কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ২৯ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে পার্টনার কংগ্রেস গত বুধবার ডাল গবেষণা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (বিএআরআই) ঈশ্বরদী পাবনা সেমিনার কক্ষে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি পাবনা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক। পার্টনার কংগ্রেসে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে ঈশ্বরদীর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডুর সঞ্চালনে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নূরে আলম, প্রশিক্ষণ অফিসার সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন প্রমুখ। প্রধান অতিথি বলেন, দেড় যুগ আগেও এদেশে গরীব মানুষ থালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো ভাতের মাড়ের জন্য শখ করে বাড়িতে আমরা বলতাম রুটি খাবো মা। বলতেন রুটি গরীবের খাবার। আমরা ভাত দিয়ে রুটি নিয়ে আসতাম, বাড়িতে কাজের লোক পাওয়া যেতো তিনবেলা খাবার দিলে, আর এখন এদেশে কাজের মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ এদেশে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের মেরুদণ্ড। দেশের আপামর জনতার ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজে জড়িত, তাই একজন কৃষিবিদ বলেছিল বাংলার চাষি শতকরা যদি টানে পিছে বাঁকি ২০ মিলে দেশ গড়া যাবে। যতই চেষ্টা করুক না কেন কৃষক বাদে ২০ ভাগ মানুষ কিছু করতে পারবে না। খাদ্য দিতে পারবে না অন্য উন্নয়ন দূরের কথা। মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। যদি কৃষকরা বসে থাকে। এদেশে করোনাকালীন সময়ে কৃষকরা সাহসের সাথে চাষাবাদ করেছে। তারা একদিনও মুখে মাক্স পড়েনি, স্বাস্থ্য সচেতন ছিলই না বাজার-ঘাট থেকে শুরু করে হাট-বাজার কৃষকরা বুকে সাহস নিয়ে চলাফেরা করেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটি পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর মাটি। পৃথিবীতে এমন কোন ফল ফসল নাই যা বাংলাদেশের মাটিতে ফলে না। কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বাড়লে কৃষকরা লাভবান হবে। উত্তম কৃষি চর্চা করতে হবে। ভাল ফসল উৎপাদন করতে যদি পারি, তাহলে আমাদের পন্য সাদা চামড়ার বিদেশী মানুষ খাওয়া শুরু করবে। নিরাপদ খাবার উৎপাদন করতে পারলে বেশি দামে কৃষকরা বিদেশীদের কাছে ক্রয় করবে। এতে আমার দেশের কৃষকেরা লাভবান হবে। তাই বর্তমান সরকার বড় টার্গেট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এদেশের কৃষকদের সাথে নিয়ে আমরা দেশের উন্নতি করবো।
পুরোনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিকে আরও আধুনিক করা হবে। আমরা সামনে ন্যানো ফার্টিলাইজার নিয়ে আসবো। সেটা ব্যবহারে ৭০ থেকে ৯০% কাজে লাগবে। এখন কৃষক ক্ষেতে সার ব্যবহার করে, এতে ৩০% কাজে লাগে ৭০% লাগে না। আর ৯০% ন্যানো ফার্টিলাইজার কাজে লাগবে। এক বিঘা জমিতে কৃষকদের ১ বস্তুা সার লাগতো, ন্যানো ফার্টিলাইজার লাগবে ৫ কেজি। সেচ পদ্ধতি, কীটনাশক স্পেতেও আধুনিক সব নিয়ম চালু হবে। এতে কৃষকদের চাষাবাদে খরচ কমবে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন জাতের সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ, খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষি-তথ্য ছড়িয়ে দেওয়াসহ প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের টেকসই সহায়তা প্রদান করা এই কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। দেশের কৃষিকে খোরপোষ পর্যায় থেকে বাণিজ্যিকীকরণ, খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু সহনশীল করে তুলতে ‘পার্টনার’ প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, পিএফএস ও নন-পিএফএস কৃষক-কৃষাণী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্টেকহোল্ডার অংশ নেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় পার্টনার কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশ নেন। পাশাপাশি স্টলে উন্নত জাতের ফসল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়।













