ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

১ ডজনের বেশি অভিযোগ !

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির আবেদন দুদকে।

এ এইচ ইমরান
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের স্লোগানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পর্দার আড়ালে এক মহাদুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাবেক আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে। বিচারক নিয়োগ থেকে শুরু করে সাধারণ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি—সর্বত্রই চলেছে টাকার খেলা। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া ডজনের বেশি অভিযোগের নথিতে উঠে এসেছে ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ‘পদায়ন বাণিজ্যের’ এক বীভৎস চিত্র।
আট মাসে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন।
গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) দুর্নীত দমন কমিশনে (দুদক) এ আবেদন করা হয়। বিষয়টি ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাস আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি এমন অভিযোগও তুলেন আবেদনকারী আইনজীবী।
এছাড়াও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পদে বদল পদায়নে নীতিমালার ‘তোয়াক্কা করা হয়নি।
ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত অভিযোগে এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রকাশ্য লুটপাট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন, অর্থপাচার, অন্যান্য দুর্নীতিসহ এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দুদক এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, জীবনে কখনও কোনো দুর্নীতি করেননি। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে তার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তফসিল ঘোষণার দিন আগের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পান।
এ দায়িত্বে আসার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই শিক্ষক। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি থাকা এবং উপদেষ্টা থাকাকালে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ বানিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘দুদকে যেকোনো অভিযোগ এলে তা যাচাই-বাছাই কমিটি দ্বারা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের শেষে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। ’
নাম প্রকাশে অচ্ছুিক দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউ নেশনকে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে।
এক ডজনের বেশি দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দুদকে জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা পেলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে তাকে।
এর মধ্যে রয়েছে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই ও বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। ছোট বোন তার বিরুদ্ধে মামলা করে। পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিনেও বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে আসিফ নজরুল ক্ষমতার ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন বাণিজ্য করেন।
আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সাব রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। আবার তাঁর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও জমা পড়েছে দুদকে।
এসব বিষয়ে বুধবার ফেসবুকে এর জবাব দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে খবর ছড়ানো হয় তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার। তার পরিবার সেখানে চলে গেছে এবং তিনিও শিগগির সেখানে চলে যাবেন।
তিনি লেখেন, অনেক মানুষ সেই ভিডিও দেখেছেন এবং কেউ কেউ তা বিশ্বাসও করতে শুরু করেন।
এ নিয়ে ইউটিউবে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকলে সেটির প্রমাণ দেখাতে তখন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বলে এদিনের ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, ‘আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। সেই চ্যালেঞ্জ দেয়ার পর প্রায় আট মাস কেটে গেলেও কেউ তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকার কোনো ঠিকানা, দলিল বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।’
তবে লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেতে সহায়তা করেছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান আনার কথাও বলেন।
তথাকথিত ‘সুশীল’ ইমেজের আড়ালে ড. আসিফ নজরুল রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোকে যেভাবে অর্থ উপার্জনের কারখানায় পরিণত করেছেন, তা বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক চরম চপেটাঘাত।
দুদক যদি প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্ত সম্পন্ন করে, তবে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রভাবশালী উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হওয়া সবচেয়ে বড় দুর্নীতির বিচার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

১ ডজনের বেশি অভিযোগ !

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির আবেদন দুদকে।

আপডেট সময় :

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের স্লোগানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পর্দার আড়ালে এক মহাদুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাবেক আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে। বিচারক নিয়োগ থেকে শুরু করে সাধারণ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি—সর্বত্রই চলেছে টাকার খেলা। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া ডজনের বেশি অভিযোগের নথিতে উঠে এসেছে ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ‘পদায়ন বাণিজ্যের’ এক বীভৎস চিত্র।
আট মাসে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন।
গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) দুর্নীত দমন কমিশনে (দুদক) এ আবেদন করা হয়। বিষয়টি ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, একটি দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাস আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি এমন অভিযোগও তুলেন আবেদনকারী আইনজীবী।
এছাড়াও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পদে বদল পদায়নে নীতিমালার ‘তোয়াক্কা করা হয়নি।
ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত অভিযোগে এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রকাশ্য লুটপাট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন, অর্থপাচার, অন্যান্য দুর্নীতিসহ এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে দুদক এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, জীবনে কখনও কোনো দুর্নীতি করেননি। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে তার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্বে আসা অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তফসিল ঘোষণার দিন আগের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পান।
এ দায়িত্বে আসার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই শিক্ষক। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি থাকা এবং উপদেষ্টা থাকাকালে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ বানিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘দুদকে যেকোনো অভিযোগ এলে তা যাচাই-বাছাই কমিটি দ্বারা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের শেষে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। ’
নাম প্রকাশে অচ্ছুিক দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউ নেশনকে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে।
এক ডজনের বেশি দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দুদকে জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা পেলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে তাকে।
এর মধ্যে রয়েছে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই ও বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। ছোট বোন তার বিরুদ্ধে মামলা করে। পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিনেও বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে আসিফ নজরুল ক্ষমতার ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন বাণিজ্য করেন।
আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সাব রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। আবার তাঁর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও জমা পড়েছে দুদকে।
এসব বিষয়ে বুধবার ফেসবুকে এর জবাব দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে খবর ছড়ানো হয় তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার। তার পরিবার সেখানে চলে গেছে এবং তিনিও শিগগির সেখানে চলে যাবেন।
তিনি লেখেন, অনেক মানুষ সেই ভিডিও দেখেছেন এবং কেউ কেউ তা বিশ্বাসও করতে শুরু করেন।
এ নিয়ে ইউটিউবে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকলে সেটির প্রমাণ দেখাতে তখন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বলে এদিনের ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, ‘আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। সেই চ্যালেঞ্জ দেয়ার পর প্রায় আট মাস কেটে গেলেও কেউ তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকার কোনো ঠিকানা, দলিল বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।’
তবে লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেতে সহায়তা করেছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান আনার কথাও বলেন।
তথাকথিত ‘সুশীল’ ইমেজের আড়ালে ড. আসিফ নজরুল রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোকে যেভাবে অর্থ উপার্জনের কারখানায় পরিণত করেছেন, তা বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক চরম চপেটাঘাত।
দুদক যদি প্রভাবমুক্ত থেকে তদন্ত সম্পন্ন করে, তবে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রভাবশালী উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হওয়া সবচেয়ে বড় দুর্নীতির বিচার।