গৌরীপুরে নারী সমাবেশে হামলার বিচার দাবি
- আপডেট সময় : ১৫৯ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের নারী সমাবেশে হামলার বিচার , উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান সহ ২৪ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন পালিত হয়েছে।
গতকাল রোববার গৌরীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি সহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পৌর শহরের কালীখলা এলাকায় এই মানববন্ধন পালিত হয়।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, আমরা হিরণ ভাই সহ সকল বহিষ্কৃত নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবি করছি। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় হবে। আমরা আজকের এই কর্মসূচি খেকে ওই মামলার রায়ে শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপির সদস্য মঞ্জরুল হক মঞ্জু বলেন, আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দাবি জানাচ্ছি একটি স্পেশাল টিম করে আপনি গৌরীপুরের ঘটনা তদন্ত করবেন। তদন্তে যদি আমাদের অপরাধ খাকে তাহলে আপনি যে শাস্তি দিবেন আমরা মাথা পেতে নেবো। আর না হয় যারা এই ঘটনায় সম্পৃক্ত আছে তাদেরকে শাস্তি দেন। আমাদের হিরণ ভাই সহ সকলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে মনোনয়ন আমাদেরকে দেন। আমরা এই আসন আপনাকে উপহার দেবো উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সিরাজ বলেন , জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৯ নভেম্বর আমাদের নারী সমাবেশ আয়োজন করা হয়। একই দিনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ্ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনের পক্ষে আরেক সমাবেশ আয়োজন করা হয় এখান থেকে ১ কিলোমিটার দূরে। ওই সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নারী সমাবেশে হামলা করে মঞ্চ ভাঙচুর ও নারীদের আহত করা হয়।ঘটনার পর আমাদের নেতা-কর্মীরা যখন আহত মা- বোনদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ব্যস্ত ও গৌরীপুর বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ সংবাদ সম্মেলনের প্রস্ততি নিচ্ছেন ঠিক তখন আমরা ভর পাই হিরণ ভাই সহ ৫জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যা অবিচার হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার, মাহমুদুল ওয়াহাব মনি, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ, সাবেক ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া, সহনাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
জানা গেছে, ১৪৭ ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন আসনটির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের অনুসারীরা।৯ নভেম্বর মনোনয়ন বিরোধকে কেন্দ্র করে ইকবাল হোসেইন ও আহাম্মদ তায়েবুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা-ভাঙচুর ও উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলের অভ্যন্তরে হাঙ্গামা, সহিংসতা, রক্তপাত সহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য মনোনয়ন বঞ্চিত গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম খোকন, সদস্য মাসুদ পারভেজ কার্জন, গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সুজিত কুমার দাস ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান পলাশ সহ পাঁচ জনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ সহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১০ নভেম্বর (সোমবার) রাতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন তালুকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গৌরীপুর ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের ১৯ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।
গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন নারী সমাবেশে হামলার ঘটনায় কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















