ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

সেনাসদস্যের পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সেনাবাহিনীতে কর্মরত সার্জেন্ট মো. মিন্টু মোল্লা (৩৭) ও তার পরিবারের ওপর দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। জমি রেজিস্ট্রি করতে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে হামলা ও লুটপাটের পর, মামলা করায় পুনরায় বাড়িতে ঢুকে পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর তান্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় শিবালয় থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা রুজু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগি পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ সকালে সার্জেন্ট মো. মিন্টু মোল্লা, তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার (৩০) ও তাদের ৩ বছরের শিশু সন্তান জায়ানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে জমি রেজিস্ট্রি করতে যাচ্ছিলেন। শিবালয় থানাধীন কাতরাসিন তারা মসজিদের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা দেলোয়ার হোসেন (৫৫) ও মোক্তার হোসেনসহ (৬২) একদল সন্ত্রাসী তাদের গতিরোধ করে।
হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সার্জেন্ট মিন্টুর মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন, এতে তার হাতের তালু মারাত্মকভাবে জখম হয়। এসময় তার স্ত্রীকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সন্ত্রাসীরা তাদের কাছে থাকা জমি কেনার নগদ ৩ লাখ টাকা ও ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সার্জেন্ট মিন্টু মোল্লা ও তার স্ত্রী ঢাকা সিএমএস (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রথম হামলার ঘটনায় ১ এপ্রিল মামলা (মামলা নং-০৪,তাং( ০২/০৪/২৬) দায়ের করেন মিন্টু মোল্লার পিতা মো. রবিউল মোল্লা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুনরায় হামলা চালায়। দ্বিতীয় এজাহার অনুযায়ী, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসামিরা মিন্টু মোল্লার শ্বশুরবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে তার স্ত্রী সানজিদা ইয়াসমিন টপি ও তার ননদ রহিমার ওপর লোহার রড ও সাবল দিয়ে পুনরায় হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এসময় পরিবারের সবাইকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
হামলার ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬(২) সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে শিবালয় থানা পুলিশ। এতে আসামি করা হয়েছে, একই গ্রামের মো: কাদের মোল্লা, (৫৬), রত্না, সম্পা (২৫), রাসিয়া (৪৭), মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: মোক্তার হোসেন ও কাকলী (৩৬)।
তবে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘একজন সেনাসদস্যের পরিবার হয়েও আমরা আজ নিজ বাড়িতে নিরাপদ নই। প্রকাশ্যে ঘোরতর অপরাধ করে আসামিরা এখনো বুক ফুলিয়ে ঘুরছে এবং মামলা তুলে নিতে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তারা বর্তমানে পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সেনাসদস্যের পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা

আপডেট সময় :

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সেনাবাহিনীতে কর্মরত সার্জেন্ট মো. মিন্টু মোল্লা (৩৭) ও তার পরিবারের ওপর দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। জমি রেজিস্ট্রি করতে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে হামলা ও লুটপাটের পর, মামলা করায় পুনরায় বাড়িতে ঢুকে পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর তান্ডব চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় শিবালয় থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা রুজু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগি পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ সকালে সার্জেন্ট মো. মিন্টু মোল্লা, তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার (৩০) ও তাদের ৩ বছরের শিশু সন্তান জায়ানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে জমি রেজিস্ট্রি করতে যাচ্ছিলেন। শিবালয় থানাধীন কাতরাসিন তারা মসজিদের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা দেলোয়ার হোসেন (৫৫) ও মোক্তার হোসেনসহ (৬২) একদল সন্ত্রাসী তাদের গতিরোধ করে।
হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সার্জেন্ট মিন্টুর মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন, এতে তার হাতের তালু মারাত্মকভাবে জখম হয়। এসময় তার স্ত্রীকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সন্ত্রাসীরা তাদের কাছে থাকা জমি কেনার নগদ ৩ লাখ টাকা ও ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। বর্তমানে সার্জেন্ট মিন্টু মোল্লা ও তার স্ত্রী ঢাকা সিএমএস (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রথম হামলার ঘটনায় ১ এপ্রিল মামলা (মামলা নং-০৪,তাং( ০২/০৪/২৬) দায়ের করেন মিন্টু মোল্লার পিতা মো. রবিউল মোল্লা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুনরায় হামলা চালায়। দ্বিতীয় এজাহার অনুযায়ী, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসামিরা মিন্টু মোল্লার শ্বশুরবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে তার স্ত্রী সানজিদা ইয়াসমিন টপি ও তার ননদ রহিমার ওপর লোহার রড ও সাবল দিয়ে পুনরায় হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এসময় পরিবারের সবাইকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
হামলার ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬(২) সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে শিবালয় থানা পুলিশ। এতে আসামি করা হয়েছে, একই গ্রামের মো: কাদের মোল্লা, (৫৬), রত্না, সম্পা (২৫), রাসিয়া (৪৭), মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: মোক্তার হোসেন ও কাকলী (৩৬)।
তবে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘একজন সেনাসদস্যের পরিবার হয়েও আমরা আজ নিজ বাড়িতে নিরাপদ নই। প্রকাশ্যে ঘোরতর অপরাধ করে আসামিরা এখনো বুক ফুলিয়ে ঘুরছে এবং মামলা তুলে নিতে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তারা বর্তমানে পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।