অসামাজিক কর্মকাণ্ড, কিশোরীকে সৎ বাবা নিজেই হত্যা করেন
- আপডেট সময় : ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর মাধবদীতে সৎ বাবার কাছ থেকে কিশোরী মেয়েকে ছিনিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার রহস্য উৎঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত’ হয়ে সৎ বাবা আশরাফ আলী একাই কিশোরী মেয়েকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এ ছাড়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরা ও হযরত আলী।
গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকার সূত্র ধরে নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা (২৮) শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। অপরদিকে আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার কিশোরী হত্যার ১০/১২ দিন আগে (১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা) হযরত আলীর বাড়িতে কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, কিশোরীর সৎ বাবা আশরাফ আলী (৪৫) তার মেয়েকে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আশরাফ একাই কিশোরীকে হত্যা করে। পরে পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তিনি হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
সৎ বাবা আশরাফ আলী তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, সৎ মেয়ের (ভিকটিম) বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করেছে।
চাঞ্চল্যকর কিশোরী হত্যার মূল আসামী সৎ বাবা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে মো. আশরাফ আলীসহ প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা ও চারজন ধর্ষকসহ এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নরসিংদীর মাধবদী থানার কোতয়ালীরচর এলাকার শাহজাহানের ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিন এর ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), হান্নান মুন্সির ছেলে হযরত আলী (৪০), একই এলাকার গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫) ও তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), মৃত শাহজাহান এর ছেলে ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০) ও নিহতের সৎ বাবা মো. আশরাফ আলী (৪০)।















