আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখল, অভিযোগ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ৫৫ বার পড়া হয়েছে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আদালতের চলমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া ষোলদানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাচার নামে রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি দখল করে সেখানে রাতারাতি ঘর নির্মাণ করেছে ভাতিজারা। এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজেদের অধিকার হারিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ষোলদানা হাজী বাড়ির মৃত মফিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবুল কাশেমের পাঁচ শতক জমি নিয়ে বড় ভাইয়ের তিন ছেলে আজিজ, মাইনদ্দিন ও মহিউদ্দিনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযুক্তরা আইন-কানুন উপেক্ষা করে ওই জমিতে জোরপূর্বক একটি স্থায়ী টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক মো. আবুল কাশেম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। জমি দখলের খবর পেয়ে তিনি পরদিন সকালেই গ্রামে ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের জমিতে ঘর নির্মাণ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে সম্পত্তি সুষমভাবে বণ্টন হয়েছে। এই পাঁচ শতক জমি আমার নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত। আমি ঢাকায় ব্যবসা করি বলে বাড়িতে কম থাকি, সেই সুযোগে আমার ভাতিজারা জোরপূর্বক জমি দখল করেছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তারা আইনকে অমান্য করেছে।”
অভিযুক্ত পক্ষ দখলের বিষয়টি অস্বীকার না করে দাবি করেছে, জমিটি তাদের প্রাপ্য অংশ। তাদের ভাষ্য, পৈত্রিক সম্পত্তির বণ্টন তাদের কাছে সন্তোষজনক হয়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং নথিপত্র অনুযায়ী জমিটি আবুল কাশেমেরই।
এলাকাবাসীর অনেকে মনে করছেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এমনভাবে জমি দখল ক্ষমতার অপব্যবহারেরই উদাহরণ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল কাশেম প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আইনগতভাবে জমি পুনরুদ্ধার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।



















