ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo পঞ্চগড়ে দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, হাতে মিলল চিরকুট Logo কাঁঠালিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করে যাবে: ত্রাণমন্ত্রী Logo শ্রীপুরে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo আগামীকাল কুড়িগ্রামে এনসিপির কৃষক সমাবেশে যোগ দেবেন নাহিদ ইসলাম Logo ৭৩ বছর পর ছোনকা বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন Logo নগরকান্দায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার, স্বস্তি এলাকাবাসীর Logo দলিল লেখক মিন্টু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন Logo ঈশ্বরদীতে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে ৮০ জনের ছানি অপারেশন

জেষ্ঠ্যদের টপকিয়ে রাসিকের প্রশাসক রিটন

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ১২৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকল আলোচনা-সমালোচনা উর্ধ্বে রেখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। এটি স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের মত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে কোন সমালোচনা ছিলনা, ছিলনা তেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রিটনের। তাই দলের অনেক জৈষ্ঠ্য নেতাকে পেছনে ফেলে মাত্র ৪৮ বছর বয়সেই রাজশাহীর মাহফুজুর রহমান রিটন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ এই নেতা নতুন প্রজন্মের (তরুণরা) মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রিটনের প্রশাসক হওয়ার খবর পেয়ে উপশহর এলাকায় জনগণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছে তরুণরা।
মাহফুজুর রহমান রিটন ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী শহরের হেতমখাঁ এলাকায় বসবাস করছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি (অনার্স)। দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তিনবার কারাবরণও করতে হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ১৯৯৫-৯৬ সেশনে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নকালে ক্লাস কমিটির সভাপতি হিসেবে রিটনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে তিনি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
ছাত্রদলের রাজনীতি শেষে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৬ সালে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৭ সালে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হন এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরপর ২০২৫ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকাকালেই তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও নগরপিতা হওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। প্রশাসক পদে আলোচনায় ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা এবং আবুল কালাম আজাদ সুইটও।
তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে চমকে দিয়ে কম বয়সী এই রাজনীতিককেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন, রাসিকের মত এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বায়িত্ব পালন করতে পারবে কি রিটন? তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে রিটন সঠিকভাবে নগর প্রশাসন পরিচালনা করবেন বলে আশাবাদি নগরবাসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জেষ্ঠ্যদের টপকিয়ে রাসিকের প্রশাসক রিটন

আপডেট সময় :

সকল আলোচনা-সমালোচনা উর্ধ্বে রেখে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। এটি স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের মত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে কোন সমালোচনা ছিলনা, ছিলনা তেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রিটনের। তাই দলের অনেক জৈষ্ঠ্য নেতাকে পেছনে ফেলে মাত্র ৪৮ বছর বয়সেই রাজশাহীর মাহফুজুর রহমান রিটন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ এই নেতা নতুন প্রজন্মের (তরুণরা) মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রিটনের প্রশাসক হওয়ার খবর পেয়ে উপশহর এলাকায় জনগণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছে তরুণরা।
মাহফুজুর রহমান রিটন ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী শহরের হেতমখাঁ এলাকায় বসবাস করছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি (অনার্স)। দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তিনবার কারাবরণও করতে হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ১৯৯৫-৯৬ সেশনে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নকালে ক্লাস কমিটির সভাপতি হিসেবে রিটনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে তিনি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
ছাত্রদলের রাজনীতি শেষে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৬ সালে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৭ সালে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হন এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরপর ২০২৫ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতি থাকাকালেই তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও নগরপিতা হওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। প্রশাসক পদে আলোচনায় ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা এবং আবুল কালাম আজাদ সুইটও।
তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে চমকে দিয়ে কম বয়সী এই রাজনীতিককেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন, রাসিকের মত এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বায়িত্ব পালন করতে পারবে কি রিটন? তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে রিটন সঠিকভাবে নগর প্রশাসন পরিচালনা করবেন বলে আশাবাদি নগরবাসি।