ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

সামনে যৌথবাহিনীর অভিযান

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ করতে দেশের আইন শৃংখলার আরো উন্নতির লক্ষে খুব শিগরই রাজধানীসহ সারাদেশে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হচ্ছে। থানা থেকে লুট হয়ে যাওয়া এবং ডিসি অফিস এবং থানায় জমা না দিয়ে অস্ত্র হাতে রেখে দেওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধাওে নামছে য়ৌথবাহিনী। শুধু তাই নয়, জেল পলাতকসহ সারাদেশে পালিয়ে থাকা মোষ্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যৌথবাহিনী। স্বরাস্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকগন যৌথ বৈঠকে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে যৌথবাহিনীর এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া যৌথবাহিনীর চলমান ডেভিল হান্ট অপারেশন চলতে থাকবে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য।
অপরদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শিগগিরই যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা। গতকাল রোববার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হবে। পরিপত্র জারির পরপরই সারাদেশে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। নির্বাচনে যে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ হয় তা উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা চাই দায়িত্বপ্রাপ্তরা কঠোর অবস্থানে থাকুক, যাতে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, কোনও প্রার্থী বা দল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং প্রার্থীদের নিয়ম মানাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনও ছাড় দেবে না।
অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা। এমনকি গেল দেড় বছরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়াকে সরকারের ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনে বাকি সময়ের মধ্যে সরকারকে শুধু কঠোর হলেই হবে না, দলগুলোকেও সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। অবশ্য দেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা বহুবারই এসেছে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে। তাতে গলা মিলিয়েছেন অন্যান্য উপদেষ্টারাও।
এবিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, স্পষ্টভাবে বলে আসছি যে আমরা একটা অত্যন্ত উচ্চমানের, মানুষ যেন গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যা গত ১৫ বছরে ছিল না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও আশ্বাস দিয়েছিলেন তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, আমি আশা করবো, এই নির্বাচনটা খুব ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল এবং উৎসবমুখর হোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের এমন আশার বাণীর সঙ্গে, এখনও বিস্তর ফারাক বাস্তবতার। একের পর এক নিশানা হচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা। তফসিল ঘোষনার পরদিনই, গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাওয়া শরিফ ওসমান হাদি, লড়াই করে হেরেও যান মৃত্যুর কাছে। আর এর কয়েকদিন আগেই গুলি চলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে লক্ষ্য করে। সবশেষ, ২২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হন এনসিপির খুলনা অঞ্চলের নেতা মোতালেব শিকদার। আর এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে রাজনীতির মাঠে।
এদিকে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে পহেলা জানুয়ারী পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ কর্তৃক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সকল যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারিসহ মোট ১৫৭ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে ১৩ টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২২৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১০ টি পেট্রল বোমা, বেশ কিছু ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,
ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভাগীয় শহর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা হাল নাগাদ করা হয়েছে। সে তালিকা হাতে নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে যৌথবাহিনী। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সাধারন মানুষের জানমাল রক্ষায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মোষ্ট ওয়াণ্টেড বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা। এ সকল কাজে জনসাধারনের সহযোগিতা চেয়েছেন যৌথবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান নির্বাচন পর্যন্ত চলমান থাকবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর সচেতনতা এবং সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এছাড়া অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ারীতে উদ্ধার হওয়া রিভলভারটি হয়তো একটি ছোট ঘটনা মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে রাজধানীর অভ্যন্তরে অপরাধীদের সংগঠিত তৎপরতার ইঙ্গিত। কারা এই অস্ত্র মজুত করেছিল, কী উদ্দেশ্যে তা এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, সময়মতো অভিযান না হলে এর পরিণতি হতে পারত আরও ভয়াবহ। নির্বাচনী অস্থিরতা তৈরি রোধে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেকে রোহিঙ্গা ও সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এই আশঙ্কায় ভোটগ্রহণের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পুরোপুরি সিলগালা করে দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সামনে যৌথবাহিনীর অভিযান

আপডেট সময় :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ করতে দেশের আইন শৃংখলার আরো উন্নতির লক্ষে খুব শিগরই রাজধানীসহ সারাদেশে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হচ্ছে। থানা থেকে লুট হয়ে যাওয়া এবং ডিসি অফিস এবং থানায় জমা না দিয়ে অস্ত্র হাতে রেখে দেওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধাওে নামছে য়ৌথবাহিনী। শুধু তাই নয়, জেল পলাতকসহ সারাদেশে পালিয়ে থাকা মোষ্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যৌথবাহিনী। স্বরাস্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকগন যৌথ বৈঠকে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে যৌথবাহিনীর এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া যৌথবাহিনীর চলমান ডেভিল হান্ট অপারেশন চলতে থাকবে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য।
অপরদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শিগগিরই যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা। গতকাল রোববার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হবে। পরিপত্র জারির পরপরই সারাদেশে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। নির্বাচনে যে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ হয় তা উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা চাই দায়িত্বপ্রাপ্তরা কঠোর অবস্থানে থাকুক, যাতে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
ইসি সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, কোনও প্রার্থী বা দল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং প্রার্থীদের নিয়ম মানাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনও ছাড় দেবে না।
অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হবে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা। এমনকি গেল দেড় বছরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়াকে সরকারের ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনে বাকি সময়ের মধ্যে সরকারকে শুধু কঠোর হলেই হবে না, দলগুলোকেও সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। অবশ্য দেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা বহুবারই এসেছে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে। তাতে গলা মিলিয়েছেন অন্যান্য উপদেষ্টারাও।
এবিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, স্পষ্টভাবে বলে আসছি যে আমরা একটা অত্যন্ত উচ্চমানের, মানুষ যেন গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যা গত ১৫ বছরে ছিল না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব যার কাঁধে, সেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও আশ্বাস দিয়েছিলেন তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, আমি আশা করবো, এই নির্বাচনটা খুব ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল এবং উৎসবমুখর হোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের এমন আশার বাণীর সঙ্গে, এখনও বিস্তর ফারাক বাস্তবতার। একের পর এক নিশানা হচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা। তফসিল ঘোষনার পরদিনই, গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাওয়া শরিফ ওসমান হাদি, লড়াই করে হেরেও যান মৃত্যুর কাছে। আর এর কয়েকদিন আগেই গুলি চলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে লক্ষ্য করে। সবশেষ, ২২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হন এনসিপির খুলনা অঞ্চলের নেতা মোতালেব শিকদার। আর এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে রাজনীতির মাঠে।
এদিকে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে পহেলা জানুয়ারী পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ কর্তৃক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সকল যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারিসহ মোট ১৫৭ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে ১৩ টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২২৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১০ টি পেট্রল বোমা, বেশ কিছু ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,
ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভাগীয় শহর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা হাল নাগাদ করা হয়েছে। সে তালিকা হাতে নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে যৌথবাহিনী। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সাধারন মানুষের জানমাল রক্ষায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মোষ্ট ওয়াণ্টেড বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা। এ সকল কাজে জনসাধারনের সহযোগিতা চেয়েছেন যৌথবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান নির্বাচন পর্যন্ত চলমান থাকবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর সচেতনতা এবং সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এছাড়া অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ারীতে উদ্ধার হওয়া রিভলভারটি হয়তো একটি ছোট ঘটনা মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে রাজধানীর অভ্যন্তরে অপরাধীদের সংগঠিত তৎপরতার ইঙ্গিত। কারা এই অস্ত্র মজুত করেছিল, কী উদ্দেশ্যে তা এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, সময়মতো অভিযান না হলে এর পরিণতি হতে পারত আরও ভয়াবহ। নির্বাচনী অস্থিরতা তৈরি রোধে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেকে রোহিঙ্গা ও সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এই আশঙ্কায় ভোটগ্রহণের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পুরোপুরি সিলগালা করে দেয়া হবে।