লোহাগাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ঝুলছে তালা, চলছে বেচাকেনা
- আপডেট সময় : ১০২ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে চলছে নানা অনিয়ম। প্রকৃত ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য সরকার এমন উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তার বিপরীত। পতিত সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে এসব ঘর বরাদ্দ নেন অনেকেই। বর্তমানে অনেক ঘরে ঝুলছে তালা। আবার অনেক ঘরে প্রকৃত উপকারভোগীরা নেই, চলছে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রকাশ্য মহোৎসব। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এখানকার বসবাসকারীরা। গতকাল রোববার উপজেলার চুনতি ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের চান্দা আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনকালে দেখা যায় ওখানে মোট ৮৭টি ঘরের মধ্যে ৫৩ ঘরে মানুষের বসবাস থাকলেও বাকি ঘরগুলো তালাবদ্ধ। এছাড়াও যেসব ঘরে মানুষের বসবাস দেখা গেছে এর অধিকাংশ ঘরে প্রকৃত দলীলের মালিক থাকেনা। ওখানকার বসবাসকারীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ঘরগুলো যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকের পৈত্রিক ঘরবাড়ি রয়েছে। তাই তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘরে বসবাস করেনা। অনেকেই এসব ঘর আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে দখলে রেখেছে। অনেকেই মাঝেমধ্যে এসে তাদের ঘরটি দেখে চলে যায়। আবার বসবাসকারী অনেকের নামে দলীল না থাকায় প্রকৃত মালিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এখানকার বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তি বলেন, ওই প্রকল্পে মহিউদ্দিন নামের একজন সভাপতি রয়েছে। তার নেতৃত্বেই এসব ঘর বেচাকেনা হচ্ছে এবং তার নিজের নামেও কোন বাড়ির দলীল নেই। তারপরও সে উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে পরিচয় রেখে এখানে প্রভাব বিস্তার করে এসব ঘর বেচাকেনা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ২০২৪ সালে তালাবদ্ধ অনেক ঘর বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছ থেকে নিয়ে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের কাছে মৌখিকভাবে স্থানান্তর করেন উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু এখনো তাদের নামে দলীল স্থানান্তর না করায় বিভিন্ন হুমকি সহ অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। উপজেলা প্রশাসনকে অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছেননা তারা।
এদিকে ওই প্রকল্পের সভাপতি মহিউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করলে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন সেখানে কোন বাড়িঘর বেচাকেনা হচ্ছেনা এবং বসবাসকারী সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতেছে। তিনি আরো বলেন তার প্রচেষ্ঠায় সেখানে মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদরাসা করেছেন হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২/২৩ সালের দিকে দুই দফায় লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য মোট ৩৮৪ টি সেমিপাঁকা ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘরে ভূয়া ভূমিহীন সনদ ব্যবহার করে সিংহভাগই অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়েছিল পতিত সরকারের দলীয় নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধি সহ তাদের আত্মীয় স্বজনেরা। সঠিকভাবে তদারকি করলে ভূয়া ভূমিহীন সনদ ব্যবহার কারীদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম, বলেন যারা অনিয়ম করেছে তদন্ত করে তাদের সরিয়ে দিয়ে নতুন কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।


















