ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট Logo ডামুড্যায় ২ শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে মাছ ধরা উৎসব পালিত

মারা গেলেন জল্লাদ শাহজাহান

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

৩২ বছরের কারাজীবনে ৬০ জনের ফাঁসি কার্যকর করেন এই জল্লাদ। তার বিরুদ্ধে ছিলো ৩৬টি মামলা। যার মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং বাকি ৩৪টিই হত্যা মামলা। ১৯৯১ সালে আটক হন এই অপরাধী।

সোমবার (২৪ জুন)   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া।

তার বোন ফিরোজা সংবাদমধ্যমকে জানান, ভাই বেশ কিছুদিন ধরে  হেমায়েতপুরে থাকতেন। রোববার (২৩ জুন) রাতে তার বুকে ব্যথা শুরু হলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

বিচারকাজে দেরি হওয়ার কারণে সাজা ছাড়াই ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চার বছর হাজতি হিসেবে কারাগারে থাকেন। ১৯৯৫ সালে তার সাজা হয় ১৪৩ বছরের। পরে ৮৭ বছরের সাজা মাফ করে তাকে ৫৬ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকর ও সশ্রম কারাদন্ডের সুবিধার কারণে সেই সাজা নেমে আসে ৪৩ বছরে।

জানা যায়, সাজার মেয়াদ কমানোর বাসনায় কয়েদি থেকে জল্লাদ বনে যান শাহজাহান। একের পর এক অপরাধীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেতে।

তৎকালীন সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, জল্লাদ শাহজাহান ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জনের ফাঁসি দিয়েছেন। এরমধ্যে ছয়জন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি, চারজন যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি নেতা বাংলাভাইসহ দুজন জেএমবি সদস্য এবং আরও ১৪ জন অন্যান্য আলোচিত মামলার আসামির ফাঁসি কার্যকর করে।

নারীঘটিত একটি ঘটনার পরে শাহজাহান বাংলাদেশের একজন বহুল পরিচিত সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করার পর থেকে যেকোনো অপারেশনে তার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরমধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অপারেশন করেছিলেন ১৯৯১ সালে মাদারীপুর জেলায় এবং এটাই ছিল তার জীবনের সবশেষ অপারেশন। অপারেশন শেষে মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছিলেন শাহজাহান। গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে পৌঁছে যায় সেই খবর।

মানিকগঞ্জে পুলিশ চেকপোস্ট বসালে শাহজাহান তার এলাকার বাহিনীর মাধ্যমে তা জানতে পারেন। কিন্তু সব জেনেও এলাকা দিয়েই ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। মানিকগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিও হয়। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।

ঢাকায় পৌঁছে যখন নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, পথিমধ্যে পুলিশ তাকে আটক করে। সেদিনই তার গতিময় জীবনের সমাপ্তি এবং এরপর থেকে বন্দিজীবন শুরু হয়।

জীবনের সোনালী সময়গুলো কারাগারেই কাটাতে হবে, এমন ভাবনা থেকে শাহজাহান চিন্তা করলেন, জল্লাদ হিসেবে সময় দিলে তার সাজা কিছুদিনের জন্যে হলেও কমবে। তাই নিজেকে অন্যভাবে প্রস্তুত করার জন্য জেল সুপারের কাছে গিয়ে জল্লাদের খাতায় নাম লেখানোর আগ্রহপ্রকাশ করেন।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মারা গেলেন জল্লাদ শাহজাহান

আপডেট সময় :

 

৩২ বছরের কারাজীবনে ৬০ জনের ফাঁসি কার্যকর করেন এই জল্লাদ। তার বিরুদ্ধে ছিলো ৩৬টি মামলা। যার মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং বাকি ৩৪টিই হত্যা মামলা। ১৯৯১ সালে আটক হন এই অপরাধী।

সোমবার (২৪ জুন)   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া।

তার বোন ফিরোজা সংবাদমধ্যমকে জানান, ভাই বেশ কিছুদিন ধরে  হেমায়েতপুরে থাকতেন। রোববার (২৩ জুন) রাতে তার বুকে ব্যথা শুরু হলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

বিচারকাজে দেরি হওয়ার কারণে সাজা ছাড়াই ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চার বছর হাজতি হিসেবে কারাগারে থাকেন। ১৯৯৫ সালে তার সাজা হয় ১৪৩ বছরের। পরে ৮৭ বছরের সাজা মাফ করে তাকে ৫৬ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকর ও সশ্রম কারাদন্ডের সুবিধার কারণে সেই সাজা নেমে আসে ৪৩ বছরে।

জানা যায়, সাজার মেয়াদ কমানোর বাসনায় কয়েদি থেকে জল্লাদ বনে যান শাহজাহান। একের পর এক অপরাধীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেতে।

তৎকালীন সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, জল্লাদ শাহজাহান ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জনের ফাঁসি দিয়েছেন। এরমধ্যে ছয়জন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি, চারজন যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি নেতা বাংলাভাইসহ দুজন জেএমবি সদস্য এবং আরও ১৪ জন অন্যান্য আলোচিত মামলার আসামির ফাঁসি কার্যকর করে।

নারীঘটিত একটি ঘটনার পরে শাহজাহান বাংলাদেশের একজন বহুল পরিচিত সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করার পর থেকে যেকোনো অপারেশনে তার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরমধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অপারেশন করেছিলেন ১৯৯১ সালে মাদারীপুর জেলায় এবং এটাই ছিল তার জীবনের সবশেষ অপারেশন। অপারেশন শেষে মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছিলেন শাহজাহান। গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে পৌঁছে যায় সেই খবর।

মানিকগঞ্জে পুলিশ চেকপোস্ট বসালে শাহজাহান তার এলাকার বাহিনীর মাধ্যমে তা জানতে পারেন। কিন্তু সব জেনেও এলাকা দিয়েই ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। মানিকগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিও হয়। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।

ঢাকায় পৌঁছে যখন নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, পথিমধ্যে পুলিশ তাকে আটক করে। সেদিনই তার গতিময় জীবনের সমাপ্তি এবং এরপর থেকে বন্দিজীবন শুরু হয়।

জীবনের সোনালী সময়গুলো কারাগারেই কাটাতে হবে, এমন ভাবনা থেকে শাহজাহান চিন্তা করলেন, জল্লাদ হিসেবে সময় দিলে তার সাজা কিছুদিনের জন্যে হলেও কমবে। তাই নিজেকে অন্যভাবে প্রস্তুত করার জন্য জেল সুপারের কাছে গিয়ে জল্লাদের খাতায় নাম লেখানোর আগ্রহপ্রকাশ করেন।