এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কীভাবে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে
- আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষকতার পাশাপাশি নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা রাজশাহী জেলার ২৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), রাজশাহী অঞ্চল।
গত ১১ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন স্পষ্ট নির্দেশনা দেন, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা আর্থিকভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। বিশেষ করে নীতিমালার ধারা ১১.১৭ (ক)-এ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৯ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত থেকে নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তারা নিয়ম ভঙ্গ করে একাধিক আর্থিকভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলার জয়রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং কাকনহাট পৌরসভার নিকাহ্ রেজিস্ট্রার রেজোয়ানুর রহমান মতিন বলেন, আমরা ২০০২ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসছি। ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছি। আগামী ৩০ এপ্রিল আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে মাউশি অধিদপ্তরে জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মোহনপুর উপজেলার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক ও নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমল কুমার পাল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সমিতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রীর এমন নির্দেশনার ব্যাপারে মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, ২০ এপ্রিল তাদের জবাব দেওয়া কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জবাব দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত জবাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিক বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো আমার কাছে আসেনি। বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।













