ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

এমপি আমিজ খুন : হাড়-মাংসে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে ভারতের কলকাতায় খুনের পর শরীর খন্ড খন্ডের পর হাড় ও মাংস আলাদা করে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয় হয়। এসব খন্ড বা মাংস কোথায় ফেলা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার অভিযোগে এক সুন্দরী তরুণীসহ তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকার গোয়েন্দা সদর কার্যালয়ে এমন লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন ঢাকার গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। জানান, এমপি আজিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় প্রায় মাস তিনেক আগে। তারা পরিকল্পনা করেছিল ঢাকায় হত্যা করবে।

কিন্তু মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামানের ঢাকার দুই বাসায় পৃথক মিটিং করে কলকাতায় গত ২৫ এপ্রিল একটি বাসা ভাড়া নেয়। তারা ৩০ এপ্রিল বাসায় ওঠে। যিনি হত্যার পরিকল্পনা করেছেন তিনি ও আরেকজনসহ মোট তিনজন বিমানযোগে কলকাতার ভাড়া বাসায় পৌছান। হত্যাকারীরা দুই মাস ধরে খেয়াল রাখছিল কখন এমপি আজিমকে কলকাতা আনা সম্ভব হবে। ১২ মে আজিমের বন্ধু গোপালের বাসায় যান। সেখানে জিহাদ ও সিয়াম দুজনকে হায়ার করা হয়। তারা বাসায় আসা-যাওয়া করবে। মাস্টারমাইন্ড গাড়ি, কাকে কত টাকা দিতে হবে, কারা কারা হত্যাকান্ডে অংশ নেবে, কার দায়িত্ব কী হবে তা সবই ঠিক করে দেয়।

এদিকে আনোয়ারুল আজিম নৃশংস হত্যার ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় পুলিশের একটি দল। ভারতীয় পুলিশের বিশেষ দলটি বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছবেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়। বাংলাদেশে আসার পর তারা কোথায় যাবেন বা কী করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আজিমের মরদেহ পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা কাটছে না কলকাতা পুলিশের। ধারণা, আজিমকে সঞ্জীভা গার্ডেনে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এরমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ। কলকাতায় খুন হলেও, তার হত্যাকারীরা বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ, গত ১২ মে ভারতের কলকাতায় যাওয়ার পর দিন ১৪ মে থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের এই সংসদ সদস্য। চিকিৎসার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর আনার ১২ মে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে কলকাতা যান। কলকাতায় তিনি উঠেছিলেন দীর্ঘদিনের পরিচিত বরানগরে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে।

দুইদিন সেখানে থাকার পর ১৪ তারিখ তিনি গোপালকে জানান, বিশেষ প্রয়োজনে তিনি বের হচ্ছেন, আজই ফিরে আসবেন। তবে তার পরদিনও আজিমের না ফেরায় গোপাল নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গত বুধবার সকালের দিকে তার খুনের খবর সামনে আসে। জানা যায়, কলকাতার কাছেই নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনের (ব্লক ৫৬ বিইউ) একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন হন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এমপি আমিজ খুন : হাড়-মাংসে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

 

বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে ভারতের কলকাতায় খুনের পর শরীর খন্ড খন্ডের পর হাড় ও মাংস আলাদা করে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয় হয়। এসব খন্ড বা মাংস কোথায় ফেলা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার অভিযোগে এক সুন্দরী তরুণীসহ তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকার গোয়েন্দা সদর কার্যালয়ে এমন লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন ঢাকার গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। জানান, এমপি আজিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় প্রায় মাস তিনেক আগে। তারা পরিকল্পনা করেছিল ঢাকায় হত্যা করবে।

কিন্তু মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামানের ঢাকার দুই বাসায় পৃথক মিটিং করে কলকাতায় গত ২৫ এপ্রিল একটি বাসা ভাড়া নেয়। তারা ৩০ এপ্রিল বাসায় ওঠে। যিনি হত্যার পরিকল্পনা করেছেন তিনি ও আরেকজনসহ মোট তিনজন বিমানযোগে কলকাতার ভাড়া বাসায় পৌছান। হত্যাকারীরা দুই মাস ধরে খেয়াল রাখছিল কখন এমপি আজিমকে কলকাতা আনা সম্ভব হবে। ১২ মে আজিমের বন্ধু গোপালের বাসায় যান। সেখানে জিহাদ ও সিয়াম দুজনকে হায়ার করা হয়। তারা বাসায় আসা-যাওয়া করবে। মাস্টারমাইন্ড গাড়ি, কাকে কত টাকা দিতে হবে, কারা কারা হত্যাকান্ডে অংশ নেবে, কার দায়িত্ব কী হবে তা সবই ঠিক করে দেয়।

এদিকে আনোয়ারুল আজিম নৃশংস হত্যার ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় পুলিশের একটি দল। ভারতীয় পুলিশের বিশেষ দলটি বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছবেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়। বাংলাদেশে আসার পর তারা কোথায় যাবেন বা কী করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আজিমের মরদেহ পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা কাটছে না কলকাতা পুলিশের। ধারণা, আজিমকে সঞ্জীভা গার্ডেনে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এরমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ। কলকাতায় খুন হলেও, তার হত্যাকারীরা বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ, গত ১২ মে ভারতের কলকাতায় যাওয়ার পর দিন ১৪ মে থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের এই সংসদ সদস্য। চিকিৎসার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর আনার ১২ মে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে কলকাতা যান। কলকাতায় তিনি উঠেছিলেন দীর্ঘদিনের পরিচিত বরানগরে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে।

দুইদিন সেখানে থাকার পর ১৪ তারিখ তিনি গোপালকে জানান, বিশেষ প্রয়োজনে তিনি বের হচ্ছেন, আজই ফিরে আসবেন। তবে তার পরদিনও আজিমের না ফেরায় গোপাল নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গত বুধবার সকালের দিকে তার খুনের খবর সামনে আসে। জানা যায়, কলকাতার কাছেই নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনের (ব্লক ৫৬ বিইউ) একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন হন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম।