ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দাগনভূঞায় জনপদের পর জনপদ গিলে খাচ্ছে নদী, ভাঙনে দিশেহারা বাসিন্দারা

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা (ফেনী)
  • আপডেট সময় : ২৮৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফেনীর দাগনভূঞার নদী তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই একের পর এক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং রাস্তাঘাট গিলে খাচ্ছে ছোট ফেনী নদী। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার শত শত পরিবার। চোখের সামনে রাস্তাঘাট ও ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।বিগত কয়েক বছর ধরে এই ভাঙন চললেও এ বছর তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দাগনভুঞার মাতূভুঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের বাগেরহাট নামক স্থানে ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে ছপর আলী ভূঁইয়া বাড়ির রাস্তাটি নদীর ভাটার তোড়ে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। যার ফলে উক্ত রাস্তায় চলাচলকারীরা মহাদূর্ভোগে পড়েছেন। আশু পদক্ষেপ গ্রহন না করলে পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের বেকের বাজার টু বটতলা বাজার সড়কের কাজী বাড়ির দরজার মাথায় প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বহু বছর আগে থেকে পাকা। এ রাস্তা দিয়েই হাজারো মানুষের যাতায়াত। সড়কটির আকবর ফকির বাড়ি ও কাজী বাড়ীর মাঝামাঝি স্থানে কাটাখালী নদীর পাশের অংশটি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এ সড়কে যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মানুষ মহাবিপাকে পড়ছেন। এ ছাড়া দাগনভূঞা সদর ইউনিয়নের তালতলী গ্রামে নদী ভাঙনের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে পাশে থাকা মিয়াজীর ঘাট ব্রীজ ঝুঁকি তে রয়েছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনে একাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে স্কুল, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকে পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সামনে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ছপর আলী ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন নয়া দিগন্ত কে জানান, আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার কারনে আমরা চলাচল করতে পারছি না। সরকারের কাছে জোর দাবী করছি যাতে নদী ভাঙনের কবল থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক মিজানুর রহমান নয়া দিগন্ত কে বলেন, উত্তর আলীপুরের বাগের হাট এলাকার নদী ভাঙন রোধ করা না গেলে বিস্তীর্ন অঞ্চল নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এ ছাড়া মোমারিজপুর সড়কটি দ্রুত মেরামত করে জনগণের চলাচল উপযোগি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড় কে জানানো হয়েছে কিন্তু মেরামতে কোন লক্ষ্মণ দেখছিনা।দ্রুত সংস্কার না করলে পাশ্ববর্তি জমিও নদী-গর্ভে চলে যাবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ হাসান নয়া দিগন্ত কে জানান, আমরা ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দাগনভূঞায় জনপদের পর জনপদ গিলে খাচ্ছে নদী, ভাঙনে দিশেহারা বাসিন্দারা

আপডেট সময় :

ফেনীর দাগনভূঞার নদী তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই একের পর এক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং রাস্তাঘাট গিলে খাচ্ছে ছোট ফেনী নদী। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার শত শত পরিবার। চোখের সামনে রাস্তাঘাট ও ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।বিগত কয়েক বছর ধরে এই ভাঙন চললেও এ বছর তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দাগনভুঞার মাতূভুঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের বাগেরহাট নামক স্থানে ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে ছপর আলী ভূঁইয়া বাড়ির রাস্তাটি নদীর ভাটার তোড়ে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। যার ফলে উক্ত রাস্তায় চলাচলকারীরা মহাদূর্ভোগে পড়েছেন। আশু পদক্ষেপ গ্রহন না করলে পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের বেকের বাজার টু বটতলা বাজার সড়কের কাজী বাড়ির দরজার মাথায় প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বহু বছর আগে থেকে পাকা। এ রাস্তা দিয়েই হাজারো মানুষের যাতায়াত। সড়কটির আকবর ফকির বাড়ি ও কাজী বাড়ীর মাঝামাঝি স্থানে কাটাখালী নদীর পাশের অংশটি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এ সড়কে যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মানুষ মহাবিপাকে পড়ছেন। এ ছাড়া দাগনভূঞা সদর ইউনিয়নের তালতলী গ্রামে নদী ভাঙনের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে পাশে থাকা মিয়াজীর ঘাট ব্রীজ ঝুঁকি তে রয়েছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনে একাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে স্কুল, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকে পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সামনে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ছপর আলী ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন নয়া দিগন্ত কে জানান, আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার কারনে আমরা চলাচল করতে পারছি না। সরকারের কাছে জোর দাবী করছি যাতে নদী ভাঙনের কবল থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক মিজানুর রহমান নয়া দিগন্ত কে বলেন, উত্তর আলীপুরের বাগের হাট এলাকার নদী ভাঙন রোধ করা না গেলে বিস্তীর্ন অঞ্চল নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এ ছাড়া মোমারিজপুর সড়কটি দ্রুত মেরামত করে জনগণের চলাচল উপযোগি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড় কে জানানো হয়েছে কিন্তু মেরামতে কোন লক্ষ্মণ দেখছিনা।দ্রুত সংস্কার না করলে পাশ্ববর্তি জমিও নদী-গর্ভে চলে যাবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ হাসান নয়া দিগন্ত কে জানান, আমরা ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।