নরসিংদীতে হত্যা মামলাকে পুঁজি করে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
- আপডেট সময় : ১০২ বার পড়া হয়েছে
হত্যা মামলাকে পুঁজি করে আসামীদের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং চাঁদাবাজীর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এ ঘটনায় একটি গ্রামের ৩০টি পরিবার বর্তমানে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর মধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে। জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রæয়ারি পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের মো: মঙ্গল মিয়ার পুত্র মো: রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনকে আসামী করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলাকে পুঁজি করে বাদী পক্ষের লোকেরা আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে আসামীদের বাড়িঘরে প্রতিনিয়ত হামলা, লুটপাট এবং লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। এ পর্যন্ত ৬টি বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাদী পক্ষের লোকদের অত্যাচার এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে গাজীপুর গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমান উল্লাহ আমানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে অযথা আমাকে দুষারোপ করছে। নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম জানান, আসামীরা আমার স্বামীকে গাছের সাথে বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।
পুরুষ শুণ্য গাজীপুর গ্রামের ভ‚ক্তভোগী জাহানারা বেগম জানান, যারা রফিকুল ইসলামকে হত্যা করেছে তাদের বিচার হউক আমরা চাই। কিন্তু এ গ্রামের নিরহ মানুষ বাদী পক্ষের লোকদের অত্যাচারে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এ সুযোগে তারা আমাদের বাড়িতে প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে এবং লুটপাট করে ঘরু-বাছুরসহ ঘরে থাকা আমাদের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোন দেশে বাস করছি একজন অপরাধ করবে আর এ গ্রামের ৩০টি পরিবারের লোকজন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করবে এটা তো হতে পারেনা। তাই ভ‚ক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃক পক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন যারা প্রকৃত পক্ষে দোষী এবং ঘটনার সাথে জড়িত তাদের উপযুক্ত বিচার উহক। বাকীরা যাতে তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন ভ‚ক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
চর মধুয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আহসান সিকদার বলেন, রাতের আধারে কালো মুখোশ পরে অস্ত্র দেখিয়ে প্রতিদিন রাতেই বিভিন্ন ঘর বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০ বাড়ি ঘরের মালামাল সম্পুর্ন লুটপাট হয়েছে এবং ৫/৬ টি বাড়ি ঘর পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যার ঘটনায় ১৮ জনকে বিবাদী করে মামলা করা হয়েছে এবং আমরা ২ জনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকান্ড ও পরবর্তী সহিংস ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।















