ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo পঞ্চগড়ে দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, হাতে মিলল চিরকুট Logo কাঁঠালিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করে যাবে: ত্রাণমন্ত্রী Logo শ্রীপুরে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo আগামীকাল কুড়িগ্রামে এনসিপির কৃষক সমাবেশে যোগ দেবেন নাহিদ ইসলাম Logo ৭৩ বছর পর ছোনকা বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন Logo নগরকান্দায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার, স্বস্তি এলাকাবাসীর Logo দলিল লেখক মিন্টু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন Logo ঈশ্বরদীতে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে ৮০ জনের ছানি অপারেশন

টেকনাফের ১৭ মামলার পলাতক আসামি ফরিদ আটক, জনমনে স্বস্তি

এস.এম.হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ১৩৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই হত্যা, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য আলোচিত। এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সন্ত্রাসী, মব সৃষ্টিকারী ও মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনায় নড়েচড়ে বসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো।এতদিন প্রভাবশালী অপরাধীরা রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আইনকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আবারো টেকনাফের অপরাধ ডন ফরিদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫ অভিযানে চালায়।
গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় র‍্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭টি মামলার পলাতক আসামি মোঃ ফরিদুল আলম (৪০) ওরফে মেহেদী হাসান ও ফরিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অপরাধ জগতের ডান ফরিদ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া গ্রামের সিদ্দিক আহমদের ছেলে।
টেকনাফের কয়েকজন সংবাদকর্মী ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলার আসামি ফরিদুল আলম আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব সদস্যরা জানতে পারেন যে তিনি নাজিরপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন।এই তথ্যের ভিত্তিতে ১১ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া এলাকার একটি খেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হামলার মুখেও অভিযান সফল তবে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ধৃত আসামির নির্দেশে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক র‍্যাব সদস্যদের ওপর লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।
এই হামলায় ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন র‍্যাব সদস্য আহত হন। এছাড়া অভিযানে ব্যবহৃত একটি সরকারি মোটরসাইকেল এবং একটি বেসরকারি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
হামলার মুখেও র‍্যাব সদস্যরা ধৃত আসামিকে নিরাপদে আটক করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্হানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, ফরিদুল আলম টেকনাফ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, মানিলন্ডারিং, সরকারি কাজে বাধা এবং মারামারিসহ মোট ১৭টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, নাজিরপাড়া এলাকায় তিনি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়দাতা ও প্রভাবশালী গডফাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় অপরাধী চক্র সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
র‍্যাব-১৫ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তারকৃত ফরিদুল আলমকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এমন অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বহু পলাতক আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টেকনাফের ১৭ মামলার পলাতক আসামি ফরিদ আটক, জনমনে স্বস্তি

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই হত্যা, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য আলোচিত। এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সন্ত্রাসী, মব সৃষ্টিকারী ও মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনায় নড়েচড়ে বসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো।এতদিন প্রভাবশালী অপরাধীরা রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আইনকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আবারো টেকনাফের অপরাধ ডন ফরিদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় টেকনাফ সীমান্ত উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫ অভিযানে চালায়।
গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় র‍্যাব-১৫ এর টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭টি মামলার পলাতক আসামি মোঃ ফরিদুল আলম (৪০) ওরফে মেহেদী হাসান ও ফরিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অপরাধ জগতের ডান ফরিদ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া গ্রামের সিদ্দিক আহমদের ছেলে।
টেকনাফের কয়েকজন সংবাদকর্মী ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলার আসামি ফরিদুল আলম আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব সদস্যরা জানতে পারেন যে তিনি নাজিরপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন।এই তথ্যের ভিত্তিতে ১১ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপাড়া এলাকার একটি খেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হামলার মুখেও অভিযান সফল তবে গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ধৃত আসামির নির্দেশে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক র‍্যাব সদস্যদের ওপর লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।
এই হামলায় ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন র‍্যাব সদস্য আহত হন। এছাড়া অভিযানে ব্যবহৃত একটি সরকারি মোটরসাইকেল এবং একটি বেসরকারি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
হামলার মুখেও র‍্যাব সদস্যরা ধৃত আসামিকে নিরাপদে আটক করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্হানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, ফরিদুল আলম টেকনাফ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, মানিলন্ডারিং, সরকারি কাজে বাধা এবং মারামারিসহ মোট ১৭টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, নাজিরপাড়া এলাকায় তিনি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়দাতা ও প্রভাবশালী গডফাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় অপরাধী চক্র সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
র‍্যাব-১৫ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তারকৃত ফরিদুল আলমকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এমন অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। র‍্যাবের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বহু পলাতক আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।