ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চাঁদপুরে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড Logo বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ Logo ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ Logo ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ হেক্টর ফসল, ৩৫ পয়েন্টে নদীভাঙন Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে প্লাস্টিক বর্জন ও বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে Logo নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মসজিদের খতিবের মৃত্যু Logo নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পেছালো Logo নোয়াখালীতে সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং Logo নেত্রকোনায় পৌরশহরের রাস্তায় যানজট, সীমাহীন দুর্ভোগ Logo আদমদীঘিতে কীটনাশক ঔষধের দোকানে দু:সাহসিক চুরি

নাইক্ষ্যংছড়িতে মৃত আনোয়ারুল হকের বাড়ি-ভিটার জমি দখলের অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে মৃত আনোয়ারুল হকের মালিকানাধীন বাড়ি-ভিটার জমি, ব্যবহারের পুকুর ও সেপটিক ট্যাংক রাতের আঁধারে ঘিরে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরিবারের কর্তা মৃত্যুবরণ করার পর ছোট ছোট সন্তানদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ গভীর রাতে আনুমানিক রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ইমরান ও তার ভাই আহমদ রিয়ান, তাদের পিতা আব্দুল গফুর ও মাতা ফাতেমা বেগমের নির্দেশনায় ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী ও মিস্ত্রি নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা টিনের বেড়া রাতের আঁধারে এনে বাড়ি-ভিটার পুকুর এবং ঘরের সেপটিক ট্যাংকিসহ জমির চারপাশে দ্রুত টিন দিয়ে ঘেরা তৈরি করা হয়।
পরিবারটির দাবি, তারা বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই রাতের অন্ধকারে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। রাতের শেষভাগে শব্দ পেয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তখন তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার ডিউটি অফিসার জানান বিষয়টি থানার সেকেন্ড অফিসার দেখছেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি সকাল ১০টার দিকে আসবেন বলে জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে থানার পক্ষ থেকে কেউ ঘটনাস্থলে না আসায় তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, তারা দখলকারীদের কাজের বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্তরা দা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন।
পরিবারটির সদস্যরা জানান, মৃত আনোয়ারুল হকের মৃত্যুর পর পরিবারটি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ সদস্য অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় জমি রক্ষায় কার্যকরভাবে বাধা দিতে পারেননি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে বসতভিটার প্রায় অর্ধেক অংশ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গভীর রাতে কিছু লোকজনকে টিন ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ওই এলাকায় যেতে দেখা গেছে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করে ভোর হওয়ার আগেই চলে যান। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত, প্রকৃত মালিকানা যাচাই, দখলমুক্ত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকায় এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাইক্ষ্যংছড়িতে মৃত আনোয়ারুল হকের বাড়ি-ভিটার জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে মৃত আনোয়ারুল হকের মালিকানাধীন বাড়ি-ভিটার জমি, ব্যবহারের পুকুর ও সেপটিক ট্যাংক রাতের আঁধারে ঘিরে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরিবারের কর্তা মৃত্যুবরণ করার পর ছোট ছোট সন্তানদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ গভীর রাতে আনুমানিক রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ইমরান ও তার ভাই আহমদ রিয়ান, তাদের পিতা আব্দুল গফুর ও মাতা ফাতেমা বেগমের নির্দেশনায় ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী ও মিস্ত্রি নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা টিনের বেড়া রাতের আঁধারে এনে বাড়ি-ভিটার পুকুর এবং ঘরের সেপটিক ট্যাংকিসহ জমির চারপাশে দ্রুত টিন দিয়ে ঘেরা তৈরি করা হয়।
পরিবারটির দাবি, তারা বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই রাতের অন্ধকারে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। রাতের শেষভাগে শব্দ পেয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তখন তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার ডিউটি অফিসার জানান বিষয়টি থানার সেকেন্ড অফিসার দেখছেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি সকাল ১০টার দিকে আসবেন বলে জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে থানার পক্ষ থেকে কেউ ঘটনাস্থলে না আসায় তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানায়, তারা দখলকারীদের কাজের বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্তরা দা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন।
পরিবারটির সদস্যরা জানান, মৃত আনোয়ারুল হকের মৃত্যুর পর পরিবারটি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ সদস্য অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় জমি রক্ষায় কার্যকরভাবে বাধা দিতে পারেননি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে বসতভিটার প্রায় অর্ধেক অংশ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গভীর রাতে কিছু লোকজনকে টিন ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ওই এলাকায় যেতে দেখা গেছে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করে ভোর হওয়ার আগেই চলে যান। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত, প্রকৃত মালিকানা যাচাই, দখলমুক্ত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকায় এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।