ইসলামপুরে জ্বালানি সংকট
শিক্ষা, কৃষি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলেও তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক ও খাদ্যপণ্য বিতরণকারীরা। সংকটের কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে অচলাবস্থা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ ছুটির পর নিয়মিত পাঠদান শুরু হলেও মোটরসাইকেলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল না পাওয়ায় সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক বিপুল রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি আমরা চাই না। কিন্তু তেল না পেলে প্রতিদিন দূরের পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাও। সাংবাদিক হোসেন শাহ ফকির জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ভ্যান বা অন্যান্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর।
অন্যদিকে, ডিজেল সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
খাদ্যপণ্য বিতরণকারীরাও একই সংকটে পড়েছেন। তাদের মতে, পণ্য সরবরাহ, মনিটরিং ও অর্ডার ব্যবস্থাপনা মূলত মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জ্বালানি না থাকায় তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি জোটের প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমাদের পুরো কাজটাই মোটরসাইকেলনির্ভর। তেল সংকটে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিক্ষা কার্যক্রম, সংবাদ পরিবেশন, কৃষিকাজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ-সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।




















