির প্রমাণ পেয়েছি। বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। কারখানার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ বলেন, আমাদের কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ তৈরি হওয়ায় ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। আজকের অভিযানে সেই রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।