দাগনভূঞা বিএনপির বিজয় মিছিলে অতর্কিত হামলার আহত ১৫
- আপডেট সময় : ২২৯ বার পড়া হয়েছে
কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসাবে দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেনের নেতৃত্বে বিজয় র্যালিতে কাজী স্বপন গ্রুপের অতর্কিত হামলার অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন।
৫গতকাল মঙ্গলবার ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যাওয়া ও গনঅভ্যুত্থানের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি একটি বিজয় মিছিল বের করে, মিছিলটি দাগনভূঞা পৌরসভা পদক্ষিন করে যখন আহবায়ক আকবর হোসেনের বাড়ির দিকে রওয়ানা হয় তখন পিছন থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী মিছিলে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আহত হয় অন্তত ১৫ জন।
এই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন মিছিল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ঘোষনা অনুযায়ী সকাল ১০ টায় শান্তি পূর্ন ভাবে বিজয় মিছিল নিয়ে বাজার পদক্ষিন করে ফিরে আসার সময় সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপনের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
তাদের অতর্কিত এ হামলায় উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জাহান আরা বেগম, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইমুন হক রাজীব, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক, ইঞ্জিনিয়ার সহেল ও সরোয়ারসহ ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন বাংলাদেশে বিএনপি ও নির্বাচন নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে তারই অংশ হিসাবে বহিস্কৃত কিছু বিএনপি নামধারী নেতা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পূনর্বাসন করে এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। ইচ্ছে করলে তাদের ৬০ থেকে ৭০ জনের বিরুদ্ধে আমরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতাম কিন্তু আমরা বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনীতি করি তাই আমি আমার নেতা কর্মিদের যে কোন উস্কানিতে শান্ত থাকার আহবান জানাই।
বাজারের এজন ব্যবসায়ী বলেন, আকবর হোসেনের নেতৃত্বে বিজয় মিছিল বাজার পদক্ষিন করে চলে যাওয়ার সময় মিছিলের পিছনে অতর্কিত হামলা করা হয়। মহুর্তের মধ্যে বাজারে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাথে সাথে বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।
বিএনপির বিজয় র্যালীতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিরোপয়েন্টে রক্তদান কর্মসুচি পালন করছি। এসময় তারা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মিছিল থেকে তাদের কিছু নেতাকর্মী আমাদের কটাক্ষ করে মন্তব্য করে। তখন আমাদের সাথে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা তা নিভৃত করি। আমাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে এ অভিযোগটি সত্য নই। বরং তাদের হামলায় আমাদের বেলাল, সিফাত, মিলনসহ ৫/৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
সাবেক রামনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বাহাদূর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আকবর হোসেন কে দায়ী করে বলেন, এটা অভিভাবক হিসাবে ওনার ব্যার্থতা, গত কাল রাত থেকে আজকের অনুষ্ঠানের বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি বাজারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উভয়কে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমন্বয় করে যে কোন কর্মসূচি পালন করার অনুরোধ করেন। কিন্তু দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির অভিভাবক হিসাবে তিনি আমাদের সাথে কোন সমন্বয় না করাতে আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য কমিটি ঘোষণা কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন থেকে দাগনভূঞা বিএনপির রাজনীতি মূলত ২ ভাগে বিভক্ত। এর আগেও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন যত বারই কোন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেছেন ততবারই ২য় বা পদ বঞ্চিত বিদ্রোহী গ্রুপের বাধার মুখে পড়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন। এই নিয়ে জাতীয় টিভি চ্যানেল ও জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় অনেক সংবাদ প্রচার হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, হামলার ঘটনার পর বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে। যে কোন পক্ষ আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যাবস্থা গ্রহন করবে।




















