ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পিঠা উৎসব

​শাহাবুল আলম, ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ৬৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতকালীন ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজন করলো এক বর্ণিল ‘পিঠা উৎসব’। মনোজ্ঞ এই আয়োজনটি আজ বুধবার কলেজের বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।
​রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক চন্দ্র মোহন হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আবদুল হালিম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ওবায়দুর রহমান।
​অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিভাগের পিঠা উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, সাবেক শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আশরাফুল আজম। এছাড়াও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ মোহাম্মদ ফজলুল করিম।
​প্রধান অতিথি, অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আবদুল হালিম, তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে শীতকালীন এই আয়োজনকে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পিঠা উৎসব আমাদের বাঙালিয়ানার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমন উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা দেবে না, বরং আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মধ্যে যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
​বিশেষ অতিথি, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ওবায়দুর রহমান, তাঁর বক্তব্যে পিঠা উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “নবান্ন ও শীতকাল আমাদের গ্রামীণ জীবনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসে। পিঠা তৈরি ও বিতরণ সেই আনন্দেরই বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের উৎসব আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।”
​বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক চন্দ্র মোহন হালদার, তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “পিঠা উৎসব আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। নতুন প্রজন্মের কাছে এই সংস্কৃতিকে পরিচিত করানো এবং সবার মাঝে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই আমাদের এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “শহরের শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রামীণ রন্ধনশিল্পের এই স্বাদ পৌঁছে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”
​আহ্বায়ক, সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আশরাফুল আজম, তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে উৎসব আয়োজনের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই উৎসব নিছক ভোজন নয়, এটি আমাদের মা-দাদীমার হাতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির মাধ্যমে আমাদের শেকড়ের সাথে পরিচিত হওয়ার একটি প্রয়াস।”
​ পিঠা-পুলি: নাম ও গুরুত্ব ​উৎসবে প্রায় অর্ধশতাধিক ধরনের শীতকালীন পিঠার সমাহার ঘটেছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা (বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ও ঝোলা গুড় সহ), পুলি পিঠা, নকশি পিঠা, পাটিসাপটা, কুলি পিঠা, তেলের পিঠা (বা পাকন পিঠা), লবঙ্গ লতিকা এবং ক্ষীর পাটিসাপটা। ​ভাপা ও চিতই পিঠা: শীতের সকালে ধোঁয়া ওঠা এই পিঠাগুলি গ্রামীণ আতিথেয়তার প্রতীক।
​নকশি পিঠা: এর শৈল্পিক কারুকার্য আমাদের লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
​পাটিসাপটা ও পুলি পিঠা: এই পিঠাগুলি মূলত গুড়, নারকেল ও ক্ষীর এর ব্যবহারে তৈরি হয়, যা শীতকালে শরীরকে উষ্ণতা যোগাতে সহায়তা করে।
​এই পিঠাগুলি শুধু মুখরোচক খাবার নয়, বরং এগুলো বাঙালি রন্ধনশিল্পের বৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ জনজীবনের সরল আনন্দ ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক।​
​অনুষ্ঠানটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক প্রশান্ত প্রামাণিক, সহযোগী অধ্যাপক আশীষ বৈদ্য, সহকারী অধ্যাপক মোঃ খায়রুল ইসলাম খাঁন, সহকারী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহা, সহকারী অধ্যাপক সোহানা ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া, প্রভাষক শ্যামলী রায়, প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান, প্রভাষক নিবাস মন্ডল সহ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আয়োজনকারী বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
​অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন। উৎসবের শেষে সবাই মিলে এই ঐতিহ্যবাহী পিঠা পুলির স্বাদ গ্রহণ করেন এবং এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।
দিনব্যাপী বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পিঠা উৎসব

আপডেট সময় :

শীতকালীন ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজন করলো এক বর্ণিল ‘পিঠা উৎসব’। মনোজ্ঞ এই আয়োজনটি আজ বুধবার কলেজের বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।
​রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক চন্দ্র মোহন হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আবদুল হালিম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ওবায়দুর রহমান।
​অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিভাগের পিঠা উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, সাবেক শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আশরাফুল আজম। এছাড়াও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ মোহাম্মদ ফজলুল করিম।
​প্রধান অতিথি, অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আবদুল হালিম, তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে শীতকালীন এই আয়োজনকে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পিঠা উৎসব আমাদের বাঙালিয়ানার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমন উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা দেবে না, বরং আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মধ্যে যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
​বিশেষ অতিথি, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ওবায়দুর রহমান, তাঁর বক্তব্যে পিঠা উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “নবান্ন ও শীতকাল আমাদের গ্রামীণ জীবনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসে। পিঠা তৈরি ও বিতরণ সেই আনন্দেরই বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের উৎসব আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।”
​বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক চন্দ্র মোহন হালদার, তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “পিঠা উৎসব আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। নতুন প্রজন্মের কাছে এই সংস্কৃতিকে পরিচিত করানো এবং সবার মাঝে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই আমাদের এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “শহরের শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রামীণ রন্ধনশিল্পের এই স্বাদ পৌঁছে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”
​আহ্বায়ক, সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আশরাফুল আজম, তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে উৎসব আয়োজনের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই উৎসব নিছক ভোজন নয়, এটি আমাদের মা-দাদীমার হাতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির মাধ্যমে আমাদের শেকড়ের সাথে পরিচিত হওয়ার একটি প্রয়াস।”
​ পিঠা-পুলি: নাম ও গুরুত্ব ​উৎসবে প্রায় অর্ধশতাধিক ধরনের শীতকালীন পিঠার সমাহার ঘটেছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা (বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ও ঝোলা গুড় সহ), পুলি পিঠা, নকশি পিঠা, পাটিসাপটা, কুলি পিঠা, তেলের পিঠা (বা পাকন পিঠা), লবঙ্গ লতিকা এবং ক্ষীর পাটিসাপটা। ​ভাপা ও চিতই পিঠা: শীতের সকালে ধোঁয়া ওঠা এই পিঠাগুলি গ্রামীণ আতিথেয়তার প্রতীক।
​নকশি পিঠা: এর শৈল্পিক কারুকার্য আমাদের লোকশিল্পের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
​পাটিসাপটা ও পুলি পিঠা: এই পিঠাগুলি মূলত গুড়, নারকেল ও ক্ষীর এর ব্যবহারে তৈরি হয়, যা শীতকালে শরীরকে উষ্ণতা যোগাতে সহায়তা করে।
​এই পিঠাগুলি শুধু মুখরোচক খাবার নয়, বরং এগুলো বাঙালি রন্ধনশিল্পের বৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ জনজীবনের সরল আনন্দ ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক।​
​অনুষ্ঠানটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক প্রশান্ত প্রামাণিক, সহযোগী অধ্যাপক আশীষ বৈদ্য, সহকারী অধ্যাপক মোঃ খায়রুল ইসলাম খাঁন, সহকারী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহা, সহকারী অধ্যাপক সোহানা ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া, প্রভাষক শ্যামলী রায়, প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান, প্রভাষক নিবাস মন্ডল সহ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আয়োজনকারী বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
​অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন। উৎসবের শেষে সবাই মিলে এই ঐতিহ্যবাহী পিঠা পুলির স্বাদ গ্রহণ করেন এবং এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।
দিনব্যাপী বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত পরিবেশন করা হয়।