১৫ দিনেও গ্রেপ্তার নেই হোমনায় ত্রিপল মার্ডার মামলার খুনির, মানববন্ধন।
- আপডেট সময় : ৮৩ বার পড়া হয়েছে
হোমনা উপজেলা-য় আলোচিত ত্রিপল মার্ডার ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগে ফুঁসছে এলাকাবাসী। দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে বুধবার উত্তর মনিপুর গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“মনিপুর ত্রিপল মার্ডারের খুনিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো”— এই স্লোগানে সকাল থেকেই গ্রামের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবক ও প্রবীণরা জড়ো হন। পরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উত্তর মনিপুর গ্রামের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “খুনি কেন বাইরে, প্রশাসন জবাব দাও”, “ন্যায়ের দাবিতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হই” প্রভৃতি স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রবাসী জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সূখি (৩২), চার বছরের শিশু পুত্র মোহাম্মদ হোসাইন এবং ভাতিজা জুবায়ের (৫)-কে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠায়। এ ঘটনায় হোমনা থানা-য় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “১৫ দিন পার হলেও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। আমরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তারা আরও বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ আস্থাহীনতায় ভুগবে। তাই প্রশাসনের প্রতি তাদের আহ্বান—অবিলম্বে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে এলাকাবাসীর উদ্বেগ দূর করা হোক।
এ বিষয়ে হোমনা থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো হবে এবং সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে।



















