ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

৩৪ বছর পর রায়, সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

গণমুক্তি রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ৪৩২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে মোমেনবাগ বাসার যাবার উদ্দেশ্যে রিকশায় চেপে বসেন সগিরা মোর্শেদ। অকস্মাত কয়েকজন আগন্তুক তার পথরোধ করে দাড়ায়। এক পর্যায়ে বুকে গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়া পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ নিয়ে রাজধানী ঢাকা নয়, গোটা দেশজুড়ে চালঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অপরাধীদের পাকড়াও করতে মাঠে নামে গোয়েন্দারা।

ক্ষমতার মসনদে স্বৈরাচার এইচ এম এরশাদ। এরশাদের মন্ত্রী সভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান। সিদ্ধেশ^রীতে তার শশুড় বাড়ি। জানা যায় মাহমুদুল হাসানের সম্বন্ধী রেজাউল হকের ছেলে মারুফ রেজা।

৩৪ বছর পর বুধবার (১৩ মার্চ) সোগেরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রায়ে আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন।

হত্যাকাণ্ডের পর পরই মারুফ রেজার নাম নিয়ে কানাঘুষা চলে আসছিলো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা চাপা পড়ে যায়। সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলাটি তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে আলোচিত মামলা।

হাত বদল হয়ে অবশেষে চাঞ্চল্যকর সর্গিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার তদন্ত যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে।

২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সগিরার কাজের মেয়েকে মারধর করেন আসামি ডা. হাসান আলী চৌধুরী। এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে সগিরাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন শাহীন। আসামিরা নিজেদের বাসায় বসে সগিরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ডা. হাসান আলী তার চেম্বারে বসে আসামি মারুফ রেজার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করেন এবং ১৫ হাজার টাকা দেন হাসান আলী। ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা থাকলেও তা আর দেননি।

২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত সগিরা মোর্শেদের ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৩১ বছর পর এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

এরপর ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি মামলার বাদী ও সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যদিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সগিরার ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন ও অপর আসামি মন্টু মোরলকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৩৪ বছর পর রায়, সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় :

 

১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে মোমেনবাগ বাসার যাবার উদ্দেশ্যে রিকশায় চেপে বসেন সগিরা মোর্শেদ। অকস্মাত কয়েকজন আগন্তুক তার পথরোধ করে দাড়ায়। এক পর্যায়ে বুকে গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়া পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ নিয়ে রাজধানী ঢাকা নয়, গোটা দেশজুড়ে চালঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অপরাধীদের পাকড়াও করতে মাঠে নামে গোয়েন্দারা।

ক্ষমতার মসনদে স্বৈরাচার এইচ এম এরশাদ। এরশাদের মন্ত্রী সভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান। সিদ্ধেশ^রীতে তার শশুড় বাড়ি। জানা যায় মাহমুদুল হাসানের সম্বন্ধী রেজাউল হকের ছেলে মারুফ রেজা।

৩৪ বছর পর বুধবার (১৩ মার্চ) সোগেরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রায়ে আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন।

হত্যাকাণ্ডের পর পরই মারুফ রেজার নাম নিয়ে কানাঘুষা চলে আসছিলো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা চাপা পড়ে যায়। সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলাটি তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে আলোচিত মামলা।

হাত বদল হয়ে অবশেষে চাঞ্চল্যকর সর্গিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার তদন্ত যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে।

২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সগিরার কাজের মেয়েকে মারধর করেন আসামি ডা. হাসান আলী চৌধুরী। এ নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে সগিরাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন শাহীন। আসামিরা নিজেদের বাসায় বসে সগিরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ডা. হাসান আলী তার চেম্বারে বসে আসামি মারুফ রেজার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করেন এবং ১৫ হাজার টাকা দেন হাসান আলী। ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা থাকলেও তা আর দেননি।

২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত সগিরা মোর্শেদের ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ৩১ বছর পর এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

এরপর ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি মামলার বাদী ও সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যদিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সগিরার ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন ও অপর আসামি মন্টু মোরলকে খালাস দিয়েছেন আদালত।