ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সেন্টমার্টিন যাত্রা বিলম্ব, ইউএনওকে হুমকি

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  •  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কর্মকর্তা’ পরিচয়ে এক পর্যটকের বিতণ্ডা
  • কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের যাত্রাবিলম্বকে কেন্দ্র করে এক পর্যটক প্রকাশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, একদল পর্যটক ইউএনও এবং জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন।
    ইউএনও তানজিলা তাসনিম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি পর্যটক পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি নৌযান চলাচলসংক্রান্ত আরও বেশ কিছু নির্দেশনা মানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। এ সময় এক পর্যটক হঠাৎ নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে তাকে গ্রেফতারের হুমকি দেন।
    তিনি বলেন, “কিছু পর্যটক অভিযোগ করছিলেন তাদের জাহাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে গেছে। আমি কারণ জানতে গেলে ইব্রাহীম নামে একজন নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে পুলিশকে আমাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে সংরক্ষিত আছে। তিনি হয়তো আমাকে চিনতে পারেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হলেও এভাবে কাউকে গ্রেফতার করতে বলার এখতিয়ার তার নেই।”
    পরবর্তীতে ইব্রাহীম নামে ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি ইউএনওকে চিনতে পারেননি এবং এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তাদের টিকিটে জাহাজ ছাড়ার সময় সকাল ৭টা হলেও ঘাটে গিয়ে জানতে পারেন জাহাজটি ৬টায় ছেড়ে গেছে।
    তবে সী-ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, নদীর নাব্যতা ও জোয়ার-ভাটার কারণে জাহাজের সূচি পরিবর্তনশীল থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বেক্রুজ’ নামের জাহাজটি নাব্যতার কারণে ঘাট পরিবর্তন করে অন্য ঘাটে নোঙর করে। পর্যটকরা সেটিকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বলে ভুল করেন। পরে ইব্রাহীমসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আরও ১১ জনকে ‘কেরি সিন্দাবাদ’ জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়।
    উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রীযাপনের সুযোগ পাবেন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা মেনে দ্বীপে অবস্থান করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সেন্টমার্টিন যাত্রা বিলম্ব, ইউএনওকে হুমকি

আপডেট সময় :
  •  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কর্মকর্তা’ পরিচয়ে এক পর্যটকের বিতণ্ডা
  • কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের যাত্রাবিলম্বকে কেন্দ্র করে এক পর্যটক প্রকাশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, একদল পর্যটক ইউএনও এবং জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন।
    ইউএনও তানজিলা তাসনিম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি পর্যটক পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি নৌযান চলাচলসংক্রান্ত আরও বেশ কিছু নির্দেশনা মানতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। এ সময় এক পর্যটক হঠাৎ নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে তাকে গ্রেফতারের হুমকি দেন।
    তিনি বলেন, “কিছু পর্যটক অভিযোগ করছিলেন তাদের জাহাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে গেছে। আমি কারণ জানতে গেলে ইব্রাহীম নামে একজন নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে পুলিশকে আমাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে সংরক্ষিত আছে। তিনি হয়তো আমাকে চিনতে পারেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হলেও এভাবে কাউকে গ্রেফতার করতে বলার এখতিয়ার তার নেই।”
    পরবর্তীতে ইব্রাহীম নামে ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি ইউএনওকে চিনতে পারেননি এবং এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তাদের টিকিটে জাহাজ ছাড়ার সময় সকাল ৭টা হলেও ঘাটে গিয়ে জানতে পারেন জাহাজটি ৬টায় ছেড়ে গেছে।
    তবে সী-ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, নদীর নাব্যতা ও জোয়ার-ভাটার কারণে জাহাজের সূচি পরিবর্তনশীল থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বেক্রুজ’ নামের জাহাজটি নাব্যতার কারণে ঘাট পরিবর্তন করে অন্য ঘাটে নোঙর করে। পর্যটকরা সেটিকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বলে ভুল করেন। পরে ইব্রাহীমসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আরও ১১ জনকে ‘কেরি সিন্দাবাদ’ জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়।
    উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রীযাপনের সুযোগ পাবেন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা মেনে দ্বীপে অবস্থান করতে হবে।