দাগনভূঞা কৃষি বীজাগারে মামলায় বেহাল দশা
সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে রায় কার্যকরের প্রতিক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
দাগনভূঞা ৬ নং ইউনিয়ন ও পৌর শহর ফাজিলের ঘাট রোড়স্থ সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে সদর ইউনিয়ন কৃষি বীজাগার কাম অফিস (সীড ষ্টোর কাম অফিস) মামলা জটিলতার কারণে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এতে অব্যবহৃত জরাজীর্ণ ভবনের ভিতরে বাহ্যিকভাবে গাছ বড় হওয়ার অন্যতম প্রমান হিসেবে দৃশ্যমান। অপরদিকে ভবনের ভিতরে আঙ্গিনায় সিএনজি পার্কিং, সড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপসহ অনেকটা দখল নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। কেউ কেউ আবার গ্যাস সিলিন্ডার ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে ব্যবহার করছেন। সরকারি জায়গা মালিকানা দাবি করে মামলা অপরদিকে বিগত তিন বছর পূর্বে দখলের পাঁয়তারা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীগন। পৌরসভার ময়লা আবর্জনার কারনে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি জায়গায় সরকারিভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হোক এমনটা জানিয়েছেন সচেতনমহল।
দাগনভূঞা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সুত্রে জানা যায়, তৎকালীন ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার সারা বাংলাদেশে ১১৩৭(২১)/সি স্মারক মুলে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি বীজাগার ও কৃষি অফিস নির্মানের সিদ্বান্ত গ্রহন করেন। ৯ শতক ভূমিতে উক্ত অফিস ১৯৬২ সাল থেকে অধ্যবধি পর্যন্ত সে নামেই পরিচিত। নালিশী সম্পত্তি বর্ণিত এল, এ কেইসর আবৃত ভূমি ৪/০১/১৯৬২ ইং তারিখে নোয়াখালী জেলার অধীন এল এ শাখা নালিশী ভূমি তৎকালীন দাগনভূঞা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে দখল বুঝাইয়া দেওয়া হয় যা ইউনিয়ন পরিষদ বীজাগার ও অফিস নির্মানের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এছাড়া দাগনভূঞা উপজেলা দাগনভূঞা মৌজার সি এস ১২ নং, এস, এ ১৪নং খতিয়ানের সাবেক ১১৭ দাগ হাল ১৬২ দাগের মোট ভূমি আন্দরে ৯ শতক ভূমি কৃষি বীজাগার পক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দাগনভূঞা মালিক দখলকার রহিয়াছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ২০১৬ সালে দলীল সৃজন করে দাগনভূঞা ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির পক্ষে সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহ আলম (জগতপুর, দাগনভূঞা পৌরসভা) দেওয়ানী মোকদ্দমা ১৮১/১৬ইং সালে দাগনভূঞা কৃষি সম্প্রসারণ গংকে বিবাদী করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। উক্ত মামলার ২০২৩ সালে রায়ে অসন্তোষ ও অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা জজ বাহাদুরের আদালত ফেনী বরাবর দেওয়ানী আপীল মামলা দায়ের করেন। এবং সেখানে দাগনভূঞা বহুমুখী সমবায় সমিতির পক্ষে মো. শাহ আলম, ৬নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান ও মনির আহাম্মদ, ইয়ারপুর দাগনভূঞাকে বিবাদী করা হয়। দাগনভূঞা সিনিয়র সহকারি জজ আদালতের ২০১৬ ইং সনের দেওয়ানী ১৮১ নং মোকদ্দমায় বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারি জজ আফসানা ইসলাম রুমি’র স্বাক্ষরিত বিগত ২৬/৬/২০২৩ইং তারিখের রায় ও বিগত ০২/০৭/২০২৩ইং তারিখে ডিক্রি দ্ধারা বিবাদী /আপীল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আপিল মোকদ্দমা দায়ের করেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল শেষ নাগাড় পর্যন্ত এ নয় বছরে সদর ইউনিয়ন কুষি বীজাগার ও অফিস অনেকটাই বেহাল দশা ও ঝোপঝাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দৃশ্যমান। এতে সদর ইউনিয়ন বীজাগার ও অফিস কার্যক্রমে পরিচালনায় মারাত্নক ভোগান্তিতে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর সদর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন।
স্থানীয় বসবাসকারীদের মতে, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে ফাজিলেরঘাট রোড়স্থ সদর ইউনিয়ন বীজাগার ও অফিস এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান। যদিও এ ভবনটি এখন পরিত্যক্ত, ময়লা আবর্জনার স্তুপ, যে যার মতো ব্যবহার করছেন কিন্ত সরকারি জায়গা এবং সম্পদ হিসেবেই জানেন। সেখানে দুইটি সাইনবোর্ড ও দৃশ্যমান। কিভাবে সরকারি সম্পদকে ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছেন বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতের বিবেচনাধীন।
স্থানীয়রা আরো জানান, বিগত সরকারের সময় সদর ইউনিয়ন সংস্কার করা হয়েছে। কিন্ত সামনে প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত এ কৃষি বীজাগার কাম অফিসকে পরিত্যক্ত করে রাখা হয়েছে কতিপয় ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে দখল করার উদ্যেশ্য। সে হিসেবে এখানে কোন সংস্কার বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হয়নি কতিপয় ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে। দীর্ঘ ৯ বছর মামলা চলমান থাকায় কুষি সম্প্রসারণ দপ্তরে দায়িত্বরত উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন নিদিষ্ট সময়ে অফিসে বসে কৃষকদেরকে সঠিক সেবা ও কৃষি উন্নয়ন, পরামর্শ প্রদানে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন যা কৃষি অর্থনীতিকে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। যার প্রেক্ষিতে এ স্থানে কৃষি অফিস অভূতপূর্ব উন্নয়ন বা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারছেন না আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে।
সদর ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ – সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকের হোসেন, শাবানা ছিদ্দিকা এবং মো. মোবারক হোসেন জানান, সদর ইউনিয়নে কৃষকদের কৃষি সম্প্রসারণ লক্ষে বীজ, সার, প্রণোদনাসহ বিভিন্ন মৌসুমে চাষাবাদ সম্পর্কিত তথ্য ও সেবা প্রদানে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। উপজেলা সব ইউনিয়নে কৃষি বীজাগার কাম অফিস থাকলেও সদর ইউনিয়নে এ অফিসটি নিয়ে মামলা চলমান বিধায় কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ রয়েছে। এতে আমাদের ও কৃষকদের অনেক বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জমান জানান, এ উপজেলায় সদর ইউনিয়ন কৃষি বীজাগার কাম অফিসের জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ১৯৬২ সাল হইতে উক্ত জায়গার মালিক দাগনভূঞা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মামলা জটিলতার কারণে ঔই স্থানে দীর্ঘ নয় বছর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরিত্যক্ত মনে করে সেখানে কেউ কেউ অপব্যবহার করছেন। কাগজপত্র পর্যালোচনায় বিজ্ঞ আদালত মামলার রায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় আসবে বলে ধারণা করছেন তিনি। পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সদর ইউনিয়নে কৃষি বীজাগার কাম অফিস করণে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর।


















