আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বিএনপি নেতার হুমকি, স্বাক্ষীকে মারধর
- আপডেট সময় : ১১৪ বার পড়া হয়েছে
বরগুনার তালতলীতে মাদ্রাসায় অফিস সহকারী নিয়োগে ডিজির প্রতিনিধি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া নিয়োগের ঘটনায় আওয়ামী নেতা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রধান স্বাক্ষীকে অবরুদ্ধ করে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বাধ্য চেষ্টা, এবং স্বাক্ষীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লিটন মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতার শাস্তি দাবি করছেন সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, ভূয়া নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারী ছিদ্দিকুর রহমান এবং নিয়োগ বোর্ডে জড়িত কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাহবুবুল আলম নাসির, ছোটবগী কমডেকা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রাজ্জাক ওরফে রাজা, তালতলী ছালেহিলা ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাও. হারুন অর রশিদকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করে কড়ইবাড়িয়া এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য ইউসুফ আকন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেয়। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৪ সপ্তাহের জামিনে আসে আসামিরা। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে হাজির হতে গেলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। ফের হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসে আসামীরা। জামিনে এসে দফায় দফায় মামলা উত্তোলনের জন্য বাদী এবং সাক্ষীদেরকে হুমকি দেয়। গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ টার সময় মামলার প্রধান স্বাক্ষী মাও. জিয়াউল হক জুবায়েরের গাবতলী ফার্মাসিতে গিয়ে আমিনুল ইসলাম লিটন মোল্লা সহ কয়েকজন অনুপ্রবেশ করে মামলা উত্তোলনের জন্য হুমকি দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। প্রধান অভিযুক্ত লিটন মোল্লা তালতলী উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক এবং ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের মৃত রতন মোল্লার ছেলে। ভুক্তভোগী জিয়াউল হক জুবায়ের একই এলাকার মৃত এরশাদুল্লাহ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয়রা বলেন, লিটন মোল্লা নিজেও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে বিগত দিনে কার্যক্রম করেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন।
ভুক্তভোগী জিয়াউল হক বলেন, আমার শ্বশুর ইউসুফ আকন জালিয়াতির অভিযোগে চারজনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছে। আমি ওই মামলায় প্রধান সাক্ষী। উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক লিটন মোল্লা আমার ফার্মেসিতে এসে আওয়ামী নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জালিয়াতি মামলা তুলে নিতে এবং সাক্ষী না দেওয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং শারীরিক টরচারিং করে। আমি এ ঘটনায় ৮ই নভেম্বর সাধারণ ডায়েরি করেছি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লিটন মোল্লা মামলা উত্তোলনের জন্য হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের কথা এড়িয়ে গিয়ে আওয়ামী মিছিলের বিষয়ে বলেন, আমি তো ১০ বছর মেম্বার ছিলাম, মিছিলে ছবি থাকতেই পারে। আমি ছোট থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ্ জালাল থানায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



















