ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হাবিপ্রবিতে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল এনালাইসিস, সায়েন্টিফিক পেপার এন্ড থিসিস রাইটিং শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত Logo গর্জনিয়ায় বৃহৎ ইয়াবা চালান উদ্ধার, অধরা মাদক সম্রাট সোহেল Logo মাদক কারবারের প্রতিবাদ, ইউপি উদ্যােক্তার উপর হামলা Logo পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo টুংগীপাড়ায় অসহায় নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিলেন এমপি Logo নবীনগর-রাধিকা সড়কে ট্রাক দুর্ঘটনার স্বীকার Logo হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার Logo ফুলপুরে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসে বিজয়ীদের সংবর্ধনা Logo ‘গডফাদার’ আমিনের ইশারায় চলে পুরো সিন্ডিকেট Logo তালা কেটে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, ভিক্ষুক সেজে দুই চোর গ্রেফতার

দুর্গাপুরে বৃদ্ধাকে মারধর, গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের কাপাসাটিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আম, সুপরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা, বৃদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুন ও ছেলে আবদুল করিমকে মারপিট করার অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. নূর জামাল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোছা. ফাতেমা খাতুন দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বৃদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুন গতকাল বুধবার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগকারী মোছা. ফাতেমা খাতুন দুর্গাপুর উপজেলার কাপাসাটিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হেকিমের স্ত্রী। অন্যদিকে হামলাকারী বিরিশিরি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কাপাসাটিয়া গ্রামের মো. নূর জামাল, সহযোগি একই গ্রামের মো. সোহরাব আলী ও মো. বুলবুল মিয়া। তবে ছাত্রদল নেতা মো. নূর জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাউকে মারধর করা হয়নি। বাজারের সরকারি জায়গা পরিস্কার করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসাটিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হেকিমের স্ত্রী ৭০ বছরের বৃদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের মৃত রোস্তম আলীর ছেলে মো. সোহরাব আলীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মো. সোহরাব আলী, মো. নূর জামাল, মো. বুলবুল মিয়া কাপাসাটিয়া বাজারের পাশে বৃদ্ধার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফাতেমা খাতুন ও ছেলে আবদুল করিমকে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে আহত করে এবং কলা, আম, সুপারীসহ বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছ কেটে মাটিতে ফেলে দেয় এবং একটি ষাঁড় গরু ও সাবমাজেবল পানির পাম্ব নিয়ে যায়। হামলায় আহত ফাতেমা খাতুনকে এলাকাবাসী দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করে। এ ঘটনায় পরদিন মোছা. ফাতেমা খাতুন হামলাকারী তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু গতকাল বুধবার পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে হামলাকারীরা অভিযোগকারী ও তার ছেলে মেয়েদের নানা ভয়ভিতি ও হুমকি প্রদান করছে। এতে করে অভিযোগকারী, ছেলে- মেয়ে ও এলাকাবাসীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
বৃদ্ধা ফাতেমা খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি আমার সন্তানরা মিলে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি। নূর জামাল ও তার লোকজন আমাদের বসতভিটা থেকে উঠিয়ে দখলের জন্য চেষ্টা করছে। তারা আমারকে ও আমার ছেলেকে মারপিট করে আমার একটি ষাঁড় গরু নিয়ে গেছে। বাড়ির আঙ্গিনায় আম, সুপারী ও বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলেছে। পানির পাম্পটি নিয়ে গেছে। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। একজন পুলিশ এসেছিল।
দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কাপাসাটিয়া গ্রামের মো. নূর জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারো বাড়িতে হামলা- ভাঙচুর করা হয়নি। ফাতেমা খাতুন বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছেন। বাজারটি সরকারিভাবে ডাক হয়েছে। আমি ইজারা পেয়েছি। বাজারের ইজারাকৃত জায়গা পরিস্কার করা হয়েছে। ফাতেমা ও তার লোকজন কিছু গাছপালা কেটে আমাদের বিরুদ্ধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি দেখার জন্য এক অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুর্গাপুরে বৃদ্ধাকে মারধর, গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

আপডেট সময় :

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের কাপাসাটিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আম, সুপরীসহ বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছ কেটে ফেলা, বৃদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুন ও ছেলে আবদুল করিমকে মারপিট করার অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. নূর জামাল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোছা. ফাতেমা খাতুন দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বৃদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুন গতকাল বুধবার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগকারী মোছা. ফাতেমা খাতুন দুর্গাপুর উপজেলার কাপাসাটিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হেকিমের স্ত্রী। অন্যদিকে হামলাকারী বিরিশিরি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কাপাসাটিয়া গ্রামের মো. নূর জামাল, সহযোগি একই গ্রামের মো. সোহরাব আলী ও মো. বুলবুল মিয়া। তবে ছাত্রদল নেতা মো. নূর জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাউকে মারধর করা হয়নি। বাজারের সরকারি জায়গা পরিস্কার করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসাটিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হেকিমের স্ত্রী ৭০ বছরের বৃদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের মৃত রোস্তম আলীর ছেলে মো. সোহরাব আলীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মো. সোহরাব আলী, মো. নূর জামাল, মো. বুলবুল মিয়া কাপাসাটিয়া বাজারের পাশে বৃদ্ধার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফাতেমা খাতুন ও ছেলে আবদুল করিমকে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে আহত করে এবং কলা, আম, সুপারীসহ বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশত গাছ কেটে মাটিতে ফেলে দেয় এবং একটি ষাঁড় গরু ও সাবমাজেবল পানির পাম্ব নিয়ে যায়। হামলায় আহত ফাতেমা খাতুনকে এলাকাবাসী দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করে। এ ঘটনায় পরদিন মোছা. ফাতেমা খাতুন হামলাকারী তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু গতকাল বুধবার পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে হামলাকারীরা অভিযোগকারী ও তার ছেলে মেয়েদের নানা ভয়ভিতি ও হুমকি প্রদান করছে। এতে করে অভিযোগকারী, ছেলে- মেয়ে ও এলাকাবাসীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
বৃদ্ধা ফাতেমা খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি আমার সন্তানরা মিলে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি। নূর জামাল ও তার লোকজন আমাদের বসতভিটা থেকে উঠিয়ে দখলের জন্য চেষ্টা করছে। তারা আমারকে ও আমার ছেলেকে মারপিট করে আমার একটি ষাঁড় গরু নিয়ে গেছে। বাড়ির আঙ্গিনায় আম, সুপারী ও বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলেছে। পানির পাম্পটি নিয়ে গেছে। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। একজন পুলিশ এসেছিল।
দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কাপাসাটিয়া গ্রামের মো. নূর জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারো বাড়িতে হামলা- ভাঙচুর করা হয়নি। ফাতেমা খাতুন বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছেন। বাজারটি সরকারিভাবে ডাক হয়েছে। আমি ইজারা পেয়েছি। বাজারের ইজারাকৃত জায়গা পরিস্কার করা হয়েছে। ফাতেমা ও তার লোকজন কিছু গাছপালা কেটে আমাদের বিরুদ্ধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি দেখার জন্য এক অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।